×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২২ জুন ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

শাহিদের জন্য নিরামিষাশী হন, অমৃতার থেকে তাঁকে ‘বাঁচাতে’ সেটে পাহারা দিতেন করিনা

নিজস্ব প্রতিবেদন
৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৬:৪৫
অভিনেতা হিসেবে কাকে বেশি পছন্দ তাঁর, শাহরুখ খান নাকি শাহিদ কপূর। নিজের টক শোয়ে করিনা কপূরের উদ্দেশে এমনই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন কর্ণ জোহর। ভেবেছিলেন বলিউডে পায়ের নীচে জমি খুঁজতে মরিয়া করিনা হয়ত ‘বাদশাহ’ খানকেই বেছে নেবেন। কিন্তু শাহিদকে বেছে নিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন করিনা। জানিয়ে দিয়েছিলেন, সামনে যত বড় অভিনেতাই থাকুক না কেন, বার বার শাহিদকেই বেছে নেবেন তিনি।

পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে বরাবরই এমন বেবাক বেবো। কেরিয়ারের কথা মাথায় রেখে বাকি নায়িকারা যখন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রাখঢাকে ব্যস্ত, সেইসময় নির্দ্বিধায় গোটা দুনিয়ার সামনে শাহিদের প্রতি নিজের ভালবাসা জাহির করতেন তিনি। করিনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কখনও লুকোছাপা করেননি শাহিদও। তা সত্ত্বেও বলিউডের এই ‘দ্য ইট কাপল’-এর সম্পর্ক টেকেনি।
Advertisement
শাহিদ-করিনার সম্পর্ক ভাঙার জন্য অনেকে সইফ আলি খানকে দায়ী করেন। আবার একাধিক নায়িকার প্রতি শাহিদের আসক্তির জন্যই করিনা তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পিছনে আসল কারণ কী ছিল, তা নিয়ে আজও নানা জল্পনা রয়েছে।

২০০৪ সালে ‘ফিজা’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময়ই করিনা ও শাহিদ একে অপরের প্রেমে পড়েন বলে শোনা যায়। তার পর থেকে ক্লাব, রেস্তরাঁ, বিভিন্ন পার্টি এবং অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে একসঙ্গে দেখা দিতে শুরু করেন তাঁরা। একে অপরের সান্নিধ্য কতটা উপভোগ করছেন, সংবাদমাধ্যমে সে কথা খোলাখুলি জানাতেও কখনও কুণ্ঠা বোধ করতেন তাঁরা।
Advertisement
কপূর পরিবারের মেয়ে হলেও বলিউডে তখনও অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাননি করিনা। দিদি করিশ্মার সঙ্গে লাগাতার তুলনা চলত তাঁর। অন্য দিকে, পঙ্কজ কপূরের মতো দুর্দান্ত অভিনেতার ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শাহিদ আটকে ছিলেন ‘চকোলেট বয়’ ইমেজেই। ‘ফিজা’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দেখে এক সমালোচক লিখেছিলেন, সস্তার অমিতাভ বচ্চন হওয়ার চেষ্টা করে পুরোপুরি ব্যর্থ শাহিদ।

কিন্তু এই ধরনের সমালোচনাও করিনাকে শাহিদ বিমুখ করতে পারেনি। বরং শাহিদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘চুপ চুপকে’, ’৩৬ চায়না টাউন’, ‘মিলেঙ্গে মিলেঙ্গে’-র মতো একের পর এক ছবিতে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি। শোনা যায়, কোনও পরিচালক ছবির প্রস্তাব নিয়ে এলেই তাঁর বিপরীতে শাহিদকে নায়ক করার আবদার জানাতেন করিনা। একই ভাবে শাহিদও ছবিতে করিনাকে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করতেন।

শাহিদ নিরামিশাষী বলে মাছ-মাংস খাওয়াও ছেড়ে দেন করিনা। কিন্তু এরই মধ্যে শাহিদের সঙ্গে একাধিক নায়িকার নাম জড়ায়। শোনা যায়, ‘ইশক ভিশক’ ছবির সময় অভিনেত্রী অমৃতা রাওয়ের সঙ্গে শাহিদের সম্পর্ক হয়। করিনার জন্য অমৃতার সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানেন শাহিদ। কিন্তু ‘বিবাহ’ ছবির সময় ফের নাকি একে অপরের কাছাকাছি চলে আসেন তাঁরা। সেইসময় ছবির সেটে কার্যত পাহারা দিতে যেতেন করিনা।

