Advertisement
E-Paper

ডায়াবিটিস না থাকলেও খাওয়ার পর হঠাৎই বেড়ে যেতে পারে সুগার! শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন ৫ পন্থায়

খাওয়ার পরে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে গেলে শরীরকে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। তাই ৫টি সাপ্লিমেন্ট ও খাবার রাখা দরকার রোজ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৭:২২
ডায়াবিটিস না থাকলেও রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

ডায়াবিটিস না থাকলেও রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত।

খাওয়ার পর হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় ডায়াবিটিস রোগীদের। তার জন্য অল্প হাঁটা, খাওয়ার ক্রম ও সময় ঠিক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনা কেবল সুগারের রোগীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমন অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দেয়, যাঁরা ডায়াবিটিসের রোগী নন। আর কখনও তা উদ্বেগের কারণও হতে পারে। এই ওঠানামার ফলে দ্রুত খিদে পাওয়া, ক্লান্তি আসা, ঝিমুনি, মনোযোগের ঘাটতি এবং পরবর্তীতে বিপাকজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে এখন চিকিৎসকদের আগ্রহও বেড়েছে।

খাওয়ার পরে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে গেলে শরীরকে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবিটিস, হৃদ্‌রোগ এবং অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। সম্প্রতি মেরিল্যান্ডের অ্যানেস্থেশিয়োলজিস্ট এবং ইন্টারভেনশনাল পেন মেডিসিনের চিকিৎসক কুণাল সুদ ৫টি সাপ্লিমেন্ট ও খাবারের কথা জানালেন, যা রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি রোধ করতে পারে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার

খাওয়ার পর শরীরে শর্করার মাত্রা চট করে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড, যা স্টার্চকে ধীরে ধীরে হজম করায়। ফলে পেট খালি হতেও সময় লাগে। তাই খাওয়ার আগে অল্প পরিমাণ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার খেলে কারও ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার বৃদ্ধির গতি শ্লথ হতে পারে। এটি পাকস্থলী থেকে খাবার বার হওয়ার গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। ফলে গ্লুকোজ় ধীরে ধীরে রক্তে মেশে। তবে যাঁদের পাকস্থলীর সমস্যা বা অ্যাসিডের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বারবেরিন

এটি একটি উদ্ভিজ্জ উপাদান। চিকিৎসকের মতে, এটি শরীরে গ্লুকোজ় এবং ফ্যাটের ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণেও এর প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খেতে হয় এটি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

ইসবগুল

ফাইবার সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাওয়া হয় ঘরে ঘরে। ইসবগুলের ভুসি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হজমের সমস্যা কমে। পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে ইসবগুল জেলের মতো আঠালো মিশ্রণের আকার ধারণ করে। ফলে গ্লুকোজ় খুব ধীরে ধীরে শোষিত হতে থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। চট করে পেট খালি হয়ে গিয়ে আবার খিদে পাওয়ার সমস্যাও কম হয়। তবে খেতে হবে চিকৎসকের দ্বারা নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ী।

ম্যাগনেশিয়াম

ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এই খনিজের ঘাটতি থাকলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা প্রভাবিত হতে পারে। বাদাম, বীজ, শাকসব্জি এবং ডাল জাতীয় খাবারে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। তা ছাড়া সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

দারচিনি

দারচিনিতে বহু বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান রয়েছে। সেগুলির গুণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা বাড়তে পারে। এবং গ্লুকোজ় ব্যবহারও সঠিক ভাবে হয় শরীরের ভিতর। তাই রোজের খাবারে পরিমিত দারচিনি রাখলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে উপকার মিলতে পারে।

তবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি এখনও জীবনযাত্রার মধ্যেই লুকিয়ে, আর তাই—

· প্রতি বার খাওয়ার থালায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন

· শাকসব্জি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান

· অতিরিক্ত মিষ্টি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমান

· নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা শারীরচর্চা করুন

· পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোতে চেষ্টা করুন

· মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

Blood Sugar Diabetes Risk
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy