Advertisement
E-Paper

পুজোর থালা বা আলমারিতে, ন্যাপথালিন ও কর্পূর ব্যবহারের অভ্যাস? নীরবে ক্ষতি করছে স্বাস্থ্যের!

বহু বাড়িতে পুজোর থালায়, ঘরের কোণে কিংবা কাপড়ের আলমারিতে কর্পূর ও ন্যাপথালিন ব্যবহার দেখা যায়। পোশাককে পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে এই তীব্র গন্ধই কাজ করে। কিন্তু সেই গন্ধই যখন দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখনই সমস্যা শুরু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫১
ন্যাপথালিন ও কর্পূর।

ন্যাপথালিন ও কর্পূর। ছবি: সংগৃহীত।

আলমারির ভিতর, জামাকাপড়ের স্তূপে ন্যাপথালিন ও কর্পূর রাখার চল বহুকালের। এই দুই উপকরণের তীব্র গন্ধে এক দিকে যেমন পোকামাক়়ড়ের হাত থেকে নিস্তার মেলে, অন্য দিকে গুমোট ভাবও কেটে যায়। কিন্তু ঘরের ভিতর বহুল প্রচলিত এই দুই জিনিস আদৌ কতখানি নিরাপদ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

কর্পূরের গন্ধ অতি পরিচিত। বহু বাড়িতে পুজোর থালায়, ঘরের কোণে কিংবা কাপড়ের আলমারিতে কর্পূরের ব্যবহার দেখা যায়। তুলনায় ন্যাপথলিন বলের গন্ধ আরও তীব্র, অনেক সময় মাথা ধরিয়ে দেওয়ার মতো। পোশাককে পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে এই গন্ধই আসলে কাজ করে। কিন্তু সেই গন্ধই যখন দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন সমস্যা শুরু হয়।

কর্পূর ও ন্যাপথালিন ব্যবহার আদৌ নিরাপদ?

কর্পূর ও ন্যাপথালিন ব্যবহার আদৌ নিরাপদ? ছবি: সংগৃহীত।

ন্যাপথালিনের প্রভাব

ন্যাপথালিন বল ধীরে ধীরে বাতাসে মিশে যায় গ্যাসের আকারে। এই প্রক্রিয়ায় এমন কিছু উপাদান ছড়ায়, যা দীর্ঘ দিন শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকলে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, চোখে জ্বালা, এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। ভুল করে মুখে দিলে বা দীর্ঘ সময় এই গন্ধের সংস্পর্শে থাকলে গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। তাই অনেক চিকিৎসকই বাড়িতে ন্যাপথালিন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।

ঠিক যেমন, হায়দরাবাদের পালমোনোলজিস্ট কিরণ কুমার রেড্ডি জানাচ্ছেন, ন্যাপথালিনের গন্ধে অ্যাস্থমা বা হাঁপানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ দিন এই গন্ধ শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশু এবং হাঁপানির রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বলছেন চিকিৎসক।

কর্পূরের প্রভাব

কর্পূর তুলনায় কিছুটা কম ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়। প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি হয় বলে ন্যাপথলিনের মতো তীব্র রাসায়নিক প্রভাব ফেলে না। খোলা জায়গায় বা অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলে অনেকেই তা সহ্য করতে পারেন। কিন্তু কর্পূরও পুরোপুরি নিরীহ নয়। বন্ধ আলমারি বা ছোট ঘরে বেশি কর্পূর রাখলে মাথা ব্যথা, অস্বস্তি কিংবা বমি ভাব দেখা দিতে পারে। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে কর্পূরের গন্ধও বিপদ ডেকে আনতে পারে।

কোয়েম্বত্তূরের শিশুরোগ চিকিৎসক কার্তিক আন্নামালাই চন্দ্রশেখরন সমাজমাধ্যমে কর্পূরের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানাচ্ছেন, অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলে বা খেয়ে ফেললে শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রে তা ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। খিঁচুনি, অস্বস্তি, মাথা ঝিমঝিম করা, এমনকি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের অপরিণত মস্তিষ্ক এবং লিভার কর্পূরের প্রভাব সহ্য করতে পারে না। তাই শিশুদের সামনে ঘি, তেল বা অন্য কিছুর সঙ্গেও কর্পূর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এই চিকিৎসক।

সমস্যা আসলে গন্ধে নয়, সমস্যার মূল অতিরিক্ত ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের সংস্পর্শে থাকা। যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। আলমারি বা ঘর নিয়মিত খোলা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। শিশু এবং পোষ্যের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। খাবার বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের কাছে কখনও রাখবেন না।

Camphor Usages Camphor Naphthalene Health Risk
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy