Advertisement
E-Paper

আলোচনায় ‘ভূত বাংলা’-র গান! কতটা নকলের পরেও তাকে ‘ট্রিবিউট’ বলা যায়, কোন সীমা পেরোলে তা হয় ‘চুরি’?

‘কালা ভূত গোরা ভূত, লম্বা ভূত, ছোটা ভূত’ এবং আরও কয়েকটি অংশ শ্রোতাকে মনে করিয়ে দিয়েছে ‘ভূতের রাজা দিল বর’ গানটির কথা। নকলের অভিযোগ ওঠার আগেই সমাজমাধ্যমে সঙ্গীত পরিচালক প্রীতম চক্রবর্তী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই গান আসলে সত্যজিৎ রায়ের ছবিকেই উৎসর্গ করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
‘ভূত বাংলা’র গানে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর ছাপ?

‘ভূত বাংলা’র গানে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর ছাপ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আলোচনায় ‘ভূত বাংলা’ ছবির গান ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’। গানের ‘কালা ভূত গোরা ভূত, লম্বা ভূত, ছোটা ভূত’ এবং আরও কয়েকটি অংশ শ্রোতাকে মনে করিয়ে দিয়েছে সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ছবির ‘ভূতের রাজা দিল বর’ গানটির কথা। নকলের অভিযোগ ওঠার আগেই সমাজমাধ্যমে সঙ্গীত পরিচালক প্রীতম চক্রবর্তী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই গান আসলে সত্যজিৎ রায়ের ছবিকেই উৎসর্গ করা হয়েছে। ছবির পরিচালক প্রিয়দর্শন ও নায়ক অক্ষয় কুমারের পক্ষ থেকে এটি তাঁর প্রতি একটি ‘ট্রিবিউট’। কিন্তু উৎসর্গ করে দিলেই কি দায়মুক্ত হওয়া যায়? সেই কাজ যদি আসল সৃষ্টির সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়, তবে কি তাকে আর স্বাধীন সৃষ্টি বলা উচিত?

প্রশ্নটা সহজ। গানের ঠিক কতটা অংশে মিল থাকলে তাকে ‘ট্রিবিউট’ বলা যায়? আর ঠিক কোন সীমা পার করলে তাকে ‘চুরি’ বা ‘নকল’ বলা হয়?

বিষয়টি যে চুরি মনে হতেই পারে, সে নিয়ে বোধ হয় আশঙ্কা ছিল একটি মহলে। সঙ্গীতকার প্রীতম কিন্তু একেবারে শুরুর দিকেই তাঁর সমাজমাধ্যমে গানটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “এই গানটি সত্যজিৎ রায়ের ছবিকে উৎসর্গ করেছেন প্রিয়দর্শন স্যর ও অক্ষয় কুমার।”

‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবির একটি দৃশ্য।

‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবির একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু ‘ট্রিবিউট’ বলতে চাইলেও ঠিক কতটা অংশ নকল করার ছাড় থাকে? সে কথা কি গান তৈরির আগে ভাবা হয়েছিল? প্রশ্ন নিয়ে যোগাযোগ করা হয় প্রীতমের সহযোগী দলের সঙ্গে। তবে উত্তর মেলেনি।

গানটি গেয়েছেন বাঙালি গায়ক আর্ভান। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই ভাবা ছিল গানটি উৎসর্গ করা হবে। তা মাথায় রেখেই গানের ওই অংশ তৈরি। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের ছবির আসল বাংলা গান এবং ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’-তে সম্পূর্ণ আলাদা স্বরলিপির ব্যবহার হয়েছে। খুব মন দিয়ে শুনলেই স্কেল ও সুরের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যাবে।”

প্রীতম তাঁর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’ গানটি ছবির নির্মাতা উৎসর্গ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ছবিকে।

প্রীতম তাঁর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’ গানটি ছবির নির্মাতা উৎসর্গ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ছবিকে। ছবি: সংগৃহীত

