×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

শ্বশুরমশাইকে পছন্দ হওয়ায় বিয়েতে সম্মতি, বব বিশ্বাসরূপী শাশ্বতকে দেখে ভয় পেয়েছিলেন স্ত্রী-ও

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৫ জানুয়ারি ২০২১ ১৩:১৩
মঞ্চ তৈরি থেকে অন্যের ভূমিকায় প্রক্সি। নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন দেড় বছর। তার পর একটি নাটকের একটি দৃশ্য। অভিনয়কে ভালবেসে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দশক। আজ, না পাওয়ার হতাশার তুলনায় জীবনে পাওয়ার আনন্দের পাল্লা ভারী। তারকাজীবনের ছটা থেকে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের বেশি পছন্দ মধ্যবিত্ত জীবনের নিপাট এবং নিখাদ সুখ।

বিখ্যাত অভিনেতার ছেলে হিসেবে নয়। অভিনয়ে এসেছিলেন অভিনয়কে ভালবেসেই। বাবার কথাতেই থিয়েটারের অংশ হয়ে ওঠা। কারণ শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় বিশ্বাস করতেন যে কোনও শিল্প বা পেশারই একটা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তাঁর ছেলে শাশ্বতর সেই হাতেখড়ি হয়েছিল নাট্যব্যক্তিত্ব জোছন দস্তিদারের কাছে। স্বীকার করেন, অভিনয়ের অ-আ-ক-খ শিখেছেন থিয়েটার থেকেই।
Advertisement
মঞ্চে অভিনয় করতে করতেই ‘তোপসে’। প্রথম কাজ ‘বাক্স রহস্য’ ছবিতে। যে গল্প পড়ে সাজিয়েছেন কৈশোর, সেই ফেলুদার তিনি স্যাটেলাইট! প্রথম কাজেই সহঅভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং রবি ঘোষ। সমস্যা হয়নি? বললেন, ‘‘জোছন দস্তিদারের চার্বাকে কাজ করার সূত্রে বেণুদার সঙ্গে পরিচয় ছিলই। রবি ঘোষের সঙ্গে প্রথম বার কাজ করা নিয়েও উত্তেজনা ছিল। কিন্তু রবি ঘোষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপন করে নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আমার অভিনয়-জীবনে ওঁর প্রভাব গভীর।’’

‘বাক্স রহস্য’, ‘গোঁসাইপুর সরগরম’, ‘ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা’-সহ বেশ কিছু রহস্য সমাধান করেছেন ফেলুদার সঙ্গে। কিন্তু তিনি নিজে আজকের দিনে কী করে মোবাইলবিহীন জীবন কাটান, সেই রহস্যের সমাধান কোন গোয়েন্দা করবে? হেসে জানালেন, ইদানীং সম্পূর্ণ মোবাইলবিহীন নন। তবে আংশিক। এখন কলকাতার বাইরে গেলে পর্দার বাইরেও বব বিশ্বাস ব্যবহার করেন মোবাইল। তবে শহরের মধ্যে থাকলে মোবাইল পড়ে থাকে বাড়িতেই। অসুবিধে হয় না? ‘‘অসুবিধে হবে কেন? এত দিন যে ভাবে চলে এসেছে, সে ভাবেই চলছে। কোথায় যাচ্ছি, বাড়িতে নাম্বার দেওয়া থাকে তো।’’
Advertisement
আংশিক সময়ের জন্য হলেও মোবাইল এসেছে। সেইসঙ্গে এসেছে ‘ডিজিটাল অভ্যাস’-ও। সোশ্যাল মিডিয়ায় পা রেখেছেন তিনি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে পাওয়া যাচ্ছে তাঁকে। সারা দিনে এক বার অন্তত দেখে নেন নিজের প্রোফাইল এবং অ্যাকাউন্ট। কিন্তু ওই এক বারই। তার বেশি নয়। ‘অভ্যাস’-কে তিনি ‘বদ অভ্যাস’-এ বদলে যেতে দিতে নারাজ তিনি। স্মার্টফোনকে সঙ্গী করেছেন ঠিকই। তবে তাকে নেশা হতে দেবেন না।

বরং তার বদলে সিনেমা দেখা আর বেড়াতে যাওয়ার নেশায় বুঁদ হয়েই দিব্যি আছেন তিনি। লকডাউনে বাড়িতে বসে প্রচুর ছবি দেখেছেন। লকডাউন ওঠার পরে গাড়িতে করে পাড়ি দিয়েছেন সিকিম। এ বছর পুরনো পছন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন ভালবাসা— ওয়েব সিরিজ। তবে এখনও ‘ফেলুদা ফেরত’ দেখা হয়নি। দেখার ইচ্ছে অবশ্যই আছে।

মেগা সিরিয়ালে প্রথম অভিনয় ‘রূপকথা’-য়। সেই স্মৃতি তিনি ভুলতে পারেন না। শাশ্বতর কথায়, তখন মেগা সিরিয়ালে কাজ করা হত ছবির ঘরানাতেই। এখনকার মতো ঝা চকচকে হয়তো ছিল না। কিন্তু তাঁরা অনেক সময় নিয়ে কাজ করতেন। এখন অনেক কম সময়ে কাজ করতে হয়। টেলিভিশনে তাঁর আরও একটি মনে রাখার মতো কাজ হল ‘এক আকাশের নীচে’। রবি ওঝার প্রযোজনায় সেই ধারাবাহিকে তিনি হয়ে ছিলেন যৌথ পরিবারের ছোট ছেলে ‘আকাশ’। দর্শকদের মনে এখনও উজ্জ্বল সেই ধারাবাহিকের স্মৃতি।

ছোট পর্দায় তাঁর পছন্দের কাজের মধ্যে অন্যতম টেলিফিল্ম। তবে এখন আর মেগা ধারাবাহিকে কাজ করতে চান না। ‘‘এখন সেই সময়টা দিতে পারব না। আর এখন যাঁরা মেগা ধারাবাহিকে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষমতা অনেক বেশি। সেই সকাল থেকে অপেক্ষা করে বিকেলে সেটে ডাক পাওয়া— এই ধৈর্যই রাখতে পারব না আর।’’ বললেন ‘কালপুরুষ’-এর অর্ক। শৈবাল মিত্রের পরিচালনায় সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসের অর্ক হয়েছিলেন তিনি। মোহন গোখলে হয়েছিলেন অনিমেষ এবং মাধবীলতার ভূমিকায় ছিলেন মমতাশঙ্কর।

জীবনের প্রথম ছবি ‘নয়নতারা’-তেও তিনি মমতাশঙ্করের ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। রাজা মিত্রের পরিচালনায় ছবির অন্যান্য কুশীলব ছিলেন রবি ঘোষ এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক জায়গায় বলেছিলেন রবি ঘোষ। তাঁর বাবা নন। এ রকমই গভীর ছিল সম্পর্ক।

তাঁর ছবিতে অভিনয়ের কথা উঠলে ‘তোপসে’-এর পরে অবধারিত ভাবেই চলে আসে ‘বব বিশ্বাস’-এর কথা। বলিউডের সুপারি কিলার হয়ে ওঠার সুযোগ এসেছিল অচমকাই, বেশ অদ্ভুত ভাবে। অরিন্দম শীলের ডাকে পৌঁছেছিলেন তাঁর অফিসে। শুনেছিলেন মুম্বইয়ের সুজয় ঘোষ তাঁর ছবির জন্য অভিনেতা খুঁজছেন। কিন্তু সুজয়ের সঙ্গে প্রথম আলাপের স্মৃতি বিশেষ সুখকর ছিল না। প্রথম আলাপেই তাঁকে সুজয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কী রে, কেমন আছিস?’

