আরব সাগর থেকে আবির্ভাব, ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল মুম্বইয়ে, ভারতের ‘গডজ়িলা’কে মারা হয় শরীরে ভাইরাস ঢুকিয়ে!
গোগোলা একটি বিশাল প্রাগৈতিহাসিক জলজ দানব, যা আরব সাগর থেকে হঠাৎ উঠে এসে মুম্বই (তৎকালীন বোম্বে) শহরে আক্রমণ চালায়। বিশালাকৃতি দানবটির মুখ থেকে আগুন বার করার ক্ষমতা ছিল।
বিশালাকার দানবের মতো চেহারা। শহরের রাস্তাঘাটে ঘুরে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে— এই দৃশ্য মনে করলে জাপানের ‘কাইজু’ অর্থাৎ গডজ়িলার কথা মনে ভাসতে থাকে। কিন্তু এই একই ধারণার উপর ষাটের দশকে বলিউডে একটি ছবি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও কালের নিয়মে সেই ছবি গিয়েছে হারিয়ে।
১৯৬৬ সালে প্রেক্ষাগৃহে মু্ক্তি পেয়েছিল ‘গডজ়িলা’র ভারতীয় সংস্করণ। সে চেহারা অবিকল গডজ়িলার মতো। তবে গায়ের রং ছিল বেইজ। দানবটির নামেই রাখা হয়েছিল ছবির নাম— ‘গোগোলা’।
‘গোগোলা’ ছবির পরিচালক ছিলেন বলবন্ত দাভে। প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন টিএম রাই। অভিনয় করেছিলেন আজাদ ইরানি, তাবাসসুম, পলসন এবং হাবিবের মতো তারকারা।
ছবিটির গল্প আবর্তিত হয় গোগোলা নামক একটি বিশাল প্রাগৈতিহাসিক জলজ দানবকে কেন্দ্র করে, যা আরব সাগর থেকে হঠাৎ উঠে এসে মুম্বই (তৎকালীন বোম্বে) শহরে আক্রমণ চালায়। বিশালাকৃতি দানবটির মুখ থেকে আগুন বার করার ক্ষমতা ছিল। তা দিয়ে গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া, ফ্লোরা ফাউন্টেনের মতো শহরের প্রসিদ্ধ জায়গাগুলি ধ্বংস করতে শুরু করে গোগোলা।
গল্পের প্রধান চরিত্র কুমার (আজাদ), তার প্রেমিকা আশা (তাবাসসুম) এবং আশার বিজ্ঞানী বাবা এই দানবকে থামানোর চেষ্টা করে। আশার বাবা একটি বিষাক্ত ভাইরাস তৈরি করে যা দিয়ে দানবটিকে ধ্বংস করা যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে সেই ভাইরাস নিয়ে কুমার ডুব দেয়। তাদের পরিকল্পনা সফল হয় এবং গোগোলা মারা যায়।
আরও পড়ুন:
দুর্ভাগ্যবশত ‘গোগোলা’ ছবিটির বর্তমানে কোনও অস্তিত্ব নেই। কালের নিয়মে তা বলিউডের হারিয়ে যাওয়া ছবির তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছে। এই ছবির কোনও প্রিন্ট অথবা ভিডিয়ো কপি কোথাও সংরক্ষণ করা নেই।
‘গোগোলা’ ছবিটি সম্পর্কে যা কিছু জানা যায় তা কেবল সেই সময়ের কিছু পোস্টার, গানের বুকলেট এবং সেন্সর বোর্ডের স্ক্রিপ্ট থেকে। উন্নত প্রযুক্তির অভাব থাকলেও গোগোলাকে পর্দায় তুলে ধরার ভিন্ন উপায় বার করেছিলেন ছবিনির্মাতারা।
‘গোগোলা’ ছবির সৃজনশীল পরিচালক ছিলেন বাবুরাও পোদ্দার। এই ছবির জন্য প্রয়োজনীয় মডেল তৈরি করেছিলেন ডি মালভঙ্কার। ‘স্পেশ্যাল এফেক্টস’-এর কাজ করেছিলেন পরিচালক নিজেই।
ষাটের দশকে উন্নত সিজিআই না থাকায় এক ব্যক্তিকে গোগোলার স্যুট পরিয়ে দেওয়া হত। তিনি গোগোলার স্যুট পরে ছোট ছোট দালানকোঠার মডেলের মাঝখানে দানবের মতো হাঁটাচলা করতেন।
আরও পড়ুন:
ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন ফ্রাঙ্ক এবং টিএম. রাই। এর মধ্যে একটি গান বেশ অদ্ভুত এবং মজাদার হওয়ায় সেই সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। গানটির নাম ছিল ‘নাচো নাচো গোগোলা’।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী মুম্বইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া উপড়ে ফেলে তার ধ্বংসাবশেষ ফ্লোরা ফাউন্টেনের দিকে ছুড়ে ফেলেছিল গোগোলা। তখনকার সময়ে ভারতীয় দর্শকের কাছে সেই দৃশ্যই ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
১৯৫৪ সালে চলচ্চিত্রজগতে গডজ়িলা চরিত্রটির আবির্ভাব। দানবাকৃতি সেই চরিত্রটি এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, সাত দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরেও হলিউডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে গডজ়িলাকে নিয়ে ছবি তৈরি করা হয়।
এমনকি, গডজ়িলার প্রতিপক্ষ হিসাবে কিং কং নামের একটি দানব চরিত্রকেও দেখানো শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে বক্সঅফিসে ব্যবসা করে চলেছে সেই ছবিগুলিও। তবে, ষাটের দশকে মুক্তি পাওয়া সেই ছবি হারিয়ে যাওয়ার পরে আর বলিউডে গডজ়িলার কোনও ভারতীয় সংস্করণ দেখা যায়নি।