শ্রোতাদের থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে প্রীতমের তৈরি গানটি। কেউ কেউ ‘ট্রিবিউট’ হিসাবেই গানটি গ্রহণ করেছেন। তবে শ্রোতাদের অন্য অংশ ‘নকল’ করার অভিযোগও তুলে এনেছেন। এর আগেও প্রীতমের সুরে ‘বুলেয়া’, ‘ধুম মচালে’, ‘ভুল ভুলাইয়া’-র মতো গানের বিরুদ্ধে উঠেছিল নকলের অভিযোগ। ‘বুলেয়া’ গানের গিটারের একটি অংশ আমেরিকান রক ব্যান্ড ‘পাপা রোচ’-এর ‘লাস্ট রিসর্ট’-এর নকল বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু গানের প্রযোজকেরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, একে মোটেই সরাসরি নকল বলা যায় না। গিটারের একটি অংশেই কেবল ওই গানের ছাপ রয়েছে।

নকল করা নিয়ে অভিযুক্ত অবশ্য প্রীতম একা নন। নামী বহু সুরকারই আছেন। অনু মালিকের ‘দিল মেরা চুরায়া কিউঁ’, ‘রাজা কো রানি সে’-র মতো গানও রয়েছে। জনপ্রিয় ইংরেজি গান ‘লাস্ট ক্রিসমাস’-এর থেকে সুর নকল করে ‘দিল মেরা চুরায়া কিউঁ’ গানটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। স্বীকার করেননি অনু মালিক। সম্প্রতি সচেত-পরম্পরার গান ‘রাঞ্ঝা’-র বিরুদ্ধেও নকলের অভিযোগ ওঠে।

সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্রের অবশ্য বক্তব্য, “কতটুকু নকল করলে তাকে চুরি বলা যাবে না, তা হিসাব করে বলা যায় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কত কিছু হয়ে যাচ্ছে। তাই গান তৈরির নেপথ্যে উদ্দেশ্যটাই আসল।”

অনীক দত্তের ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর গানেও ছিল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর প্রভাব, জানান দেবজ্যোতি মিশ্র।

অনীক দত্তের ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর গানেও ছিল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর প্রভাব, জানান দেবজ্যোতি মিশ্র। ছবি: সংগৃহীত

‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিতে ব্যবহৃত নিজের তৈরি একটি গানের উদাহরণ দেন দেবজ্যোতি। তিনি বলেন, “ওই ছবিতে আমাদেরও একটি গান রয়েছে ‘সাদা ভূত, মোটা ভূত, কালো ভূত’। আমরাও তো সত্যজিৎ রায়ের থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। প্রীতমরাও বলেছেন, ওঁরাও উৎসর্গ করেছেন। গানটি শুনে আমার মনে হয়নি, কোনও ভাবে নকল করে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ওঁরা।”

‘ভূতের রাজা দিল বর’ গানটি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিত। তাই এর থেকে নকল করলে কেউ ধরতে পারবেন না, এমন ভাবার কোনও জায়গা নেই, বক্তব্য দেবজ্যোতির। তিনি বলেন, “প্রীতম নিজেও অনুপ্রাণিত আমাদের মতোই। তাই জেনে-বুঝে সুনিপুণ ভাবে ওই অংশকে গানের মধ্যে রেখেছে উৎসর্গ করার জন্যই। উৎসর্গের থেকে বড় কথা, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে তার ছাপ কিছুটা নিজেদের কাজে রাখলে আমাদের ভাল অনুভূতিও হয়।”

সম্প্রতি মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে ব্যান্ড ‘হুলিগানইজ়্ম’ তাঁদের একটি গানে ব্যবহার করেছে ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’র একটি সুর। মঞ্চের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কপিরাইট কোনও সমস্যা তৈরি করবে না, জানান অভিনেতা ও ওই ব্যান্ডের গায়ক অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এটা মঞ্চে আমরা করছি। কিন্তু এটা রেকর্ডে আমরা রাখব না। সাধারণত তাতেই সমস্যা হয়ে থাকে।”

