শিশু আর পাঁচজনের মতো আচরণ করছে না মানেই যে সে অটিস্টিক, তা নয়। আবার অটিজ়মে আক্রান্ত শিশুর আচরণকে কেবল মানসিক কিছু সমস্যা ভেবে এড়িয়েও যান অনেক অভিভাবক। আচার-আচরণে বা বৌদ্ধিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা অটিজ়মের লক্ষণ কি না, তা ধরতে পারাই মুস্কিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরাও মেনে নিতে পারেন না যে, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। ঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় না। অনেক অভিভাবকই মনে করেন, সন্তান বড় হলে আপনা থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। ফলে যত দিনে সমস্যা ধরা পড়ে, দেরি হয়ে যায় অনেকটাই।
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে, কোনও পরীক্ষার মাধ্যমে কি অন্তঃসত্ত্বাকালীন অবস্থাতেই জানা যেতে পারে গর্ভস্থ সন্তান অটিস্টিক কি না? বাড়িতে কারও অটিজ়ম থাকলেও বাবা-মায়েরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নানা রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিশুরোগ চিকিৎসক ইন্দ্রনীল সাহা বলেন, ‘‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, ভারতে প্রতি ১০০টি শিশুর মধ্যে ১ জন শিশুর অটিজ়মে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক মা-বাবাই জানতে চান, গর্ভস্থ সন্তান অটিস্টিক কি না, তা বোঝার কোনও উপায় আছে কি না। অন্তঃসত্ত্বাকালীন অবস্থায় কোনও রকম রক্ত পরীক্ষা করে সন্তান অটিস্টিক কি না তা বোঝা যায় না। কোনও রকম ইউএসজি করেও সেই তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। এমনকি, কোনও রকম জিনগত পরীক্ষা করেও এ রকম কোনও তথ্য পাওয়া যায় না।’’
চিকিৎসকের মতে কোনও দম্পতির আগের সন্তানের যদি অটি়জ়ম থাকে তা হলে পরবর্তী সন্তানেরও অটিজ়ম হওয়ার আশঙ্কা থাকে ২০ শতাংশ। তবে সন্তানের জন্মানোর আগে সে কথা জানা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। এ ছাড়া এমন কোনও ওযুধ বা খাবারও নেই, যা শিশুর অটিজ়মে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে বা কমাতে পারে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘যাঁদের পরিবারে অটিজ়মের ইতিহাস রয়েছে, অনেক সময় এমন অভিভাবকদের জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ে পাঠানো হয়। সে ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস জেনে গর্ভস্থ শিশুর অটিজ়মে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কত শতাংশ, তার একটা আঁচ পাওয়া যায়।’’