রবিবার সন্ধ্যায় যখন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছোয় কলকাতায়, তখন তাঁর মা পাটুলির বাড়িতে। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার খবর পেয়ে, আগেই দিঘা যাননি। সঙ্গে সঙ্গে ছুটলেন শাশুড়িমায়ের কাছে।
স্বামীর মৃত্যুর খবর যখন পৌঁছোয়, তখন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ‘তারকাটা’ ছবির পোস্টার শুট করার জন্য ‘লুকসেট’-এ ছিলেন। সেখানেই খবর আসে। সব কাজ ছেড়ে তড়িঘড়ি বেরিয়ে আসেন নায়িকা। খবরের আকস্মিকতায় আর কিছুই গুছিয়ে উঠতে পারছিলেন না তিনি। তাঁদের ১৩ বছরের পুত্র সহজকে খবরটা কী ভাবে দেবেন, তাকে কী ভাবে সামলাবেন, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে যায় বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর। ফলে, স্বামীকে যেখানে রাখা আছে, দিঘার সেই হাসপাতালে যাবেন নাকি ছেলেকে নিয়ে গল্ফগ্রিনের বাড়িতেই থাকবেন, সেটা ঠিক করতেই বেশ সময় নেন।
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের শুরু একটি ছবির সেটেই। ছবি: সংগৃহীত।
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের শুরু একটি ছবির সেটেই। ২০১০ সালে বিয়ে করেন। ২০১৩ সালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন অভিনেত্রী। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার ছেলের নাম সহজ। বাবা রাহুলের সঙ্গে সম্প্রতি তাঁরই পডকাস্টে দেখা গিয়েছিল সহজকে।
ছেলে সহজ ও স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে রাহুলের নিজস্বী। ছবি: সংগৃহীত।
আরও পড়ুন:
এই দুর্ঘটনার সংবাদ কি পৌঁছেছে সহজের কাছে? ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, রাহুলের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়িতে আসেন নায়িকা। সেখানেই রয়েছে সহজ। ছেলেকে বুঝিয়ে সবটা বলার চেষ্টা করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তবে তিনি সহজকে রেখে দিঘা যাবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেননি। রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রিয়াঙ্কা। লেখেন, “আমাদের জন্য এটা খুবই দুঃখের সময়। এই শোকের সময়ে আমাদের একটু একা ছেড়ে দিন। আমরা, ওঁর কাছের মানুষেরা চেষ্টা করছি এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। এই মুহূর্তে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।”
আরও পড়ুন:
রাহুলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ইতিমধ্যেই প্রিয়াঙ্কার কাছে পৌঁছোন প্রযোজক নীলাঞ্জনা শর্মা। তাঁদের দীর্ঘ দিনের আলাপ ও বন্ধুত্ব। একসময়ে রাহুলকে নিয়মিত ভাইফোঁটা দিতেন নীলাঞ্জনা। ফলে এই দুর্দিনেও তিনি আগলে রাখলেন ভাইয়ের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে।