‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’! ইরফান খান বুঝি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্ত ছিলেন? জানার উপায় নেই। তবে তাঁর ভাবনায় যে রবীন্দ্রনাথের ছোঁয়া আছে, তার আভাস তাঁর কথাতেই পাওয়া গিয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, ‘খান’ পদবির জন্য দর্শক তাঁকে ভালবাসবেন, এটা কখনও চাননি। তিনি তাঁর কাজের জন্য পরিচিতি পান, এটাই অভিনেতার স্বপ্ন।
সাল ২০১৬। ইরফান মুখোমুখি এক সংবাদমাধ্যমের। সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন তিনি ইরফান খান থেকে শুধু ইরফান? ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব দেখাতেই কি এই পদক্ষেপ? সে দিন অভিনেতা বলেছিলেন, “সচেতন ভাবেই বাদ দিয়েছি। ‘খান’ পদবি দেখে দর্শক আমায় ভালবাসুক, কাজ দেখুক, চাইনি কখনও।” জাতি বা ধর্ম নয়, তাঁর পরিচয় হোক তাঁর কাজ— এটাই চেয়েছিলেন তিনি।
ইরফানের আরও মনে হয়েছিল, জন্মসূত্রে তিনি যে জাতি বা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করুন না কেন, সেটাই তাঁর শেষ পরিচয় নয়। তিনি এবং তাঁর পরিবারের সব সদস্যের ভাবনা বা চাওয়া-পাওয়া এক নয়। অভিনেতা অনেক জায়গায় গিয়ে দেখেছেন, তাঁর পূর্বপুরুষেরা কী কী কাজ করেছেন, সেই কথা মনে করে তাঁর ‘তুল্যমূল্য’ বিচার হচ্ছে! এই মানসিকতা তাঁর ভাল লাগেনি। সেই কারণেই একটা সময়ের পরে তিনি নামের সঙ্গে ‘খান’ পদবি ব্যবহার করতেন না।
একই ভাবে ইরফান তাঁর নামের বানানে দুটো ‘আর’ ব্যবহার করতেন। তার নেপথ্য কারণ বেশ মজার। অভিনেতা হাসতে হাসতে জানিয়েছিলেন, ‘ডাবল আর’ ব্যবহার করায় নাম উচ্চারণের সময় জিভে বাড়তি জোর লাগে। এটা তাঁর কাছে খুবই উপভোগ্য। তাই তিনি নামের বানানে বাড়তি ‘আর’ অক্ষরটি যোগ করেছেন।