প্রায় ৭০ দিন টানা জেল খাটতে হয় পরিচালক বিক্রম ভট্টকে। সেই সময় অনেকেই এগিয়ে আসেন বিক্রমের জন্য। তবে চুপ ছিলেন মহেশ ভট্ট। কেন বিক্রমকে নিয়ে একটা শব্দও খরচ করেননি তিনি, জানালেন বিক্রম।
মহেশের দীর্ঘ দিনের সহযোগী বিক্রম ভট্ট। ছবি পরিচালনায় বিক্রমের হাতেখড়িও মহেশ ভট্টের হাত ধরেই। তার আগে ১৪ বছর বয়সে পরিচালক মুকুল আনন্দের সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন বিক্রম। তার পরে মহেশের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন বিক্রম। তবে পদবি এক হলেও মহেশ ও বিক্রমের মধ্যে কোনও পারিবারিক সম্পর্ক নেই। যদিও অনেকে সেটাই একসময় ভাবতেন।
আরও পড়ুন:
বিক্রমকে নিয়ে কোনও কথা না বলায় মহেশের প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই বিক্রমের। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে তিনি বলেন, ‘‘আমি যদি একটা চোরও হই, আমার প্রতি ওঁর স্নেহ এতটুকুও কমবে না। আমি চোর হলেও ছেলে বলেই ডাকবেন। মহেশ ভট্টের নীরবতা এবং দূরত্ব রাখার পিছনে একটি কারণ রয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আক্রমণাত্মক হওয়ার জন্য সময়টা উপযুক্ত ছিল না।”
বিক্রম আরও সংযোজন করে বলেন, ‘‘এই তো দিনকয়েক আগে তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। আমার বিশ্বাস, তিনি বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করতে বা উস্কে দিতে চাননি বলেই কোনও বিবৃতি দেননি এবং চুপ ছিলেন। তিনি যদি কিছু বলতেন, তা হলে মানুষ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হত এবং তাতে আমার আরও বেশি কষ্ট হত।’’
২০২৫-এর ডিসেম্বরের ঘটনা। ৩০ কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় রাজস্থান পুলিশ গ্রেফতার করেছিল পরিচালক বিক্রম ভট্টকে। ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে জামিন পান তিনি। উদয়পুরের সংশোধনাগারে নাকি বিভীষিকাময় দিন কাটিয়েছেন তিনি। তিনি ভেবেছিলেন জেলে হয়তো মরেই যাবেন। জেলে থাকাকালীন অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন বিক্রম। জ্বরও হয়েছিল তাঁর। হাসপাতালে যখন তিনি জ্বরে কাঁপছিলেন, কম্বল পাননি। এমনকি, একটা থার্মোমিটার জোটেনি তাঁর। দীর্ঘ দিন যন্ত্রণায় ভুগেছেন। প্রায় ১৫ দিন পরে টনক নড়ে পুলিশের। জেল থেকে ছাড়া পেতেই যেন নতুন জীবন ফিরে পান বিক্রম।