Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

বাবা-মা-কাকা অভিনেতা, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলা এই খলনায়ক রেখার জামাইবাবু

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ২৬ জুলাই ২০২১ ১৬:৪৩
নাম তেজ সপ্রু। তবে সিনেমাপ্রেমীরা তাঁকে নামে কম, চেহারায় চেনেন বেশি। তেজ আক্ষরিক অর্থেই বলিউডের ‘ব্লু আইড’ খলনায়ক। তাঁর চোখের মণি নীল রঙের। অনেকেই মনে করেন, খলনায়কের ঠান্ডা দৃষ্টির সঙ্গে এমন চোখই খাপ খায় বেশি। বলিউড বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেন, খলনায়কদের রূপের যদি কোনও মাণদণ্ড থাকত তবে তার প্রত্যেকটি বিভাগেই ১০০ নম্বর পেয়ে পাশ করতেন এই অভিনেতা

সম্পর্কে বলিউড অভিনেত্রী রেখার জামাইবাবু তেজ। বিয়ে করেছেন রেখার ছোট বোন ধনলক্ষ্মীকে। ১২টি ভাষায় প্রায় ২০০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে খলনায়কের চরিত্র থেকে বার হতে পারেননি। পরে টেলিভিশনের বেশ কিছু মেগা ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন তেজ।
Advertisement
ফিল্মি পরিবারেই জন্ম। বাবা ডি কে সপ্রু ছয়ের দশকের নাম করা বলিউড অভিনেতা। মা হেমবতীও অভিনেত্রী। বলিউডের খলনায়ক জীবন কাকা হন তেজের। ছোট থেকে ফিল্মের পরিবেশেই ব়ড় হয়েছেন। এই পরিবারের ছেলে তেজ যে অভিনয় জগতে আসবেন বা অন্ততপক্ষে ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত হবেন এটা ভাবা খুব একটা কঠিন ছিল না। তবে তেজ নিজে অভিনেতা হতে চাননি। অবস্থার ফেরে অভিনেতা হতে বাধ্য হন তিনি।

তেজের দুই বোনের এক জন, প্রীতি সপ্রু অভিনেত্রী। অন্য জন, রিমা রাকেশ নাথ চিত্রনাট্যকার। এমনকি জামাইবাবু রাকেশ নাথও বলিউডের প্রযোজক-পরিচালক। তবে তার আগে দীর্ঘ ২৮ বছর মাধুরী দীক্ষিতের ম্যানেজার ছিলেন রাকেশ। অভিনেতা নয়, তেজ কিন্তু খেলোয়াড় হতে চেয়েছিলেন।
Advertisement
খেলায় বরাবরই আগ্রহী ছিলেন তেজ। মহারাষ্ট্রের জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। আবার ক্রিকেটও খেলতেন। সি কে নাইডু ট্রফিতে জুনিয়র টিমে খেলেছিলেন তেজ। তাঁর দলেই ছিলেন দিলীপ বেঙ্গসরকার, সন্দীপ পাটিলের মতো ভারতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা।

কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলোয়াড় হওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। ঠিক সেই সময় ডিকে অভিনয় ছেড়ে প্রযোজনার দিকে ঝোঁকেন। প্রথম ছবির প্রযোজনায় বিপুল সাফল্যও পান। তবে গণ্ডগোল বাধে দ্বিতীয় ছবি প্রযোজনা করতে গিয়ে।

ডিকে প্রযোজিত দ্বিতীয় ছবির নাম ছিল ‘বাহাদুর শাহ জাফর’। প্রথম ছবির সাফল্যে উৎসাহিত ডিকে বিপুল খরচ করেন এই ছবিতে। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পাওয়া তো দূর কেউ কিনতেও রাজি হননি।

এই ছবির ব্যর্থতায় প্রায় নিঃস্ব হয়ে যান ডিকে। অভিজাত কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের সদস্য তাঁরা। থাকতেন বিলাসবহুল বাংলোয়। সেখান থেকে জুহুর একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠে আসে তেজের পরিবার। দেনা শোধ করতে বিক্রি করে দিতে হয় বাড়ি এবং তিনটি গাড়িও।

