স্যালাড বলতে ভাত বা রুটির সঙ্গে শসা, পেঁয়াজ, টম্যাটো খাওয়ার যে ধারণা এতদিন প্রচলিত ছিল, সে সব অনেকটা বদলে গিয়েছে। দেশ-বিদেশে যেমন কায়দায় স্যালাড খাওয়া হয়, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, রকমারি সস্ দিয়ে— সেভাবেই স্যালাড জুড়েছে বাঙালির ডায়েটেও। তবে গরমের দিনের কথা আলাদা। এই সময়ে বেশি মাত্রায় ড্রেসিং দেওয়া স্যালাড খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই মরসুমি নানা ফল দিয়ে স্যালাড বানিয়ে নেওয়া যায়। ফ্রুট স্যালাড বলতে অনেকেই বোঝেন রকমরি ফল কুচিয়ে নিয়ে তাতে নুন-গোলমরিচ মিশিয়ে দিলেই হল। আদতে তা নয়। ফলের স্যালাডও বানানো যায় নানা কায়দায়। তাতে মেশানো হয় আরও নানা উপকরণ। কোন ফলের সঙ্গে কী মেশালে স্বাদ বাড়বে, সে কৌশলও জেনে রাখা জরুরি।
মিষ্টি তরমুজের সঙ্গে চিজ় এবং পুদিনার স্যালাড
মিষ্টি তরমুজের সঙ্গে নোনতা চিজ় এবং পুদিনা মেশালে তার স্বাদই অন্যরকম হয়। গরমের দিনে ইউরোপের নানা জায়গায় এমন স্যালাড খাওয়া হয়। এটি বানাতে ২ কাপের মতো চৌকো টুকরো করে তরমুজ কেটে নিতে হবে, সঙ্গে লাগবে চিড় ও আধ কাপের মতো পুদিনা পাতা। একটি বড় পাত্রে তরমুজের টুকরোগুলি রেখে তার উপর থেকে চিজ় গ্রেট করে দিতে হবে। এ বার পুদিনা পাতা, লেবুর রস ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে ড্রেসিং তৈরি করে নিন। তেল না দিতে চাইলে দই ফেটিয়েও দিতে পারেন। এই ড্রেসিং তরমুজের উপর মাখিয়ে পরিবেশন করুন।
ফ্রুট স্যালাড নানা স্বাদের হয়।
আরও পড়ুন:
আঙুর ও আখরোটের ক্রিমি স্যালাড
মিষ্টি খেতে যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বিকল্প হতে পারে এই স্যালাড। সবুজ ও কালো আঙুর, জল ঝরানো টক দই, মধু, ভাজা আখরোট কুচি ও সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই স্যালাড। টক দইয়ের সঙ্গে মধু এবং ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে খুব ভাল করে ফেটিয়ে নিতে হয়। এতেই স্যালাডের ক্রিম তৈরি হয়। এ বার আঙুরগুলি সেই ক্রিম দিয়ে মাখিয়ে উপর থেকে কুচোনো আখরোট ছড়িয়ে ফ্রিজে ১ ঘণ্টা রেখে ঠান্ডা করা হয়। পরিবেশনের আগে সামান্য মধুও ছড়িয়ে দেওয়া যায় উপরে।
টক ঝাল মিষ্টি স্যালাড খেতে খুবই সুস্বাদু।
আনারস ও শসার মেক্সিকান স্যালাড
আনারসের টক-মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে শসা মিশলে তা খেতে যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনই শরীরের জন্য পুষ্টিকর। গরমে এই স্যালাড খেলে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকবে না। এটি বানানোও সহজ। এক কাপের মতো আনারসের টুকরো, খোসা ছাড়ানো শসার কিউব, ২ চামচ পেঁয়াজ কুচি, ২ চামচ লেবুর রস, সামান্য চাটমশলা ও বিটনুন নিতে হবে। আনারস ও শসার টুকরোগুলি মিশিয়ে নিয়ে তাতে পেঁয়াজকুচি, লেবুর রস, বিটনুন এবং চাটমশলা ছড়িয়ে মেখে নিতে হবে। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খেলে এর স্বাদ আরও বাড়বে।