• মধুমন্তী পৈত চৌধুরী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অভিনয়ের জোরে উত্তীর্ণ ছবি

Pareeksha: The Final Test

পরীক্ষা-দ্য ফাইনাল টেস্ট 
পরিচালনা: প্রকাশ ঝা
অভিনয়: আদিল হুসেন, প্রিয়ঙ্কা বসু, সঞ্জয় সুরি, শুভম ঝা
৫.৫/১০

রাঁচী ও সেখানকার খেটে খাওয়া মানুষ— পরিচালক প্রকাশ ঝায়ের চেনা পরিধি। তাই মাটির খুব কাছের একটি মানুষকে যখন তিনি তাঁর ছবির চরিত্র হিসেবে পরিবেশন করেন, সে অনেক বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে। জ়ি ফাইভ অরিজিন্যালস ‘পরীক্ষা- দ্য ফাইনাল টেস্ট’ ছবিটির মুখ্য চরিত্র বুচ্চি পাসোয়ান (আদিল হুসেন) এই গোত্রের। সকাল থেকে রাত রিকশা চালিয়েও দিন গুজরানের চাকা ঠেলা সহজ নয় তার পক্ষে। স্ত্রী রাধিকা (প্রিয়ঙ্কা বসু) কাজ করে বাসন তৈরির ফ্যাক্টরিতে। সংসারে অভাব। তবু মেধাবী ছেলে বুলবুলের (শুভম ঝা) জন্য আকাশছোঁয়া স্বপ্ন বুচ্চির। পড়াশোনা শিখে সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্যাডল ঠেলার চক্রব্যূহ ছেড়ে বেরোতে পারবে। তাই সরকারি স্কুল ছাড়িয়ে ছেলেকে সিবিএসই বোর্ডের এক স্কুলে ভর্তি করে বুচ্চি। ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে না পড়লে বুলবুল এগোনোর সুযোগ পাবে না, বিশ্বাস তার বাবার।

হালফিল ‘হিন্দি মিডিয়াম’ বা ‘নিল বট্টে সন্নাটা’র মতো এই ছবিরও মুখ্য বিষয় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে থাকা আর্থ-সামাজিক নানা প্রশ্ন। সে দিক থেকে ছবির বিষয়বস্তু একেবারেই ছকে বাঁধা। তবে অনুপ্রেরণামূলক গল্প বলতে গিয়ে রাজনীতি ও সমাজনীতির প্যাঁচালো সমীকরণগুলো এড়িয়ে গিয়েছেন পরিচালক। যদিও তা প্রকাশ ঝা ঘরানার বৈশিষ্ট্য নয়। একমুখী চলনে গল্প বলা এ ছবির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা।

তবে গল্পের খামতিকে অভিনয় দিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার সর্বতো চেষ্টা করেছেন ছবির সব অভিনেতা। বুচ্চির চরিত্রে আদিলের অভিনয় অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। তাঁর রিকশা চালানোর দেহভঙ্গি, ভাঙা ভাঙা ইংরেজি, চুরি করার আগে তাঁর দোলাচল, আবার ধরা পড়ার পরে গুম মেরে যাওয়া... প্রতিটি অভিব্যক্তিই এত নিখুঁত ও মর্মস্পর্শী যে, চরিত্রটির সঙ্গে একাত্মবোধ করবেন দর্শক। আদিলের যোগ্য সঙ্গত করেছেন প্রিয়ঙ্কা। বুলবুল কুমারের চরিত্রে শুভমও সুন্দর। স্বল্প পরিসরের অথচ গুরুত্বপূর্ণ এক আইপিএস অফিসারের চরিত্রে রয়েছেন সঞ্জয় সুরি। তিনিও সেই ভূমিকায় দিব্যি মানানসই। অদ্বৈত নেমলেকারের আবহসঙ্গীত ক্ষেত্র বিশেষে একটু বেশি জোরালো মনে হয়েছে।

দারিদ্র্যকে হারিয়ে মেধার জয়— সংবাদপত্রের শিরোনামে জায়গা করে নেওয়া এমন ঘটনা ও বিহারের এক আইপিএস অফিসারের চরিত্রকে অনুপ্রেরণা হিসেবে রেখেই গল্প বুনেছেন প্রকাশ। আন্ডারডগের কাহিনি সব সময়েই দর্শকের আবেগে ধাক্কা দেয়। কিন্তু এই ধরনের ছবি তো কম হয়নি ইন্ডাস্ট্রিতে! পর্দার আড়ালের যে ধারালো রাজনীতি প্রকাশের আগেকার ছবিতে বলিষ্ঠ ভাষা পেত, তার ঝলক এখানে থাকলে ছবিটি অন্য মাত্রা পেতে পারত। তবে তিনি হয়তো খেটে খাওয়া মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনাটুকুই ধরতে চেয়েছেন। তাই বাস্তব পরীক্ষার ইস্পাতকঠিন মোড়ককে শুধুই আবেগের অশ্রুজলে সিক্ত করেছেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন