শীতকালে সকালে খালি পেটে আমলকি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই কোনও। কারণ, আমলকি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। লিভার এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে সেই সঙ্গে ত্বক ও চুলের ঔজ্জ্বল্যও বজায় রাখে। তবে তার জন্য আমলকি সঠিক ভাবে খাওয়াও প্রয়োজন। আমলকি খাওয়ার আগে বা পরে কী খাচ্ছেন, তার উপরেও নির্ভর করে অনেক কিছু।
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে আমলকি চিবিয়ে খেয়ে তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রাতরাশ করেন। মুম্বইয়ের এক পুষ্টিবিদ লিমা মহাজন বলছেন, তা ঠিক নয়। একটি পডকাস্টে আমলকি খাওয়ার অভ্যাস এবং সেই অভ্যাস সংক্রান্ত কিছু সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। লিমা বলেছেন, ‘‘সকালে খালিপেটে রোজ যদি একটি আমলকি খেতে পারেন, তবে তার থেকে ভাল অভ্যাস আর দু’টি নেই। তবে যাঁরা সেটি করেন, তাঁদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। যেমন আমলকি খাওয়ার কত ক্ষণ পরে তাঁরা পরের খাবারটি খাচ্ছেন। কারণ, হয়তো দেখলেন সময়ের ভুলে আমলকি খেয়ে উপকারের থেকে অপকার হল। বা কোন উপকার হলই না।’’
কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন?
লিমা জানিয়েছেন, খালিপেটে আমলকি খাওয়ার পরে অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করে তার পরের খাবারটি খান। কারণ, আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। খালি পেটে এটি খেলে শরীর এর পুষ্টি উপাদানগুলো সবচেয়ে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই অন্য কোনও খাবার খেলে সেই শোষণে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এমনকি, কারও কারও এ থেকে অ্যাসিডিটিও হতে পারে।
কী ভাবে খাবেন?
১। একটি গোটা আমলকি চিবিয়ে খাওয়ার পর এক গ্লাস হালকা গরম জল পান করলে এটি আরও ভাল ভাবে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ টেনে বার করতে পারবে।
২। যাঁদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাঁরা খালি পেটে আমলকি খেলে বুক জ্বালার মতো সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি আমলকি খাওয়ার আগে সামান্য জল পান করে নিন অথবা আমলকী কুচি করে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
৩। আমলকি খাওয়ার পরপরই দাঁত ব্রাশ করবেন না। কারণ, আমলকিতে থাকা অ্যাসিডিক উপাদান দাঁতের এনামেলকে সাময়িকভাবে নরম করে দেয়। ব্রাশ করলে তা ক্ষয়ে যেতে পারে। তাই মুখ ধুতে হলে সাধারণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়াই ভাল।