Advertisement
E-Paper

আমার সব টাকাই ব্যাঙ্কে

হরিয়ানার গ্রামে এসেছিলেন মহাবীর সিংহ ফোগতের বড় মেয়ের বিয়েতে। সেখানেও আলোচনা পাঁচশো-হাজার নিয়ে। এই প্রথম মুখ খুললেন আমির খান। শুনলেন সায়ন আচার্যশাহরুখ খান? না।সলমন খান? না। তা হলে আমির খানের পছন্দের অভিনেতা কে? তিনি স্বয়ং নাকি? প্রশ্নটা শুনেই মুচকি হাসলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। একবার ঘাড় নাড়ালেন। তার পর কিছুটা ধাঁধার মতোই বললেন দুটো শব্দ। ভিড়ের মধ্যে যা স্পষ্ট শোনা গেল না।

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৬ ০০:০০
‘বাপু’ ও ‘বেটি’: আমিরের সঙ্গে গীতা । ছবি: সায়ন আচার্য

‘বাপু’ ও ‘বেটি’: আমিরের সঙ্গে গীতা । ছবি: সায়ন আচার্য

শাহরুখ খান? না।

সলমন খান? না।

তা হলে আমির খানের পছন্দের অভিনেতা কে? তিনি স্বয়ং নাকি?

প্রশ্নটা শুনেই মুচকি হাসলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। একবার ঘাড় নাড়ালেন। তার পর কিছুটা ধাঁধার মতোই বললেন দুটো শব্দ। ভিড়ের মধ্যে যা স্পষ্ট শোনা গেল না।

হরিয়ানার বলালি গ্রামের ছোট্ট বাড়িটায় তখন দাঁড়ানোর জায়গা নেই। থিকথিকে ভিড়। আশপাশের বাড়ির ছাদগুলো থেকে শোনা যাচ্ছে একটাই শব্দ, ‘আমির খান’!

কুস্তিগির গীতা ফোগতের বিয়েতে তাঁর গ্রামে এসেছেন আমির, আর তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য সব কিছু করতে রাজি গ্রামের উৎসাহী জনতা। কেউ তাঁর দিকে ফুল ছুড়ছেন তো কারও ফোনে বাজছে ‘দঙ্গল’ ছবির গান। উদ্দেশ্য একটাই, যদি একবার আমিরের মুখোমুখি হওয়া যায়!

গৃহকর্তা মহাবীর সিংহ ফোগতের চোখ-মুখে উদ্বেগ। পুলিশের বড় কর্তারাও বুঝতে পারছেন না কী ভাবে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা যায়। অনুরোধ, উপরোধেও কাজ যখন হচ্ছে না, কিছুটা চমকে দিয়েই বাড়ির মূল ফটকের দিকে এগিয়ে গেলেন আমির স্বয়ং।

সাদা কুর্তা-পায়জামা আর লাল পাগড়ি পরা বছর একান্ন-র ভদ্রলোককে এর আগে এত কাছ থেকে দেখেনি গ্রামের জনতা।

মূল ফটক পেরিয়ে গাড়ির দরজা খুলে উঠে দাঁড়ালেন আমির। অপেক্ষারত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লেন, পোজ দিলেন ছবির জন্যও।

এবং, জনতার রাগ ততক্ষণে গলে জল। তাঁকে দেখতে না পেয়ে যে গ্রামবাসীরা এতক্ষণ ক্ষোভে ফুটছিলেন, তারাই ফের শুরু করলেন ‘আমির’ ধ্বনি। গাড়ি থেকে নেমে ফোগত-বাড়িতে আবার ঢোকার আগে, পাশে দাঁড়ানো পরিচালক নীতীশ তিওয়ারিকে আমির বললেন, ‘‘এইটা অমিতাভ বচ্চনের থেকে শেখা। জনতা যত ক্ষণ তোমাকে দেখতে চায়, তোমারও উচিত তাদের সম্মান দেওয়া। ইয়ে হি তরিকা হ্যায়।’’

তার পর মুচকি হেসে আনন্দplus-কে বললেন, ‘‘পছন্দের অভিনেতা কে, উত্তরটা পেয়ে গেছেন তো?’’

