২৭ মে বুধবার দুপুরের ঘটনা। হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন পরিচালক অনীক দত্ত। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পরে হাসপাতালের তরফে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এর পরেই নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়েছে সর্বত্র।
কেউ কেউ জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন পরিচালক। অনীকের রহস্যমৃত্যু প্রসঙ্গে কী বললেন মানিকতলা থানার ওসি তথা তদন্তকারী আধিকারিক দেবাশিস দত্ত? তিনি বলেন, “পরিচালক আত্মহত্যা করেছেন, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তিনি স্ত্রীর ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়েননি। সোজা উঠে যান ছাদে। চটি খুলে, পাঁচিলের উপরে উঠে ঝাঁপ দেন। যেখানে পড়েছেন, উপর থেকে ঝাঁপ দিলে ওখানেই পড়ার কথা। তাঁকে যে কোথাও সরানো হয়েছে এমন নয়। দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরিচালক আত্মহত্যাই করেছেন।” ফরেন্সিক রিপোর্টের তথ্যও আত্মহত্যাকে মান্যতা দিয়েছে। এবং সুইসাইড নোটের সঙ্গে মিলে গিয়েছে পরিচালকের হাতের লেখা।
নিজের বাড়ির বদলে কেন স্ত্রীর বাড়ি বেছে নিলেন পরিচালক? সে কথা অবশ্য জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, পরিচালকের দেহে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মাথার বাঁ দিকের খুলির হাড় ভাঙা। বাঁ দিকের পাঁজর ভেঙেছে। বাঁ দিকের পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পরিচালকের বাঁ দিকের কোমরও ভেঙে গিয়েছে। মুখের বাঁ দিক, পিঠ ও কোমরে তীব্র ঘর্ষণের চিহ্ন মিলেছে। এমনকি, ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধেছিল বলেও প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে। পরিচালক চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় আবাসন সংলগ্ন গাছের ডালসমেত ভেঙে মাটিতে পড়েন।
আরও পড়ুন:
পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছিল, একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়েছিল যেটি মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা। মেয়ে সুইডেনে থাকেন। কাউকে দোষ দেওয়া হয়নি নোটে। ছাদে একটি ম্যাগাজ়িনের মধ্যে একটি খাম থেকে মিলেছিল সেই নোট। সিসিটিভিতে পুরো ঘটনাটি দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে ঢুকে প্রাক্তন স্ত্রীর ফ্ল্যাটে ঢোকেননি, বরং সোজা ছাদে উঠে যান অনীক। তার পরই ঘটে যায় এই অঘটন। শুক্রবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পরিচালকের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন মেয়ে ঐশী।