‘ধুরন্ধর’ ও ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভে়ঞ্জ’-এর পরে সাফল্যের চূ়ড়ায় রণবীর সিংহ। বক্সঅফিস সাফল্য এখনও উপভোগ করছেন। এর মধ্যেই হঠাৎ ‘নিষিদ্ধ’ হলেন রণবীর সিংহ। অভিযোগ, ফরহান আখতারের ছবি ‘ডন ৩’র চুক্তিতে সই করার পরেও তিনি ছবিটি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। এর জেরে ক্ষতি হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে এফডব্লিউআইসিই (ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ়) ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’-এর জেরে কতটা ক্ষতি হবে রণবীরের?
কারা এই এফডব্লিউআইসিই?
ভারতের চলচ্চিত্র ও ছোটপর্দার জগতে কর্মী ও টেকনিশিয়ানদের নিয়ে ভারতের অন্যতম বড় সংগঠন হল ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ়। এই সংস্থাটি ১৯৫৮ সালে তৈরি হয়েছিল, যার প্রধান কার্যালয় মুম্বইয়ে। জানা যায়, এই সংগঠনে রয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষের বেশি কর্মী। এই সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্পটবয়, প্রসাধনী শিল্পী, জুনিয়র আর্টিস্ট, নৃত্যশিল্পী, স্টান্ট পারফর্মার, সম্পাদক, লাইটম্যান, চিত্রগ্রাহক, পোশাকশিল্পী, লেখক, সহকারী পরিচালক-সহ অন্য কলাকুশলীরাও।
মূলত চলচ্চিত্রজগতের কর্মীদের অধিকার, পারিশ্রমিক এবং কাজের পরিবেশ রক্ষা করার কাজ করে এফডব্লিউআইসিই। এই সংগঠন কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা, পারিশ্রমিক দিতে বিলম্ব, চুক্তিভঙ্গ এবং শিল্পী-প্রযোজকদের মধ্যে উদ্ভূত নানা সমস্যা সমাধানের জন্য হস্তক্ষেপ করে। এফডব্লিউআইসিই-এর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আইন এনে চলচ্চিত্রজগতের লোকজনের অধিকার সুরক্ষিত করাও তাদের কাজ।
তবে বলিউডের বেশিরভাগ অভিনেতা সরাসরি এফডব্লিউআইসিই-র সদস্য নন। যদিও এই সংগঠন মূলত এই জগতের কর্মী এবং টেকনিশিয়ানদের প্রতিনিধিত্বই করে। বরং অভিনেতাদের অন্যতম বড় সংগঠন হল ‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান এবং রণবীর সিংহের মতো বহু জনপ্রিয় অভিনেতা এফডব্লিউআইসিই-এর বদলে এই উল্লিখিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
‘ধুরন্ধর’-এর জন্য প্রশংসিত অভিনেতা। ছবি: সংগৃহীত।
‘ডন ৩’ নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যা মিটমাট করতে সহযোগিতা করেননি রণবীর। এই অভিযোগ এনেছে এফডব্লিউআইসিই। তার পরেই ‘ধুরন্ধর’ তারকার উপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে এই সংস্থা। তবে এর জন্য সত্যিই কি রণবীর কাজ করতে পারবেন না? ঠিক কী প্রভাব পড়বে?
এফডব্লিউআইসিই গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে অনুরোধ করেছে, কেউ যেন রণবীরকে কাজে না নেন, তাঁর সঙ্গে কেউ যেন কোনও রকমের কাজ না করেন। বলিউডে ছবি নির্মাণের বড় অংশই নির্ভর করে টেকনিশিয়ানদের উপর। তাই তাঁরা কাজ করতে রাজি না হলে ভবিষ্যতে রণবীরের কাজের উপর যথেষ্ট প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা একান্তই ওই সংগঠনের তরফে। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনও রকমের নিষেধাজ্ঞা নেই তাঁর উপর। তাই রণবীর কাজ চালিয়েই যেতে পারেন। কিন্তু কলাকুশলীদের সিদ্ধান্তের উপর সবটা নির্ভর করছে বলে থমকে যেতে পারে তাঁর আসন্ন ছবিগুলি।
ফরহানের ‘ডন ৩’ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। ছবি: সংগৃহীত।
এই নিষেধাজ্ঞার মাঝেই রণবীর মঙ্গলবার পৌঁছন কর্নাটকের চামুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে। সেখানে পুজো দেন তারকা। কয়েক মাস আগে কর্নাটকের দেবদেবীদের অপমান করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি মিলেছে। সেই কারণেই নাকি চামুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে যান রণবীর। তবে বিমানবন্দরে ছবিশিকারিদের সামনে ‘নিষিদ্ধ’ হওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
এরই মধ্যে তারকার মুখপাত্র বিষয়টি নিয়ে রণবীরের নীরবতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। মুখপাত্রের বক্তব্য, “রণবীর সম্পূর্ণ ইন্ডাস্ট্রি এবং ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে গভীর ভাবে সম্মান করেন। ‘ডন ৩’ নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবেই নীরব থেকেছেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, পেশাগত আলোচনা পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সামলানো উচিত।”
‘ডন ৩’ নিয়ে ঠিক কী সমস্যা তৈরি হয়েছিল?
২০২৩ সালে খবর ছড়ায়, ফরহান পরিচালিত ‘ডন ৩’-তে অভিনয় করবেন রণবীর। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে নাকি ছবি থেকে বেরিয়ে যান রণবীর। কিন্তু তত দিনে নাকি ফরহানের প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট’ ৪৫ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন। প্রযোজনা সংস্থা তাই এফডব্লিউআইসিই-র দ্বারস্থ হয়েছিল। সব কিছু দেখেশুনে এফডব্লিউআইসিই-র বক্তব্য, প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে অভিনেতাকে সহযোগিতা করতে হবে এবং ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবেই উঠবে নিষেধাজ্ঞা।
এই বিতর্কে রণবীরের অনুরাগীরা মনে করছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যের জন্যই এই ভোগান্তি হচ্ছে অভিনেতার। তবে বিপরীতে আর একদল নেটাগরিকের বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও এ ভাবে ছবি থেকে বেরিয়ে যাওয়া যায় না।