এবং, সেই নামটা অমিতাভ বচ্চন!

শাহরুখ, সলমনের সঙ্গে স্ক্রিন স্পেস শেয়ার করেছেন। কিন্তু নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে অমিতাভের সঙ্গে কখনও কাজ করা হয়নি আমিরের। কয়েকটা প্রজেক্ট হচ্ছে-হব করে হয়ে ওঠেনি। ‘‘অমিতজির থেকে আমরা তো কত কী শিখি। তবে, এত দিন ওঁর সঙ্গে কাজ না করার দুঃখটা আছেই,’’ বলছিলেন আমির।

তবে বছরশেষে অবশ্য সেই না-পাওয়া পর্বেরও অবসান ঘটতে চলেছে। বিজয় কৃষ্ণ আচার্য-র পরের ছবি ‘থাগস অব হিন্দোস্তান’য়ে আমিরের সঙ্গে এক পর্দায় দেখা যাবে অমিতাভকে। প্রথম বার!

আপাতত সেটা নিয়েই এক্সসাইটেড আমির। দাড়ি কাটেননি কয়েক মাস। ‘দঙ্গল’ শুরুর আগে যে গোঁফটা রেখেছিলেন, বেড়েছে সেটাও। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এটা নতুন ছবির প্রস্তুতি। সরাসরি স্বীকার না করলেও, আমির নিজেও মানছেন যে, পরের ছবির প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন। ‘‘থাগস অব হিন্দোস্তান’ অন্য রকমের ছবি, যা ‘দঙ্গল’য়ের চেয়ে আলাদা। আপাতত ওটা নিয়েই পড়াশোনা করছি। আফটার অল, অমিতজির সঙ্গে ছবি বলে কথা,’’ মৃদু হেসে বলছিলেন আমির। একটু থেমে যোগ করলেন, ‘‘আই অ্যাম লুকিং ফরওয়ার্ড টু ইট। অমিতজির সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরি করছি...’’

তাঁকে এত কাছাকাছি পেয়ে ফোগত পরিবারের সদস্যদের তখন নানান কৌতূহল। কেউ জানতে চান, বাড়িতে কী করে সময় কাটান আমির, তো কারও প্রশ্ন, ‘‘আপনি আরও বেশি ছবি করেন না কেন?’’

দু’ বছরে একটা ছবি

তাঁকে পর্দায় শেষ বার দেখা গেছে ‘পিকে’তে। তাও বছর দুয়েক আগে।

তার পর, শুধুই শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। অন্য দুই খান যখন প্রতি বছর এক-দুটো ছবি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন, আমিরের সময় কেটেছে গ্রামে গ্রামে ‘দঙ্গল’য়ের শ্যুটিং করে। হাত দেননি অন্য কোনও ছবিতে। তাঁর যুক্তি অবশ্য সহজ। ‘‘একবারে একটা ছবি করলে কনসেনট্রেশনটা ঠিক থাকে,’’ বলছিলেন আমির।

তাই, গীতা-র বিয়েতে সবাই যখন জানতে চান, কেন আরও বেশি ছবি করেন না আমির, তিনি হাসেন শুধু। বাড়ির বয়স্কদের সঙ্গে ‘দাওয়াত’-য়ে বসে বলছিলেন, ‘‘আমি তো এরকমই করি। এত বছর ধরে এটাই করে আসছি তো, তাই অভ্যাস হয়ে গেছে।’’ পরে যোগ করলেন, ‘‘পুরোনো অভ্যাস বদলে কী হবে...’’

আজকাল মুখ খুলতে
ভয় পাই...

