মেয়েরা মানুষ হয়ে জন্মায়। সমাজ তাদের ‘মেয়ে’ হিসেবে চিহ্নিত করে। জন্মের পর থেকেই তার মেয়েবেলা। যে মেয়েবেলায় পোশাকের রং থেকে চলনবলন সব কিছুতে বিভাজনরেখা টানা হয় মেয়ের স্বাভাবিক জীবনে। এই বিভাজন পিতৃতন্ত্রের, যা একটা মেয়ের বড় হয়ে ওঠাকে একই পরিবারের একটা ছেলের থেকে আলাদা করে।

এই বিভাজন ভাঙার সময় হয়ে এসেছে। আর এই ভাঙার কাজটা করতে চলেছে ম্যাজিক মোমেন্টস, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখনে।

‘‘মোহর এক পাশের বাড়ির মেয়ে। তার বাবা বিয়ের প্রেক্ষিতে মেয়েকে বড় করতে চান। ছেলে হলে তার পড়াশোনার জন্য টাকা রাখেন। মেয়ে হলে বিয়ের জন্য...’’, তাঁর নতুন ধারাবাহিকের মলাট খুলতে থাকেন লীনা।

না, শুধু এক মফসসলের মেয়ের গল্প বলবে না ‘মোহর’। এই ‘মোহর’-এ ধরা থাকবে সব মেয়ের মেয়েবেলা।

স্টার জলসা-য় রাত আটটা বাজলেই যে মেয়েকে দেখার জন্য পাগল আপামর দুনিয়া সেই ‘দেবী চৌধুরানী’ এ বার ‘মোহর’-এর ভূমিকায়। ‘‘নতুন কাজ। নিজেকে প্রচুর ভাঙতে হবে ‘মোহর’ হয়ে ওঠার জন্য। এত দিন পিরিয়ড ড্রামার সংলাপ, পোশাক সব কিছু থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চাইব আমার দর্শক যেমন দেবী চৌধুরানিকে ভালবেসেছে, মোহরকেও তেমনই আপন করে নেবে।’’ জলপাইগুড়ির আউটডোরে যেতে যেতে আনন্দবাজার ডিজিটালের সঙ্গে কথা বললেন দেবী চৌধুরানি ওরফে সোনা। মডেলিং ও বিজ্ঞাপনে কেরিয়ার শুরু হয়েছিল সোনার। ধারাবাহিকে লিড রোলে নিজের অস্তিত্বকে মজবুত করছেন তিনি।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় বেশ রাগী। ভেতরটা নরম। শিক্ষক মানুষ। ‘মোহর’ ধারাবাহিকের নায়ক প্রতীক সেন বললেন, ‘‘লীনাদি এই ধারাবাহিকে আমার নাম দিয়েছেন মহারাজ! বুঝতেই পারছেন, এই চরিত্রের কাছাকাছি যেতে হলে কতখানি পরিশ্রম করতে হবে। চরিত্রটা বাইরে কঠোর, ভেতরে মিঠে। নারকেলের মতো। দেখা যাক কী হয়! লীনাদি-শৈবালদার জুটির ধারাবাহিক ইন্ডাস্ট্রিকে যে ভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে তাতে মনে হয় ‘মোহর’-ও অন্য রকম মাত্রা নেবে’’, আউটডোরের পথে যেতে যেতে বললেন ‘অতিথি’ ছবির নায়ক প্রতীক সেন।

আরও পড়ুন: ‘স্বপ্নের মতো বিয়ে’, সাত পাকে বাঁধা পড়লেন টেলি দুনিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী

কলকাতায় পড়তে আসা মোহর কেমন করে নতুন প্রজন্মের কাছে এক লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠবে তার কাহিনি এই ধারাবাহিকের লক্ষ্য বলে জানালেন পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। এক বিশাল সংখ্যক মানুষের রোজের রুটিনে টেলিভিশন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। সেখানে শুধু বাস্তব ছবি তুলে ধরাই নয়, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রও তুলে ধরবে ‘মোহর’। বিবাহিত মহিলার লড়াইয়ের আলো হয়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্র ‘শ্রীময়ী’ যেমন দর্শকদের মন কেড়েছে তেমনই পাশের বাড়ির মেয়ের চেনা গল্পের অচেনা অন্ধকার সরিয়ে ‘মোহর’ কি মেয়েদের মধ্যে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা যোগাবে?

আরও পড়ুন: ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ জামা খুলে গান! লজ্জায় মুখ ঢাকলেন নেহা

তা জানতে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে রাত ৮টায় চোখ রাখতে হবে টেলিভিশনে মহারাজ আর মোহরের জুটিকে দেখার জন্য।