‘‘প্রথম আলাপেই তুইতোকারি! আমার কেমন যেন অস্বস্তি হয়েছিল। তার পর সুজয় জানালেন, তিনি আগে থাকতেন আমার দাদুর বাড়ির উল্টোদিকের রাস্তায়। আমি ছোটবেলায় দাদুর বাড়িতে খুব যেতাম। দাদুর বাড়ি ছিল বেলতলা রোডে। এখন সে রাস্তার নাম নরেশ মিত্র সরণি। যাই হোক, সেই সূত্রেই ছোটবেলায় আমাকে দেখেছিলেন সুজয়। আমার মনে ছিল না। কিন্তু উনি মনে রেখেছিলেন। পরে অবশ্য আমারও সব মনে পড়ে।’’ ফোনের ওপার থেকে ভেসে এল শাশ্বতর স্মৃতিমেদুর কণ্ঠ।

তার পর অভিনয় শুরু। এবং বাকিটা ইতিহাস। যদিও ছবি মুক্তির আগে টের পাননি ‘বব বিশ্বাস’ আইকনিক হতে চলেছে। তাঁরা ঠিক করেছিলেন, এমন চরিত্রায়ণ হবে, যাতে খুনিকে দেখে বোঝা না যায়, সে খুনি। হয়েছিলও তাই। রিভলবার বার করার আগে অবধি কেউ বুঝতে পারেনি, এ আসলে সুপারি কিলার। শুধু দর্শকরাই নন। ছবি দেখতে বসে চমকে গিয়েছিলেন তিনি নিজেও! কারণ ক্লাইম্যাক্সে কী হবে, জানতেন না তিনিও।

বব বিশ্বাসকে নিয়েই যখন এ বার ছবি হচ্ছে, তখন তিনি সেই ছবিতে নেই। কতটা গভীর মন্দ লাগার দাগ? প্রথমে সত্যিই খারাপ লেগেছিল। জানালেন, শাশ্বত। কিন্তু এখন আর কোনও রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই। বরং, তাঁর আনন্দ হচ্ছে এই ভেবে যে পর্দায় মাত্র ৯ মিনিটের এমন একটা চরিত্রে তিনি রূপদান করেছেন, যাকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে আস্ত একটা সিনেমা!

‘‘হিন্দি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমাকে নেবে কেন বলুন? যুক্তি ও বাস্তবতা দিয়ে ভেবে আমার এ কথাটাই মনে হয়েছে। প্রযোজকের কথাও তো ভাবতে হবে।’’ ভেসে এল সহাস্য উত্তর। ছবি মুক্তি পেলে দেখতে যাবেন? ‘‘নিশ্চয়ই যাব’’— স্বচ্ছন্দ উত্তরটা আসতে সময় লাগল না।

ব্যস্ত হাতে এখন অনেক কাজ। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘অনুসন্ধান’-এর কাজ প্রায় শেষের মুখে। শৈবাল মিত্রের পরিচালনায় সৈয়দ মু্স্তাফা সিরাজের গল্প ‘তখন কুয়াশা ছিল’-ও মুক্তি পাবে এ বছর। এই ছবিতেই শাশ্বত শেষ বার কাজ করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় হিন্দি ছবি ‘ব্যাড বয়’-তেও কাজ করেছেন। সেটাও মুক্তি পাওয়ার কথা এ বছরই।

তিনি নিজে কতটা ব্যাড বয় ছিলেন? সাউথ পয়েন্ট স্কুলের প্রাক্তনী জানালেন, ছোটবেলায় তাঁর দুষ্টুমির আখড়া ছিল দাদুর বাড়ি। বাবা যা যা নিষেধ করতেন, সেগুলোই দাদুর বাড়িতে হয়ে যেত অবাধ আব্দার। সে কলকাতার রাস্তায় সাইকেল চালানোই হোক, বা অন্য কিছু। কৈশোরে প্রেমও এসেছে টুকটাক। নিজের স্কুলের প্রিয় শিক্ষিকার ক্লাসে বেশি বেশি করে পড়া বলা থেকে পাড়ার পছন্দের কিশোরীর বাড়ির সামনে অফুরন্ত ক্রিকেট— এর বেশি অবশ্য এগোয়নি কোনওটাই।

বরং, জীবনসঙ্গী এল নাটকের সূত্রেই। চার্বাক গোষ্ঠীতে অভিনয় করার সময় আর এক নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রততী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির চা চক্রে আলাপ হল এক তরুণীর সঙ্গে। যিনি নাকি শিক্ষিকাদেরও শিক্ষিকা! কিন্তু আলাপে অপেক্ষা করে ছিল বিস্ময়। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর, কিন্তু কথাবার্তার মধ্যে নেই অনাবশ্যক ইংরেজি শব্দ। এটাই প্রথম আলাপে সবথেকে ভাল লেগেছিল।

আর, উল্টো দিকে যিনি ছিলেন, তাঁর কেমন লেগেছিল? প্রথম আলাপে মোটেও ভাল লাগেনি। স্পষ্ট জানালেন মহুয়া। দু’জনের দাম্পত্য পা দিয়েছে একুশে। এখনও ফিকে হয়নি প্রথম আলাপের স্মৃতি। মহুয়া জানালেন, তিনি বরাবরই মোটাসোটা। তাই নিয়ে শাশ্বত রসিকতা করতেও ছাড়তেন না। কিন্তু ফোন নাম্বার দিয়ে দিয়েছিলেন। তার পর কফি শপ, নাটক পেরিয়ে একদিন সম্পর্ক পৌঁছেই গেল ছাদনাতলায়।

তবে শাশ্বত নাকি এখনও বলেন তিনি পাত্রী দেখে নয়, বিয়ে করেছেন শ্বশুরমশাইকে পছন্দ করে। প্রথম আলাপেই হবু জামাই কী কী নেশা করেন, জেনে নিয়েছিলেন। এ রকম ‘মাই ডিয়ার’ শ্বশুর পেতে গেলে তো এই সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না! তাই কয়েক মাস আলাপের পরেই ‘যদিদং হৃদয়ং তব’ হয়ে গেল।

বিয়ের পরে প্রথম বছরটা অবশ্য মনখারাপের পালা অবশ্য সঙ্গী হয়েছিল দু’জনেরই। মহুয়া কোনওদিন জানতেন না অভিনেতার জীবন বা কাজের ব্যস্ততা কী রকম হয়। নতুন বিয়ের পরে বছরের বিশেষ দিনগুলোয় যখন বর আউটডোরে, কষ্ট পেতেন খুবই। অন্য দিকে নবপরিণীতাকে বাড়িতে রেখে আর এক জনেরও খারাপ লাগত। পরে অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে গিয়েছে সবকিছুই।

মহুয়া জানালেন, ‘‘আমার শ্বশুরমশাই দেখতেন আমার যেন মনখারাপ না হয়। আমার সঙ্গে ক্রসওয়ার্ড পাজল সলভ করতেন। তিনি বুঝতেন সমস্যাটা। তখন তো নতুন নতুন, তাই অত বুঝতে পারতাম না। এখন জানি, একজন অভিনেতার পেশায় ধরাবাঁধা নিয়ম বলে কিছু থাকে না।’’

শাশ্বতর সঙ্গে প্রথম আলাপের সময় মহুয়া ছিলেন বিএড কলেজের আংশিক সময়ের শিক্ষিকা। এখন তিনি কলকাতার নামী স্কুলের একজন সিনিয়র টিচার। তবে জানালেন, তাঁর থেকে শাশ্বত অনেক বেশি অর্গানাইজড। তিনি অগোছালো, নির্দ্বিধায় জানান মহুয়া। শ্বশুর এবং স্বামী দু’জনেই অভিনেতা। বিয়ের পরে তাঁর নিজের কোনও দিন ইচ্ছে হয়েছে একবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি, কেমন লাগে?

না, সে ইচ্ছে হয়নি। তাঁর বরং মনে হয়, দু’জনের একসঙ্গে অভিনয় পেশায় থাকলে সংসারের বাঁধন থাকে না। তাই তিনি খুশি নিজের জীবনেই। সেলেব স্বামীকে কত দেবেন ইংরেজি সাহিত্যের কড়া দিদিমণি?  প্রথমে বললেন সাত কি সাড়ে সাত। পাশ থেকে মেয়ের তীব্র প্রতিবাদ। এত কম! হতেই পারে না। এ বার শিক্ষিকার হাতে নম্বর বেড়ে হল ৮। শাশ্বত-মহুয়ার একমাত্র মেয়ে এখন মাস কমিউনিকেশনের ছাত্রী। ভবিষ্যতে অভিনেত্রী হতে চাইলেও বাধা নেই বাবা মা, কারও তরফেই। বাড়িতে ঘরোয়া আড্ডায় অবশ্য ছবির কথা বেশি ওঠে না। তার থেকে বরং খাওয়া-দাওয়ার কথাই থাকে আলোচনার কেন্দ্রে।

ছবির কথা চট্টোপাধ্যায় পরিবারে আগেও বেশি জায়গা পেত না ঘরোয়া আড্ডায়। বাবা ছিলেন চাপা স্বভাবের। ছেলেকে নিয়ে প্রচুর থিয়েটার দেখতে যেতেন। তবে নিজের কাজের কথা আলোচনা করতেন না বাড়িতে। পার্টিও হত না কোনওদিন। তার বদলে ছিল ঘরোয়া আড্ডা। তাঁদের বাড়িতে মাদুর পেতে গান গেয়েছেন হেমন্ত চট্টোপাধ্যায়। আড্ডা দিয়েছেন সেই সময়কার তাবড় অভিনেতারা। কিন্তু তাঁরা যে তারকা, সেটাই মনে হয়নি কোনওদিন। বরং, মনে হত তাঁরা পরিবারেরই অংশ।

বাংলা অভিনয়-পরিবারের অংশ তিনি নিজেও অনেক দিন। কোনও আক্ষেপ থেকে গিয়েছে কি শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের?  কোনও আক্ষেপ নেই। জানালেন তিনি। বরং, যা পেয়েছেন, সেটা-ই কোনওদিন ভাবেননি পাবেন বলে। জীবনে পরিকল্পনা করে এগোননি। ভবিষ্যতেও থাকতে চান এভাবেই। শুধু একটাই ইচ্ছে, কৌতুক চরিত্রে বেশি করে অভিনয়। ওয়েব সিরিজের ডার্ক শেড সব সময় ভাল লাগে না। এই বিষাদ-সময়ে আরও বেশি করে কমেডিনির্ভর কাজ হয় না কেন?  প্রশ্ন শাশ্বতর।

তিনি চান, নতুন ধরনের কাজ হোক। অভিনেতারা নিজেদের ফর্ম ভেঙে ধরা দিন। হিন্দিতে এই ধরনের কাজে তাঁর পছন্দ আয়ু্ষ্মান খুরানা, রাজকুমার রাও এবং ভূমি পেডনেকরকে। ভাল লাগে অক্ষয়কুমারের সাম্প্রতিক ছবিগুলিও। বাংলাতেও এই ধরনের কাজ হচ্ছে। শাশ্বত জানালেন, তিনি নিজে চেষ্টা করেন বার বার ফর্ম ভেঙে অন্য ঘরানার কাজ করতে। এই প্রসঙ্গে ভাল লাগে রজতাভ দত্তের কাজও।

আরও একটা সুপ্ত ইচ্ছে আছে। কোনও এক দিন মূক ও বধিরের চরিত্রে অভিনয় করবেন। এহেন পছন্দের কারণ? ‘‘দু’টো সুবিধে আছে। প্রথমত এক্সপ্রেশন দিয়ে চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পারলে বাহবা পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় সুবিধেটাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডাবিং করার জন্য আলাদা সময় দিতে হবে না!’’

রাজনীতি এবং গ্ল্যামার থেকে দূরে এভাবেই থাকতে চান শাশ্বত। পাশে চান জীবনসঙ্গিনী ইংরেজির শিক্ষিকাকে, যিনি সিনেমাহলে ‘কহানি’-তে স্বামীর অভিনয় দেখে ভয়ের চোটে খামচে ধরেছিলেন পাশে বসা ‘বব বিশ্বাস’-এর হাত!