প্রযোজক থেকে পরিচালক! দেবের দীর্ঘ যাত্রায় ‘কনস্ট্যান্ট’ শুধু শুভশ্রী, ১৭ বছরের বন্ধুত্ব ঠিক কেমন ছিল?
২০০৯ সাল থেকে দেব-শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় জুটির যাত্রা শুরু হয় টলিপাড়ায়। মাঝের ১৭ বছরে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তাঁদের সম্পর্ক। ফিরে দেখা যাক যুগলের ‘ফিল্মি’ সফর।
খোঁপায় বেল ফুলের মালা, সাদা শাড়িতে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। আর নায়িকার পোশাকে রং মিলিয়ে সেজেছেন নায়ক, প্রযোজক তথা পরিচালক দেব। মে মাসের শেষ রবিবার হল ‘দেশু ৭’-এর মহরত। ‘হিট’ জুটিকে পাশাপাশি দেখে আনন্দে আত্মহারা অনুরাগীরা।
১০ বছর পরে আবার একসঙ্গে নতুন ছবির শুটিং করবেন দেব-শুভশ্রী। মাঝের ১০ বছরে দু’জনের জীবন অনেক বদলে গিয়েছে। ২০১৬-তে শুটিং হওয়া ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পায় ২০২৫-এ। তার পর থেকে আবার ‘দেশু’ জুটির একসঙ্গে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
২০২৫-এ শেষে শুভশ্রীর সঙ্গে নতুন কাজের ঘোষণা করেন প্রযোজক দেব। সহকর্মী, বন্ধু হিসাবে তাঁদের যাত্রা নয় নয় করে কম হল না। মাঝে মান-অভিমানের পালায় সময় বয়ে গিয়েছে অনেকটাই।
সালটা ২০০৯। সেই সময় শুভশ্রী টলিউডে নতুন মুখ। অন্য দিকে দেব তখন অভিনয় করে ফেলেছেন ‘আই লভ ইউ’, ‘প্রেমের কাহিনি’র মতো ছবিতে। ‘রোম্যান্টিক’ নায়ক হিসাবে অনুরাগীদের মনে ধীরে ধীরে মনে জায়গাও তৈরি করে ফেলেছেন অভিনেতা।
সেই সময় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ‘চ্যালেঞ্জ’ ছবির মাধ্যমে পর্দায় আগমন নতুন জুটি দেব-শুভশ্রীর। নৌকায় নতুন জুটির রোম্যান্স প্রথম ঝলকেই মন জয় করেছিল অনুরাগীদের।
আরও পড়ুন:
অনুরাগীদের মনে গুনগুন করত ‘দেখেছি তোমাকে শ্রাবণে’। শোনা যায়, এই সিনেমার পরে নায়ক-নায়িকার ব্যক্তিগত জীবনেও তৈরি হয়েছিল বিশেষ বন্ধুত্ব।
সেই সময়ে একের পর এক ছবিতে দর্শক দেখেছিলেন দেব এবং শুভশ্রীকে। এমনকি, তখন অন্দরে ফিসফাস শুরু হয়, ব্যক্তিগত সমীকরণের কারণেই নায়ক-নায়িকা বার বার একসঙ্গে অভিনয় করছেন।
‘চ্যালেঞ্জ’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৯ সালে। সেই একই বছরে মুক্তি পায় ‘দেশু’ জুটির ছবি ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’। এই ছবিটি টলিউডে জায়গা আরও পাকা করে দেয় দেব-শুভশ্রী জুটির।
কিন্তু ২০০৯-এর পরে প্রায় দু’বছর এই জুটিকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যায়নি। শোনা গিয়েছিল, সেই সময় নায়িকা তথা শুভশ্রী বাদ পড়েছিলেন অনেকগুলো ছবি থেকে। তার পরে নাকি ‘বন্ধু’ দেবের তৎপরতাতেই নতুন কাজের কথা শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
দু’বছরের ব্যবধানে ‘রোমিও’ ছবির মাধ্যমে আবার পর্দায় ফেরেন শুভশ্রী। বিপরীতে আবার সেই দেব। এই ছবিতে নিজের চেহারা, লুক-এ আদ্যোপান্ত বদল এনেছিলেন নায়িকা, যা রীতিমতো প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক এবং সমালোচক মহলে।
তার আগে থেকেই অবশ্য দেব-শুভশ্রীর প্রেমের কাহিনিতে সরগরম ছিল টলিপাড়া। যদিও জনসমক্ষে নিজেদের প্রেমের কাহিনি কখনও স্বীকার করেননি তাঁরা। বরং বরাবরই ভাল বন্ধু বলে এড়িয়ে গিয়েছেন।
সেই সময়ে প্রযোজকেদের তালিকাতেও প্রথম সারিতে ছিলেন দেব-শুভশ্রী জুটি। বেশ কিছু জায়গায় আমন্ত্রিত হিসাবেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁদের।
২০১২ সালে ‘দেশু’ জুটির ‘খোকাবাবু’ও বক্সঅফিসে বিপুল সাড়া ফেলেছিল। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩-তে মুক্তি পেয়েছিল ‘খোকা ৪২০’। শোনা যায়, এই ছবির পর থেকেই তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়।
নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে না কথা বললেও, তাঁদের বন্ধুত্বে ভাঙন, দূরত্ব নিয়ে বিপুল লেখালেখি হয়েছিল সেই সময়ে। তার পরেও অবশ্য একসঙ্গে কাজ করেছেন দেব এবং শুভশ্রী।
অনেক সাক্ষাৎকারেই দেব বলেছেন যে, তিনি শুভশ্রীকে কথা দিয়েছিলেন তাঁর প্রথম প্রযোজিত ছবিতে নায়িকা হবেন নায়িকা। সেই কথামতোই ‘ধূমকেতু’ ছবিতে নায়িকা হিসাবে সই করানো হয় শুভশ্রীকে।
তত দিনে দেব-শুভশ্রীর মাঝে অনেকটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তারই মাঝে রুক্মিণী মৈত্রের সঙ্গে দেবের ‘বিশেষ’ বন্ধুত্বের গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে
কিন্তু যেমনটা কথা দিয়েছিলেন, ২০১৬-তে সেই মতো শুভশ্রীকে নিয়ে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালিত ‘ধূমকেতু’র শুটিং করেন দেব। সেই ছবিতে প্রযোজক হিসাবে দেখা গিয়েছিল নায়কের নাম। সঙ্গে প্রযোজনার দায়িত্ব সামলেছিলেন প্রযোজক রানা সরকারও।
কিন্তু অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু সমস্যার কারণে সেই ছবি তখন মুক্তি পায়নি। ২০১৬-এ তৈরি হওয়া ছবি মুক্তি পায় ২০২৫ সালে।
মাঝে এতগুলো বছরে দেব আরও পোক্ত হয়েছেন প্রযোজক হিসাবে। শুভশ্রীও ঘর পেতেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে। তাঁদের দুই সন্তান।
২০১৬’র পরে আর কোথাও একসঙ্গে দেখা যায়নি দেব এবং শুভশ্রীকে। তাই ২০২৫-এ যখন ‘ধূমকেতু’ মুক্তির দিনক্ষণ ঠিক হয়, তখন থেকেই সবার মনে প্রশ্ন ছিল আবার কি একসঙ্গে দেখা যাবে ‘দেশু’ জুটিকে?
সবার ইচ্ছা, অনুরাগীদের ইচ্ছায় ‘ধূমকেতু’র প্রচার ঝলকের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাতে হাত ধরে মঞ্চে ধরা দেন দেব এবং শুভশ্রী।
তার পর থেকেই ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়েছে অনুরাগীদের। সেই মতো ‘দেশু ৭’ ছবির ঘোষণা করেন দেব। উল্লেখ্য, পরিচালক দেবের প্রথম নায়িকাও হলেন শুভশ্রী। যেমনটা প্রযোজক দেবের প্রথম নায়িকা ছিলেন শুভশ্রী। এ কি নিছকই কাকতালীয়! তা অবশ্য বলা কঠিন।