শুধু অমৃতাই নয়, ‘কিসমত কানেকশন’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময় বিদ্যা বালনের সঙ্গেও শাহিদের ঘনিষ্ঠতা হয় বলে শোনা যায়। একই সঙ্গে করিনার ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার সঙ্গেও শাহিদের ঘনিষ্ঠতার মুখরোচক কাহিনি ফলাও করে সংবাদমাধ্যমনে বেরোতে শুরু করে। তার জেরেই দু’জনের সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে বলে শোনা যায়।

কিন্তু এত কিছুর পরও আগের মতোই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যেত করিনা এবং শাহিদকে। তাঁর পরিবারের লোকজন শাহিদকে কতটা আপন করে নিয়েছেন, তা-ও জানান করিনা। বাবা রণধীর কপূর শাহিদকে ‘ডোডো’ নামে ডাকেন বলেও জানান তিনি।

কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, একের পর এক নায়িকার সঙ্গে শাহিদের এই ঘনিষ্ঠতার খবরে করিনার মা ববিতা এবং দিদি করিশ্মা কপূর যথেষ্ট বিরক্ত ছিলেন। করিনাকে অনেক বার সতর্কও করেন তাঁরা। তার মধ্যেই ইমতিয়াজ আলির পরিচালনায় ‘জব উই মেট’ ছবির প্রস্তাব পান করিনা।

ছবিতে করিনার বিপরীতে ববি দেওলকে নেবেন বলে স্থির করেছিলেন ইমতিয়াজ। কিন্তু ববিকে বাদ দিয়ে শাহিদকে নিতে হবে বলে সেইসময় জেদ ধরে বসেন করিনা। শেষমেশ তাঁর ইচ্ছেই পূরণ হয়। ববিকে বাদ দিয়ে শাহিদকে ছবির নায়ক করা হয়। যাতে একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারেন, আরও ভাল ভাবে দু’জন জু’জনকে বুঝতে পারেন, তার জন্যই করিনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।

কিন্তু ‘জব উই মেট’-এর শ্যুটিং চলাকালীনই যশরাজের ব্যানারে ‘তশন’ ছবির শুটিং করছিলেন করিনা। সেখানে সহ অভিনেতা সইফের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। শোনা যায়, শাহিদের জন্য নিজেকে পাল্টাতে পাল্টাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন করিনা। জোড়াতালি দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারছিলেন না আর। সেইসময় তাঁকে সামলান সইফ। তাতেই পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসেন তাঁরা। সইফের মতো একজন পরিণত মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন করিনা। ‘জব উই মেট’-এর শ্যুটিংয়ের মধ্যেই খোলাখুলি শাহিদকে সে কথা জানান তিনি। সেখানেই সম্পর্কে ইতি টানেন।

শোনা যায়, সম্পর্ক ভেঙে গেলেও ‘জব উই মেট’-এর শুটিংয়ে কোনও বিঘ্ন ঘটতে দেননি করিনা-শাহিদ। কিন্তু ছবির প্রোমোশন শুরু হলে, তাঁদের বিচ্ছেদের কথা আর চাপা থাকেনি। ওই একই সময় সইফের সঙ্গে র‌্যাম্পে হেঁটে নতুন সম্পর্কে সিলমোহর দেন করিনা।

এর পর ২০১২ সালে সইফের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন করিনা। ২০১৫ সালে বাড়ির পছন্দে মীরা রাজপুতকে বিয়ে করেন শাহিদ। করিনা এবং সইফের একটি ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বার মা হতে চলেছেন করিনা। শাহিদ ও মীরার দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন একে অপরের সঙ্গে কাজ করেননি করিনা ও শাহিদ। তবে ২০১৬ সালে ‘উড়তা পঞ্জাব’ ছবিতে ফের একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। যদিও ছবিতে দু’জনের একসঙ্গে কোনও দৃশ্য ছিল না। তবে ছবির প্রোমোশনে একই মঞ্চে দেখা যায় তাঁদের। ‘উড়তা পঞ্জাব’ ছবিতে করিনাকে নেওয়ার জন্য শাহিদই পরিচালককে অনুরোধ করেছিলেন বলে শোনা যায়। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে ‘রেঙ্গুন’ ছবিতে করিনার স্বামী সইফের সঙ্গে একসঙ্গে অভিনয়ও করেন শাহিদ।