এই তিনি গীতা-র সঙ্গে গল্প করছেন, তো পরমুহূর্তেই বিয়ের আয়োজন নিয়ে কথা বলছেন গীতার বাস্তবের ‘বাপু’ মহাবীরের সঙ্গে। তবে, আশেপাশের লোকজন বিতর্কিত প্রশ্ন করলেই কেমন যেন গুটিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে।

‘‘আমার তো সব টাকাই ব্যাঙ্কে থাকে। আর সব কিছুই তো পেমেন্ট করি চেকে’’ গোছের উত্তর দিয়ে পাশ কাটাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী এবং অর্থ-সঙ্কট সম্বন্ধীয় প্রশ্নও। তবে কি এই আমির খান অনেক বেশি সাবধানি?

গত বছর এই সময়েই ‘অসহিষ্ণুতা’ নিয়ে মুখ খুলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তাঁর ও স্ত্রী কিরণের দেশ ছাড়ার মন্তব্য নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়। তার পর থেকে অবশ্য আমির বিতর্ক থেকে দূরেই রেখেছেন নিজেকে।

প্রশ্ন করতেই, সাবধানি আমিরের উত্তর, ‘‘আজকাল মুখ খুলতে ভয় করে। একটা কথা নিয়ে এমন বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়! সেই কারণেই কম কথা বলি।’’

অবশ্য এ ক্ষেত্রে আমিরের নিশানায় সেই মিডিয়াই। ‘‘আপনারা এমন সব প্রশ্ন করেন...,’’ একটু হেসে বলছিলেন। পাশে দাঁড়ানো এক অতিথি হঠাৎ জানতে চাইলেন মোদী-র কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বক্তব্য। মুহূর্তে কথা ঘোরালেন সুপারস্টার। বললেন, ‘‘আরে, বিয়েবাড়িতে আবার এসব কেন?’’

গল্পটা বলতেই হতো...

প্রথমে বলেছিলেন, বিয়েবাড়িতে ‘দঙ্গল’ নিয়ে কোনও কথা বলবেন না। কিন্তু কথা বলতে বলতে বার বার ফিরলেন সেই ‘দঙ্গল’য়েই। মহাবীরের পাশে দাঁড়িয়ে পাগড়ি বাঁধতে বাঁধতে হঠাৎ বললেন, ‘‘মহাবীরজি-র গল্পটা ভীষণ ইনস্পায়ারিং। গীতা যখন দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতল, তখন থেকেই আমরা ঠিক করেছিলাম, এদের গল্পটা দুনিয়াকে জানাবই।’’

তবে ছবির পটভূমি হরিয়ানা হলেও, ‘দঙ্গল’য়ের পুরো শ্যুটটাই হয়েছে পঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামে। যা নিয়ে বিয়েবাড়িতে হাজির কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশও করলেন। অবশ্য আমিরের দাবি, ছবির প্রয়োজনেই লুধিয়ানায় শ্যুট করতে হয়েছিল। ‘‘এ ছাড়া আমাদের কোনও উপায় ছিল না। তবে, লোকেশনের থেকেও ছবিটার মেসেজটা জরুরি। লোকের সেটাই দেখা উচিত,’’ বলছিলেন আমির।

ছবির জন্য কেটেছে বহু বিনিদ্র রজনী। কেউ কেউ তুলনা করছেন ‘লগান’য়ের সঙ্গেও। আমির অবশ্য সেই তুলনায় যেতে রাজি নন। বলছেন, ‘‘দঙ্গল অন্য ধারার ছবি। বিষয় ও পটভূমি সম্পূর্ণ আলাদা।’’

কথা বলতে বলতেই এগিয়ে গেলেন গীতা-র দিকে। বাইরে তখনও কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ‘আমির, আমির’ স্লোগান। তার মাঝেই, ‘মেয়ে’ গীতার হাতে তুলে দিলেন বিয়ের গিফট এবং তত্ত্ব। বললেন, ‘‘এটা তো বাবার কর্তব্য।’’

আসলে এটাই বোধহয় আসল আমির। সুপারস্টারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ‘সাধারণ বাবা’!

Aamir khan Wedding Geeta Phogat Dangal Interview
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy