×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৫ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

সুইসাইড নোটে অভিনেতা নবীন নিশ্চলকে অভিযোগে বিদ্ধ করেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৯ মার্চ ২০২০ ১৭:৪৩
সুদর্শন ও মার্জিত। তাঁর ব্যক্তিত্বের এই দু’টি দিক মুগ্ধ করেছিল ইন্ডাস্ট্রিকে। অনেকেই আশা করেছিলেন, অভিনয়ের যাত্রাপথে তাঁর সফর দীর্ঘ হবে। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে অকালেই হারিয়ে যান নবীন নিশ্চল।

নবীনের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৮ মার্চ। বেঙ্গালুরুর মিলিটারি স্কুলের পরে তাঁর পড়াশোনা কিং জর্জ রয়্যাল ইন্ডিয়া মিলিটারি কলেজ থেকে। অভিনয়ের নেশা এর পর তাঁকে নিয়ে যায় পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-য়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণপদক পেয়ে উত্তীর্ণ হন নবীন।
Advertisement
১৯৭০ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘সাওন ভাদো’। বিপরীতে নায়িকা ছিলেন রেখা। দু’জনেরই এটা ছিল প্রথম ছবি।

বেশ কিছু সুপারহিট ছবির নায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য হল ‘ভিক্টোরিয়া নম্বর ২০৩’, ‘ঢুনঢ’, ‘বুডঢা মিল গ্যয়া’, ‘মেরে সজনা’, ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’, ‘খঞ্জন’, ‘প্রেম ধরম’, ‘লাভার বয়’, ‘মেজর সাব’, ‘আক্রোশ’, ‘আ অব লট চলে’, ‘হিন্দুস্তান কি কসম’, ‘খোসলা কা ঘোসলা’ এবং ‘আশিক বনায়া আপনে’।
Advertisement
‘বুডঢা’ মিল গয়া’ ছবিতে কিশোর কুমারের কণ্ঠে এবং নবীন নিশ্চলের উপর চিত্রায়িত ‘রাত কলি খোয়াব মেঁ’ এবং ‘ভলি ভলি সি এক সুরত’ গানদুটি চিরকালীন হিন্দি রোমান্টিক গানের মধ্যে অন্যতম।

তবে নায়ক বা চরিত্রাভিনেতা, কোনও ভূমিকাতেই বলিউডের তারকা হয়ে উঠতে পারেননি নবীন। এক সময় তাঁকে তুলনা করা হত রাজেশ খন্নার সঙ্গে। কিন্তু রাজেশের স্টারডমের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি নবীন। আবার, অ্যাকশন ছবির সঙ্গে মানায়নি তাঁর রোমান্টিক ভাবমূর্তি।

ফলে অ্যাকশন ছবির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ ক্রমেই কমে আসতে থাকে। নবীন নিশ্চলের শেষ ছবি ‘ব্রেক কি বাদ’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১০ সালে।

বাধ্য হয়ে নবীনকে বেছে নিতে হয় টেলিভিশন। বেশ কিছু জনপ্রিয় টেলি সিরিজে নবীন ছিলেন পরিচিত মুখ। তাঁর জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজগুলি হল ‘দেখ ভাই দেখ’, ‘ডাল মেঁ কালা’ এবং ‘ফরমান’।

পর্দার বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও নবীন নিশ্চল ছিলেন বিধ্বস্ত। তাঁর প্রথম স্ত্রী নীলিমা ছিলেন দেব আনন্দের আত্মীয় এবং শেখর কপূরের বোন। নবীনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে দুই সন্তানকে নিয়ে চলে যান নীলিমা।

নীলিমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে ২০০৬ সালে নবীন বিয়ে করেন গীতাঞ্জলিকে। কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় দাম্পত্যও মসৃণ ছিল না। পারিবারিক বিবাদের জেরে ২০০৬ সালে নবীন-গীতাঞ্জলি গৃহহীন হয়ে পড়েন।

আশির দশক থেকে মুম্বইয়ে একই বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন নবীন ও তাঁর ভাই প্রবীণ। সংবাদমাধ্যমে গীতাঞ্জলির দাবি, এই বাড়ি বানিয়েছিলেন নবীন। কিন্তু পরে আয়কর সংক্রান্ত কিছু সমস্যায় তিনি এই বাড়ি ভাই প্রবীণকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

গীতাঞ্জলির অভিযোগ, পেশায় প্রযোজক প্রবীণ তাঁর দাদার প্রতি কোনও সহমর্মিতা দেখাননি। কাগজেকলমে বাড়ির মালিক হওয়ার জেরে তিনি নবীন ও গীতাঞ্জলিকে বাড়ি থেকে বার করে দেন। এরপর মাহিমে গীতাঞ্জলির মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল নিশ্চল দম্পতিকে।

এই মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারে্ননি নবীনের স্ত্রী গীতাঞ্জলি। গৃহহীন হওয়ার কয়েক দিন পরেই মাহিমে তাঁর মায়ের বাড়িতে উদ্ধার হয় গীতাঞ্জলির ঝুলন্ত দেহ। পুলিশের দাবি, তিনি আত্মঘাতী হয়েছিলেন।

সুইসাইড নোটে তিনি মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন নবীন ও তাঁর ভাই প্রবীণকে। গীতাঞ্জলি সেখানে লিখেছিলেন, দীর্ঘ দিন নবীন তাঁর উপর মানসিক অত্যাচার চালিয়েছিলেন। এমনকি, প্রবীণের হাতেও তাঁকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন গীতাঞ্জলি।

স্বামীকে সুরাসক্ত বলেও সুইসাইড নোটে চিহ্নিত করেন গীতাঞ্জলি। তাঁর আক্ষেপ ছিল, নেশার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার ইচ্ছেও ছিল না নবীনের। ফলে সব দিক দিয়ে হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন গীতাঞ্জলি।

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ হেফাজত হয় নবীনের। পরে তিনি নিজেও সংবাদমাধ্যমে স্বীকার করেন, গীতাঞ্জলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মসৃণ ছিল না। তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের কথাও ভাবছিলেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর পরে পাঁচ বছর জীবিত ছিলেন নবীন। কম হলেও অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০১১ সালের ১৯ মার্চ হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু সংবাদে চমকে যায় ইন্ডাস্ট্রি। মৃত্যুর আগে শেষ বার তিনি সঙ্গী প্রযোজককে শীতাতপ যন্ত্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছিলেন। এটাই ছিল তাঁর শেষ উচ্চারিত কথা।

নবীন নিশ্চলের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন ঋষি কপূর, বিপুল শাহ, দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল কোহালি, শাবানা আজমির মতো ব্যক্তিত্ব। তাঁদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে নবীনের সহজাত অভিনয় এবং মধুর ব্যক্তিত্বের কথা। সেইসঙ্গে শাবানা বলেন, বলিউডে যে সম্মান নবীন নিশ্চলের প্রাপ্য ছিল, তা তিনি পাননি।  (ছবি: আর্কাইভ ও ফেসবুক)