টলিপাড়ায় সাড়া ফেলেছে ‘বিবি পায়রা’। গানের দৃশ্যায়নে চমক রয়েছে। তেমনই গানের নেপথ্যে যে কণ্ঠ তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে বলিউডে তাঁর গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গান। সেই শিল্পা রায় এ বার কণ্ঠ দিলেন ‘বিবি পায়রা’ ছবির গানে। গানের পরিচালনা করলেন মৈনাক মজুমদার। শিল্পার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করলেন উত্তরবঙ্গের শিল্পী।
শিল্পা রাওয়ের কণ্ঠের মাদকতায় মুগ্ধ মৈনাক। গায়িকার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে সামান্য চিন্তা হচ্ছিল। তার আরও বড় কারণ, গানটি রেকর্ড হয়েছে ‘যশরাজ ফিল্মস’-এর স্টুডিয়োয়। মৈনাকের কথায়, “সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। স্টুডিয়োটার মধ্যেও একটা অদ্ভুত শক্তি রয়েছে। শিল্পার কোনও তুলনা নেই। আনন্দ করে গানটা গেয়েছে ও। রীতিমতো নাচতে নাচতে ও গানটা গেয়েছে। কাজটা করার আগে একটু চাপে ছিলাম। তবে পরে সে সব কেটে যায়।”
গানটি লিখেছেন প্রসেন। গানটি তৈরি হওয়ার পরেই শিল্পার কথা ভেবেছিলেন মৈনাক ও প্রসেন। সঙ্গীত পরিচালকের কথায়, “আসলে এর আগে আমি এমন সাউন্ড নিয়ে কাজ করিনি। তাই আরও একটু চাপ হচ্ছিল। তবে শিল্পা গানটি গাওয়ার পরে সবটাই খুব সহজ হয়ে যায়।”
আরও পড়ুন:
মৈনাক আরও জানান, শিল্পা খুবই পেশাদার গায়িকা। তবে তার মধ্যেও উপভোগ করে গাইতে পছন্দ করেন। সুরকার বলেন, “যে দিন রেকর্ডিং ছিল, সেই দিন ওর গলা ঠিক ছিল না। ও নিজেই এসে সেটা বলে। কিন্তু হাতে সময় নেই। তাই কাজে কোনও প্রভাব ফেলতে দেয়নি ও। খুব সহজেই গানটা তুলে নিল এবং অনায়াসেই টেক দিল।”
শিল্পার কণ্ঠে গজ়ল সবচেয়ে পছন্দ মৈনাকের। তবে গত কয়েক বছরে বলিউডে তাঁর কণ্ঠে বহু নাচের গান তৈরি হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই ‘বিবি পায়রা’র জন্য সবার প্রথমেই শিল্পার কথাই মাথায় আসে মৈনাকের। তাঁর কথায়, “আসলে গান অনুযায়ী শিল্পা নিজের কণ্ঠে পরিবর্তন আনতে পারে। এটাই বড় গুণ। নীচের দিকের স্কেলে ওর কণ্ঠে যে অদ্ভুত মাদকতা রয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করতে চেয়েছিলাম। ওর কণ্ঠে আমার এই মুহূর্তে সবচেয়ে পছন্দের গান ‘মেট্রো ইন দিনো’র ‘দিল জলাকে’। একটানা ওই গানটাই শুনতাম। সেই শিল্পার সঙ্গেই কাজ করে আমার তো খুবই ভাল লেগেছে। রেকর্ডিং-এর দিন স্টুডিয়োয় একটা অদ্ভুত এনার্জি কাজ করছিল।”
শিল্পার বাংলা উচ্চারণ কেমন হবে, তা নিয়ে একটু সংশয়ে ছিলেন মৈনাক। কিন্তু গান শোনার পরে ধারণা বদলে যায়। সুরকারের কথায়, “খুবই স্পষ্ট উচ্চারণ ওর। এমনকি, ও বাংলায় আরও কাজ করতে চায়, সেটাও বলেছে।” মৈনাকও ভবিষ্যতে শিল্পার সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।