সবার কাছে চিন্ময় রায়। কিন্তু আমার কাছে আমার চিঙ্কা। ভালবেসে আমি ওই নামেই ডাকি। কত কত স্মৃতি। আমার স্ত্রীকে খুব ভালবাসত চিঙ্কা। আমাদের নাটকও কত বার দেখতে এসেছিল। এখনও প্রতি মুহূর্তে মনে পড়ে ওই মানুষটাকে। ‘টেনিদা’র মতো ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ দিয়েছিল আমাকে। ভাবতেই পারিনি, যে চরিত্রটা চিঙ্কা ছাড়া আর কাউকে ভাবা যায় না, তার জন্য আমাকে ভেবেছিল।
বহু ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছি আমরা। আমি যে সময়ে অভিনয় শুরু করেছি সেই সময় কৌতুকাভিনেতাকে মুখ্য চরিত্রে ভাবার জায়গাটা অনেকটা কমে গিয়েছিল। একটা সময় যেমন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রচুর ছবি তৈরি হয়েছে, চিঙ্কাকে নিয়েও ছবি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমার সময়ে থেকে সেই চল কমে যায়। আমাকে তো চিঙ্কাই নায়ক করেছিল।
আরও পড়ুন:
একটা মজার গল্প বলি, একবার একটা ছবির শুটিং করছি। দৃশ্যটা ছিল, আমি আর চিঙ্কা বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোনও এক গ্রামে যাচ্ছি। কন্টিনিউইটি শট ছিল। গ্রামের দৃশ্যের শুটিং হচ্ছিল নলবনে। প্রথম দৃশ্যের শুটিং হয়েছে বাড়িতে। তার পরে যখন নলবনে শুটিং করতে গিয়েছি, তখন পরিচালক বলেন “একটা ভুল হয়ে গিয়েছে, চিন্ময়দা। কন্টিনিউইটি শট-এর জন্য যে শার্টটা দরকার সেটাই আনা হয়নি।” সমস্যার সমাধান হিসাবে আমাদের বলা হয়েছিল, গাড়িতে বসে থাকবে চিঙ্কা। আর আমি সব সংলাপ বলব। শট দেওয়ার সময়ে যে কাণ্ড হয়, কী বলি আর! আমি সংলাপ বলছি, হঠাৎ দেখি সবাই হাসছে। তার পরে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি চিঙ্কা জামা খুলে খালি গায়ে সংলাপ বলা শুরু করেছে। কী কাণ্ড! সবাই হেসে পাগল। কোনও ভাবে সেই দিন ম্যানেজ করা হয়েছিল।
আমার চিঙ্কাকে প্রতি দিন, প্রতি মুহূর্ত মিস্ করি। ‘টেনিদা’ চরিত্র আমাকে দিয়েছিল। যে চরিত্রের জন্য চিঙ্কা এত আলোচিত। ওর পরিচালনায় সেই কাজ আমার সারাজীবন মনে থাকবে। চিঙ্কা যেখানেই থাকুক ভাল থাকুক এটাই চাই মন থেকে।