গানের কপিরাইট লঙ্ঘন নিয়ে আইন কী বলছে? কতটা নকল করা যায়, কতটা করা যায় না? সেই প্রশ্নের উত্তরে সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজে নিযুক্ত আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অনুমতি না নিয়ে যদি কোনও গান নতুন করে প্রকাশ করা হয়, তা হলে তাকে অবশ্যই কপিরাইট লঙ্ঘন বলা হয়। তবে তার মধ্যেও কিছু শর্ত ও বিষয় থাকে। যেমন কোনও গানের কপিরাইটের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তা ফুরিয়ে গেলে সেই গান নিয়ে নতুন কাজ করা যায়। তবে সেটা প্রযোজ্য অবাণিজ্যিক কারণে বা গবেষণার জন্য।”

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর পুত্র সন্দীপ রায়। পরিচালকের কাজের স্বত্বাধিকার তাঁর কাছেই এখন।

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর পুত্র সন্দীপ রায়। পরিচালকের কাজের স্বত্বাধিকার তাঁর কাছেই এখন। ছবি: সংগৃহীত

মূল গানটির স্বত্ব যাঁর কাছে আছে, তাঁর থেকে অনুমতি নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি বলে জানান আইনজীবী। তাঁর কথায়, “গানের সুর বা কথার নকল হয়েছে কি না, তা সাউন্ডট্র্যাক শুনে সঙ্গীত বিশেষজ্ঞেরা বলতে পারবেন। কাউকে উৎসর্গ করতে হলেও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেখানেও গানটি আসলে যাঁর, তাঁকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে উল্লিখিত গানটির ক্ষেত্রে গানের স্বত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা সঙ্গীত বিশেষজ্ঞেরাই বলতে পারবেন।”

‘ভূত বাংলা’ ছবির পক্ষ থেকে ‘ভূতের রাজা দিল বর’ গানের অংশ ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় সত্যজিৎ-পুত্র তথা পরিচালক সন্দীপ রায়ের সঙ্গে। স্বত্ব এখন তাঁর কাছেই। জানা যায়, কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সন্দীপ রায়ের বক্তব্য, “দুটো তো মাত্র লাইন। এর জন্য অনুমতির প্রয়োজন সত্যিই পড়ে না। আমরা ওটাকে ট্রিবিউট হিসাবেই দেখছি। অযথা অনুমতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করার কোনও কারণ নেই।”

তবে এর আগে অন্য এক ছবিতে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের গান ‘নকল’ করার কথা উঠেছিল সেই প্রীতমের বিরুদ্ধেই। সে বিষয়টি ভাল ভাবে নেননি শিল্পীরা এবং গানের স্বত্বাধিকারীরা। ‘গ্যাংস্টার’ ছবিতে প্রীতমের ‘ভিগি ভিগি সি হ্যায় রাতে ভিগি ভিগি’ গানটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গানের সুর ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের গান ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে’-র হিন্দি সংস্করণ বলেই পরিচিত। এই প্রসঙ্গে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র তথা শিল্পী গৌরব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাবার সব গানের কপিরাটই মায়ের কাছে আছে। একটা সময়ে অদ্ভূত ভাবে গানগুলি বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। আসলে প্রতিটি শিল্পীর কপিরাটই সম্পর্কে সবটা জেনে রাখা উচিত। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘পৃথিবীটা নাকি’ গানের হিন্দি সংস্করণ হয়ে গেল। তার পরেই সব ক’টি গানের উপর কপিরাইট করে রাখি আমরা।”

‘গ্যাংস্টার’ ছবিত ‘ভিগি ভিগি সি হ্যায় রাতে ভিগি ভিগি’ গানটি জনপ্রিয় হয়। গৌতম চট্টোপাধ্যায় তথা ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র ‘পৃথিবীটা নাকি’র সঙ্গে এই গানের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

‘গ্যাংস্টার’ ছবিত ‘ভিগি ভিগি সি হ্যায় রাতে ভিগি ভিগি’ গানটি জনপ্রিয় হয়। গৌতম চট্টোপাধ্যায় তথা ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র ‘পৃথিবীটা নাকি’র সঙ্গে এই গানের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

