একাধিক নাটকের দল রয়েছে জেলা শহর বাঁকুড়ায়। কিন্তু নাটক নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত চর্চার মধ্যে রাখার মতো সংগঠনের অভাব রয়েছে। এই খামতির কথা ভেবেই শহরের একাধিক নাট্যসংস্থার কয়েক জন নাট্য ব্যক্তিত্ব আলাদা করে গড়ে ফেললেন বাঁকুড়া থিয়েটার অ্যাকাডেমি। যার পথ চলা শুরু হল সোমবার সন্ধ্যায়।
সেই উপলক্ষে সোমবার বাঁকুড়া বঙ্গবিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার সৌমিত্র বসু, চন্দন সেন, শুভব্রত সিংহরায়, বাঁকুড়ার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত প্রমুখ। বাঁকুড়া থিয়েটার অ্যাকাডেমির সম্পাদক তথা বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের শিক্ষক অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুধু নাটক মঞ্চস্থ করাই তাঁদের লক্ষ্য নয়। তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক নাটকের সঙ্গে পরিচয় করানো এবং এ বিষয়ে তাঁদের গবেষণার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করে তোলাই এই সংগঠনের উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, ‘‘বাঁকুড়ার ছেলেমেয়েরা নাটকে আগ্রহী হলেও আধুনিক নাটকের রূপ সময়ের সঙ্গে কেমন ভাবে বদলে যাচ্ছে, তা জানার সুযোগ পাচ্ছে না।’’
এই খামতির কথা মাথায় রেখেই অরুণাভবাবুর সঙ্গে বাঁকুড়ার নাট্যব্যক্তিত্ব পাপিয়া অধূর্য, পামেলা সরকার, গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়, সূতোসোম ভাদুড়ি, জয়দীপ ঘোষালের মতো কয়েক জন একটি সংগঠন গড়ার কথা ভাবেন কয়েক মাস আগে। সেই ভাবনাই শেষ পর্যন্ত বাঁকুড়া থিয়েটার অ্যাকাডেমির রূপ নিল। উদ্বোধনের দিন অনুষ্ঠান মঞ্চেই সংস্থার তরফে নাটক বিষয়ক একটি গবেষণা পত্রিকা ‘ঋনীল’ প্রকাশিত করা হয়। মূলত শম্ভু মিত্রের নাটক ও নাট্য ভাবনা নিয়ে এই সংখ্যায় গবেষণামূলক লেখা লিখেছেন কলকাতা ও বাঁকুড়ার বহু বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব। এ ছাড়াও বাঁকুড়ার বেশ কয়েক জন নাট্যকারের মৌলিক নাটকও প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যায়। এখনও শহরে বাঁকুড়া থিয়েটার অ্যাকাডেমির কোনও স্থায়ী ঠিকানা হয়নি। তবে অরুণাভবাবুর আশ্বাস, দ্রুত একটি অফিস ঘর খুলে শহরের ছেলেমেয়েদের কাগজে কলমে ও মঞ্চে অভিনয় করার প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এই সংস্থার ছাত্রী তথা বাঁকুড়া সম্মেলনী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সায়ন্তী নন্দী বলেন, “ছোট থেকেই থিয়েটার করার খুব ইচ্ছে ছিল। বিভিন্ন নাট্য সংস্থার হয়ে নানান জায়গায় থিয়েটার করেছি। কিন্তু ভাল প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ এখানে ছিল না। বাঁকুড়া থিয়েটার অ্যাকাডেমি এ বার সেই খামতি মেটাবে।’’