কড়াইয়ের তেলে ছাড়তেই ধীরে ধীরে সমস্ত শুষে নেয়। এমন উপকরণগুলি পাতে পড়ার পর স্বাদে মাত করে দেয় বলে দোষ আর চোখে পড়ে না। কিন্তু যাঁরা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করছেন বা ডায়েট মেনে চলছেন, তাঁদের জন্য এ ধরনের খাবার সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তবে তার আগে জেনে নেওয়া দরকার, কোন কোন খাবারে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়?
আলু: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুভাজা বা চিপ্স— সব ক্ষেত্রেই আলু প্রচুর পরিমাণে তেল শোষণ করে নেয়। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজার সময়ে আলুর ভিতরের জল বেরিয়ে যায় এবং সেই জায়গা দখল করে নেয় তেল। আলুর মতো স্টার্চজাতীয় সব্জি নিমেষে ফ্যাট শোষণ করে নেয়।
পনির: কেটেকুটে ভাজতে দিলে লক্ষ করা যাবে, কড়াইয়ের তেল প্রায় তলানিতে। পনির ভাজলে তার বাইরের স্তর দ্রুত তেল টেনে নিতে পারে। বিশেষ করে ডিপফ্রাই করলে ভাজা পনিরের পদে ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই পুষ্টিবিদেরা ঢিমে আঁচে কম তেলে রান্না করার পরামর্শ দেন।
বেগুন: বেগুনকে অনেকেই ‘তেলের স্পঞ্জ’ আখ্যাও দিয়ে ফেলেছেন। কারণ, বেগুনের ভিতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। ভাজার সময় এই ছিদ্রগুলিতে দ্রুত তেল ঢুকে যায়। ফলে অল্প পরিমাণ বেগুন ভাজলেও অনেকটা তেল ব্যবহার হয়ে যেতে পারে।
পাউরুটির গুঁড়ো দেওয়া কাটলেট: কাটলেট, চপ বা নানা ভাজাভুজিতে ব্রেডক্রাম্বস মাখানো হয়। ব্রেডক্রাম্বস অর্থাৎ পাউরুটির গুঁড়ো। সেই স্তরটি তেল দ্রুত শোষণ করে। ফলে বাইরে মুচমুচে হলেও ভিতরে প্রচুর তেল জমে যেতে পারে।
লুচি: লুচির তেল-পিপাসা নতুন নয়। ছাঁকা তেলে লুচি ভাজার সময়ে ময়দার ভিতর থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। ফলে লুচি প্রবল তেলচিটে হয়। তা খাওয়ার সময়েও বোঝা যায়।
মাশরুম: মাশরুমের গঠন এমনই যে, এটি সহজেই জল ও তেল শোষণ করতে পারে। অনেকেই ভাবেন, মাশরুম হালকা খাবার, কিন্তু অতিরিক্ত তেলে রান্না করলে তার ক্যালোরি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। রান্নার সময়ে ভিতরের জল বাষ্পীভূত হয়ে গেলেই শূন্যতা তৈরি হয়, আর সেই শূন্যতাকে ভরাট করার জন্য ফ্যাট শোষণ করে নেয় এই সব্জি। এই একই ঘটনা ক্যাপসিকাম, বেবি কর্নের মতো সব্জির ক্ষেত্রেও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ঢেঁড়স: ঢেঁড়স রান্নার সময়ে সব্জির পিচ্ছিল, আঠালো মিউকাস জাতীয় পদার্থ অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়। বিশেষ করে, ভাজার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি বেশি দেখা যায়।