স্বাস্থ্য যদি ভাল রাখতে হয়, তবে খাওয়াদাওয়াতেও বদল আনতে হবে— এ নিয়ে কোনও আপোস করার জায়গা নেই। কারণ, খাবারের মাধ্যমে শরীরে যা পৌঁছোবে, তারই প্রতিফলন ঘটবে স্বাস্থ্যে। বেশি তেল-ঝাল-মশলা খেলে লিভারের সমস্যা হবে এবং তা থেকে একে একে হার্টের রোগ, ডায়াবিটিস, এমনকি মেটাবলিক ডিজ়অর্ডার বা ইমিউনিটির সমস্যাও দেখা দেবে। অন্য দিকে, শরীরকে তার পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন খাবার দিলে রোগ থাকবে দূরে। তেমনই একাধারে পুষ্টিকর এবং শরীরকে পরিচ্ছন্ন রাখার খাবার হল ব্ল্যাক বিনস বা কালো রাজমা ডাল। সারা দিনে যা যা খাবার খাওয়া হয় তার মধ্যে যদি এক বাটি এই ডাল রাখা যায়, তবে তা নানা ভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করবে।
ব্ল্যাক বিন কী কী জরুরি পুষ্টির জোগান দেয়?
ব্ল্যাক বিন বা কালো রাজমা ডাল যা উত্তরাখণ্ডে ‘ভট্টে কি ডাল’, মহারাষ্ট্রে কালা ঘেভাড়া, কাশ্মীরে ওয়ারিমুথ এবং দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে কারুপ্পু কারামানি নামে পরিচিত, তা নানা জরুরি পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রতি ১ (১৭২ গ্রাম) কাপ রান্না করা ব্ল্যাকবিনসে ক্যালোরির মাত্রাও অত্যন্ত কম। এতে থাকে—
ক্যালোরি: ২২৭
প্রোটিন: ১৫.২ গ্রাম
ফাইবার: ১৫ গ্রাম
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: ৪০.৮ গ্রাম
ফ্যাট: ০.৯ গ্রাম
পটাশিয়াম: ৬১১ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম: ১২০ মিলিগ্রাম
আয়রন: ৩.৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট: ২৫৬ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ( দৈনিক প্রয়োজনের ৬৪ শতাংশ)
ভিটামিন বি১: ০.৪ মিলিগ্রাম ( দৈনিক প্রয়োজনের ৩৫ শতাংশ)
ভিটামিন বি৬: দৈনিক প্রয়োজনের ৮ শতাংশ পরিমাণে।
আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক বিন বা কালো রাজমা ডালের উপকারিতা
১. কোলেস্টেরল কমাবে। কারণ ব্ল্যাক বিনসে ফাইবারের মাত্রা বেশি। যা শরীরে জমা কোলেস্টেরল বর্জ্যের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে দিতে সাহায্য করবে।
২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে। কারণ ব্ল্যাকবিনসে পটাশিয়াম আর ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এই দুই পুষ্টিগুণই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই কারও যদি হৃদরোগের সমস্যা থেকে থাকে তবে ব্ল্যাক বিনস তার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
৩. ডায়াবিটিসের জন্য ভাল। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমাতে বলেন চিকিৎসকেরা। ব্ল্যাক বিনসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ফলে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায় না। এটি ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য যেমন ভাল, তেমনই স্বাস্থ্য সার্বিক ভাবে ভাল রাখার জন্যও জরুরি। কারণ, এতে শরীরের ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা বজায় থাকে। আর ইনসুলিন কাজ করতে না পারলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে শরীরে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।
৪. হাড় এবং পেশির স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ু, পেশি এবং হাড় মজবুত রাখার জন্য জরুরি।
৫. ওজন কমাতেও সহায়ক, যেহেতু এতে প্রচুর ফাইবার আছে। তাই এটি এক দিকে যেমন পেট ভরিয়ে রেখে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমায়, তেমনই বর্জ্যের মাধ্যমে শরীর থেকে যাবতীয় দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে অন্ত্র থাকে পরিচ্ছন্ন, যা ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।