×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

বাগদানের পরে ভাঙে সম্পর্ক, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে কাজ চাইছেন অনুপম খেরের সৎ ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ নভেম্বর ২০২০ ২২:০৮
শৈশবেই বিচ্ছেদ বাবা মায়ের। কিন্তু তার ফলে তাঁর ছোটবেলা বিধ্বস্ত হয়নি। বরং তাঁকে সাদরে স্বাগত জানানো হয়েছে মায়ের দ্বিতীয় সংসারে। সেখানে সৎ বাবা অনুপম খেরের কাছেই অভিনয়শিক্ষার হাতেখড়ি। পাশে পেয়েছেন, মা অভিনেত্রী কিরণ খেরকে। তারপরেও বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে ব্যর্থ সিকন্দর খের।

কিরণ খেরের প্রথম পক্ষের স্বামী গৌতম বেরি ছিলেন পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁদের একমাত্র সন্তান সিকন্দরের জন্ম হয় ১৯৮৪-র ৩১ অক্টোবর। পরের বছরই বিচ্ছেদ হয়ে যায় গৌতম-কিরণের। কিরণ বিয়ে করেন অনুপমকে।
Advertisement
সিকন্দরকে দত্তক নেন অনুপম। ‘খের’ পদবিই ব্যবহার করেন সিকন্দর। অনুপমের ওয়ার্কশপে অভিনয় শিখেছেন তিনি। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন অভিষেক বচ্চন, হৃতিক রোশন এবং উদয় চোপড়া।

পাশাপাশি, দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতেও কোর্স করেছেন তিনি। তার আগে সিকন্দরের পড়াশোনা দেহরাদূনের দূন স্কুলে। বলিউডে সিকন্দরের আত্মপ্রকাশ ২০০৮ সালে। অভিনয় করেন থ্রিলার ছবি ‘উডস্টক ভিলা’-য়।
Advertisement
এর পর গত ১২ বছরে কয়েকটি মাত্র ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে তিনি ব্যর্থ। সিকন্দরের বাকি ছবি হল ‘সামার ২০০৭’, ‘খেলেঁ হম জী জান সে’, ‘প্লেয়ার্স’, ‘ঔরঙ্গজেব’, ‘তেরে বিন লাদেন: ডেড অর অ্যালাইভ’, ‘মিলন টকিজ’, ‘রোমিয়ো আকবর ওয়াল্টার’, ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’।

অক্ষয়কুমার এবং ক্যাটরিনা কইফ অভিনীত ‘সূর্যবংশী’-তেও আছেন সিকন্দর। চলতি বছরেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা আবহে এখনও এই ছবি হলে আসেনি।

অথচ বলিউডে সিকন্দরের সূত্রপাত আরও ভাল হতে পারত। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দিল চাহতা হ্যায়’-তে তাঁর অভিনয় করার কথা ছিল ‘সমীর’-এর চরিত্রে। কিন্তু পরে সেই সুযোগ চলে যায় সইফ আলি খানের কাছে।

সিকন্দরের প্রতিভা বা কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে কোনও দিন কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেননি। ‘তেরে বিন লাদেন: ডেড অর অ্যালাইভ’ ছবির জন্য তিনি ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। বিসর্জন দিয়েছিলেন মাথার চুল।

কিন্তু তার পরেও নায়ক বা চরিত্রাভিনেতা, কোনও দিকেই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেননি সিকন্দর। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন টেলিভিশন সিরিজ এবং ওয়েব সিরিজেও।

টেলিভিশন এবং ওয়েবে তাঁর কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘২৪’, ‘সেন্স ৮’ এবং ‘আর্যা’। কিন্তু এই দু’টি মাধ্যমেও প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা তাঁর কাছে অধরাই থেকে গিয়েছে।

কেরিয়ারের মতো ব্যক্তিগত জীবনেও সিকন্দর ধাক্কা খেয়েছেন। ২০১৬ সালে তাঁর এনগেজমেন্ট হয় প্রিয়া সিংহের সঙ্গে। কয়েক মাস পরে সে বছরেই তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সিকন্দরের প্রাক্তন প্রেমিকা প্রিয়া সম্পর্কে সোনম কপূরের মাসতুতো বোন হন।

তার আগে প্রিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আশিস মহুবনীর সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস আগেই মৃত্যু হয় আশিসের। এর পর প্রিয়ার সম্পর্ক তৈরি হয় সিকন্দরের সঙ্গে। কিছু দিনে মধ্যেই তাঁদের এনগেজমেন্ট হয়ে যায়।

ইন্ডাস্ট্রি যখন তাঁদের বিয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে, তখনই আচমকা পট পরিবর্তন। জানা যায়, সিকন্দর-প্রিয়ার সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে তাঁরা মুখ খোলেননি। তবে, শোনা যায়, মানসিকতা এবং জীবনযাত্রা দুই মেরুর হওয়ায় দু’জনে এই সম্পর্ক আর এগিয়ে নিয়ে যাননি।

সিকন্দরের সঙ্গে বিচ্ছেদের ৩ বছর পরে শিল্পপতি যশজিৎ এবং প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া কবিতার মেয়ে প্রিয়া বিয়ে করেন রণবীর বাত্রাকে। তবে সিকন্দর এখনও অবিবাহিত। জানিয়েছেন, তিনি নিজেই নিজের সঙ্গে সম্পর্কে আছেন। এবং জীবনের এই পর্যায়ে তিনি খুশি। বাগদানের পরেও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া নিয়ে কোনও আক্ষেপও নেই।

সম্প্রতি সিকন্দর ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি উদ্বিগ্ন চেহারার সেলফি দিয়েছেন। সঙ্গে শুধু দু’টো লাইন লেখা—‘আমার কাজের প্রয়োজন। আমি হাসতেও পারি’।

মা এবং সৎ বাবা দু’জনেই বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা। নিজেও ভাল অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। এরকম একজন কুশীলবের এরকম পোস্ট আলোড়ন তুলেছে নেটাগরিকদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে মাঝে মাঝেই নিজের ছবি পোস্ট করেন সিকন্দর। তাঁর বেশির ভাগ পোস্টেই থাকে রসিকতার ছোঁয়া। এ ছাড়াও নিজের অনেক পুরনো ছবি শেয়ার করেন তিনি। তবে তাঁর এই সাম্প্রতিক পোস্টকে সম্পূর্ণ রসিকতা হিসেবে দেখছেন না কেউ। মনে করা হচ্ছে, তাঁর কাছে যে সত্যিই কাজ নেই, সেই বাস্তব ছবি তুলে ধরতে চেয়েছেন এই অভিনেতা।