ডিকে আর প্রযোজনায় ফেরেননি। অভিনয়ের কাজও পাচ্ছিলেন কম। বাধ্য হয়ে পরিবারের হাল ধরতে হয় তেজকেই। সকালে কলেজের পড়াশোনা করে খেলার প্রশিক্ষণ নিয়ে তার পর চাকরি করতে যেতেন।

ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের কর্মচারী ছিলেন তেজ। চাকরি পেয়েছিলেন খেলোয়াড় কোটায়। ব্যাঙ্কের হয়ে ব্যাডমিন্টনের বহু চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন তেজ।

তবে একা ব্যাঙ্কের চাকরি করে পাঁচ সদস্যের পরিবারকে টেনে নিয়ে যেতে পারছিলেন না। তেজকে তখন অভিনয়ে আসার পরামর্শ দেন তাঁর বাবা। কারণ ফিল্মে অর্থোপার্জনের সুযোগ এবং সুবিধা দুই-ই বেশি।

ডিকে-র মতো তেজেরও চোখের মণির রং ছিল নীল। কাশ্মীরিদের মতোই দীর্ঘ শরীর, ফরসা রং। খেলোয়াড় হওয়ায় স্বাস্থ্যও ছিল সুঠাম। ডিকে-র মনে হয়েছিল এমন চেহারা দর্শকদের পছন্দ হবে।

তবে অভিনয়ে আসার জন্য তেজ পুণের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করতে চাইলেও তাঁকে সমর্থন করেননি ডিকে। বদলে বলিউ়ডের এক পরিচালকের সঙ্গে তেজকে দেখা করতে বলেন তিনি।

পরিচালক রবিকান্ত নাগাইচ তখন মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে ‘সুরক্ষা’ ছবি তৈরি করছেন। ছবির জন্য দ্বিতীয় নায়ক খুঁজছিলেন রবিকান্ত। তেজকে দেখেই পছন্দ হয়ে যায় তাঁর। ‘সুরক্ষা’-তেই অভিনয় জীবন শুরু হয় তেজের। এক গোয়েন্দার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

সেই শুরু। এর পর একের পর এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তেজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আসত তাঁর কাছে। পরিবারের কথা ভেবেই চরিত্র নিয়ে কোনও দিন বাছাবাছি করেননি তেজ। যখন যেমন সুযোগ পেয়েছেন, তা-ই কাজে লাগিয়েছেন।

বিষয়টি কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলে তেজের কেরিয়ারে। একটা সময়ের পরে তাঁর কাছে মূল খলনায়কের বদলে খলনায়কের সঙ্গীর চরিত্র আসতে শুরু করে। তাতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

সংঘর্ষের দৃশ্যে বডিডাবল ব্যবহার করতেন না তেজ। নিজেই নিজের অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতেন। তাতে ভিলেনের ছেলে বা ভাইয়ের চরিত্র পেতে সুবিধা হত। একটা সময়ের পর বিষয়টি একঘেয়ে হয়ে যায়। অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে বার বার আহত হচ্ছিলেন তেজ। ছবি করা কমিয়ে দেন তিনি।

পরে ২০০৪ সাল থেকে টেলিভিশনেও অভিনয় শুরু করেন। তাঁর অভিনীত, ‘কবুল হ্যায়’, ‘তুমহারি পাখি’, ‘পালমপুর এক্সপ্রেস’ জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক। এ ছাড়া ‘চক্রবর্তী অশোক সম্রাট’ ধারাবাহিকে গ্রিক রাজা সেলুকাস  এবং ‘ভারতবর্ষ’ ধারাবাহিকে চাণক্যের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তেজ।

আপাতত নিজের ব্যবসা চালান তেজ। পাশাপাশি ছবিতে অভিনয়ের কাজও চলছে। ২০২০ সালে তাঁর ছবি ‘গুনস অফ বেনারস’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে অতিমারিতে তা পিছিয়ে যায়।