এনার্জি ড্রিঙ্ক, স্পোর্টস ড্রিঙ্কের মতো পানীয়গুলির নাম এক সময়ে তেমন ভাবে আলোচনায় ছিল না। মাঠে-ময়দানে নেমে যাঁরা খেলাধুলো করেন, তাঁরা এমন পানীয় খেয়ে অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু এখন শরীরচর্চা ও ফিটনেস নিয়ে মানুষজন অনেক সচেতন। শরীরচর্চার আগে ও পরে কী খাওয়া জরুরি ও কী নয়, সে নিয়ে আলোচনা চলে। বিশেষ করে কমবয়সিদের মধ্যে। তারকাদের দেখাদেখি অনেকেই তাই এখন নানা রকম এনার্জি ড্রিঙ্ক, প্রোটিন ড্রিঙ্ক পান করেন। ছোটদেরও এমন পানীয় দেন অনেক অভিভাবকই। খেলাধুলো করে আসার পরে এনার্জি ড্রিঙ্ক বা কেনা কোনও হেল্থ ড্রিঙ্ক খাইয়ে দেন। ভাবেন এতে শরীরে জোর বাড়বে, শক্তি তৈরি হবে। তা কিন্তু নয়। বরং এই ধরনের কেনা এনার্জি ড্রিঙ্ক ছোটদেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বাজারচলতি এমন শক্তিবর্ধক পানীয়ের বদলে ছোটদের জন্য বাড়িতেই এনার্জি ড্রিঙ্ক তৈরি করে দিতে পারেন অভিভাবকেরা।
নানা গবেষণা বলছে, একটি ৩৩০ গ্রাম এনার্জি ড্রিঙ্কের বোতলে প্রায় ১০ শতাংশ জুড়ে থাকে সুগার ও ক্যাফিন। আর এই দুই উপাদানের জেরে স্থূলত্ব, ডায়াবিটিস ও হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ছোটদের জন্য এমন পানীয় মোটেই নিরাপদ নয়।
ছোটদের এনার্জি ড্রিঙ্ক কেমন হবে?
টক দই ও ছাতুর ঘোল
প্রোবায়োটিক ও প্রোটিনের এই মিশ্রণটি মেদ কমাবে ও শক্তির জোগান দেবে। ছোটদের জন্য এটি সবচেয়ে উপকারী প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিঙ্ক। পানীয়টি তৈরি করতে প্রয়োজন ২ চামচ ছাতু, ২ চামচ টক দই, ১ গ্লাস জল, সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো এবং নুন। দই ও ছাতু আগে জল দিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এর পর গোলমরিচ ও নুন মিশিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। ছোটরা বাইরে গিয়ে খেলাধুলো করলে এই পানীয়টি নিয়মিত খাওয়াতে পারেন।
কলা ও খেজুরের শেক
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ এই পানীয় শিশুদের পেশি ও হার্টের জন্য খুব ভাল। পানীয়টি তৈরি করতে লাগবে ১টি পাকা কলা, ২টি ভেজানো খেজুর ও এক গ্লাস দুধ। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। খেজুরের কারণে এতে আলাদা করে চিনি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ওট্স ও কাঠবাদামের স্মুদি
ওট্স অনেক ক্ষণ পেট ভর্তি করে রাখবে, কাঠবাদামের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করবে। ২ চামচ গুঁড়ো করা ওট্স, ৪-৫টি ভেজানো কাঠবাদাম, এক গ্লাস দুধ ও সামান্য গুড় নিতে হবে। ওট্স এবং কাঠবাদাম দুধের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। সামান্য গুড় মিশিয়ে দিন তাতে। বদলে মধুও দিতে পারেন। ছোটদের প্রাতরাশের সঙ্গে দিতে পারেন এই পানীয়।
ডাবের জল ও পুদিনার এনার্জি ড্রিঙ্ক
শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রাখতে এই পানীয়টি খুবই উপকারী। এটি বানাতে প্রয়োজন এক গ্লাস ডাবের জল, ৪-৫টি পুদিনা পাতা, এক চামচ মধু। ডাবের জলের সঙ্গে পুদিনা পাতা ও মধু মিশিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন। এই পানীয়টি ডিটক্সের কাজ করবে। শিশু স্কুল থেকে ফিরলে এই পানীয়টি খেতে দিন। এটি ক্লান্তি দূর করবে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বৃদ্ধি করবে।
রাগির ডিটক্স
শরীরে আয়রন ও ক্যালশিয়ামের জোগান দেবে এই পানীয়। শিশুর হাড় ও পেশির গঠনে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক গ্লাস দুধে ১ চামচ রাগির গুঁড়ো ও সামান্য গুড় মিশিয়ে পানীয়টি তৈরি করা যায়। রাগির গুঁড়ো জলে গুলে হালকা আঁচে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। ঠান্ডা হলে দুধ ও গুড় মিশিয়ে পানীয় তৈরি করুন।