কোনটা উৎসর্গ করা আর কোনটা নকল বা চুরির উদ্দেশ্য, তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে সুরকার জয় সরকারের। তাঁর কথায়, “নকল বা চুরির অর্থ, সেই গানে কোনও নিজস্বতা থাকবে না, তাতে আসল স্বত্বাধিকারীকে কৃতিত্ব দেওয়া হয় না। নকলের মধ্যে কোনও সৃজনশীলতা থাকে না। আর উৎসর্গ করলেও, আসল গান যাঁর, তাঁর উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।”

প্রীতমের ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’ গানটি শুনেছেন জয়। তাঁর ভালও লেগেছে। বাণিজ্যিক ছবির গান হিসাবে মনোরঞ্জন করেছে এটি, মনে হয়েছে তাঁর। তাঁর কথায়, “আমি বা প্রীতম, আমরা যে বয়সের, তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই প্রায় ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ঢুকে বসে আছে। তাই অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে বিষয়টি এসেছে। তবে উৎসর্গ করলেও গানে কোথাও সত্যজিৎ রায়ের কথা উল্লেখ করা উচিত ছিল।”

এক সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের উপরেও কপিরাইট নিয়ে দীর্ঘ তর্কবিতর্ক হয়েছে। এখনও কপিরাইটহীন কোনও গানকেও নতুন করে তৈরি করার ক্ষেত্রে নানা বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ‘পুরানো সেই দিনের কথা’, ‘এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’-এর মতো গানও রয়েছে সেই তালিকায়। এই বিষয়টিকে ‘স্যাম্পলিং’ বলছেন পরিচালক কিউ। কপিরাইট সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, শুধু রেকর্ডিং লেবেলের জন্যই কপিরাইট প্রযোজ্য। এতে শিল্পীর কোনও লাভ হয় না। এর পরেই ‘স্যাম্পলিং’ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা বহু পুরনো একটি শব্দ। কৃষ্ণাঙ্গেরা যখন সঙ্গীত তৈরি করছিলেন, তাঁদের কাছে কিছুই ছিল না। চারপাশে যা যা রয়েছে, সেখান থেকেই তাঁরা নানা কিছুর নির্যাস (এক্সট্র্যাক্ট) বার করেই নিজেদের সঙ্গীত তৈরি করেন। এই পদ্ধতিটাই হল স্যাম্পলিং। আমার ধারণা, রবীন্দ্রনাথ যা করছিলেন, সেটাও স্যাম্পলিং। বেথোভেন-এর অংশ ব্যবহার করে গান বাঁধলেন, যা খুবই স্বাভাবিক। পুরো গান নকল না করে।”

পরিচালক কিউ জানান, রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু গানে বেথোভেনের সঙ্গীতের প্রভাব রয়েছে। একে কিউ ‘স্যাম্পলিং’ বলছেন।

পরিচালক কিউ জানান, রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু গানে বেথোভেনের সঙ্গীতের প্রভাব রয়েছে। একে কিউ ‘স্যাম্পলিং’ বলছেন। ছবি: সংগৃহীত

পুরো গান নকল না করে কিছু অংশের নির্যাস নিয়ে নতুন গান তৈরি করা— এই পদ্ধতি খুব স্বাভাবিক ভাবেই দেখছেন কিউ। এই প্রসঙ্গে গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য বক্তব্য, “কতটা নকল করা যাবে, কতটা করা যাবে না, এই মাপটা ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন। এটা খুবই ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির উপরই নির্ভর করে।”

সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কপিরাইট থাকলেও, কোনও সুর বা কোনও তাল অথবা বাদ্যযন্ত্রের কতটা নকল করলে তা বৈধ, এই আলোচনা তর্কাতীত। কোন নকল বৈধ আর কোনটাই বা অবৈধ, সেই পার্থ্যকের মধ্যে যে নানা সূক্ষ্ম স্তর রয়েছে, তা স্পষ্টই অনুমেয়।

Bhoot Bangla Pritam Goopy Gyne Bagha Byne Akshay Kumar Satyajit Ray Sandip Ray
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy