চুল প্রতিস্থাপন বা হেয়াার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর কথা ভাবছেন? এই অস্ত্রোপচারের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে, প্রতিস্থাপন করানোর আগে তা জেনে রাখা ভাল।
চুল থাকতে তার কদর অনেকেই করেন না। তবে মাথায় টাকের পরিধি যত বাড়তে থাকে, ততই অনেকের মনে হীনম্মন্যতার মেঘ জমে। টাকের কারণে অনেকেই অবসাদে ভোগেন, অকালে চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা তাঁরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। তবে টাক ঢাকার এখন অনেক রকম উপায় রয়েছে। হেয়ার স্প্রে, হেয়ার প্যাচ, আরও কত কী! অনেকে আবার চুল প্রতিস্থাপন করানোর ভাবনা শুরু করেন। বলি পরিচালক বনি কপূর থেকে ক্রিকেটার মহম্মদ শামি— খ্যাতনামীদের মধ্যে অনেকেই চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছেন।
চুল প্রতিস্থাপন বা হেয়াার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর কথা ভাবছেন? এই অস্ত্রোপচারের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে, প্রতিস্থাপন করানোর আগে তা জেনে রাখা ভাল।
ক্ষতচিহ্ন: অস্ত্রোপচারে ক্ষতচিহ্ন পড়া স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রেও অনথ্য হয় না। তবে চিকিৎসকের দক্ষতা এবং ত্বকের ধরনের উপর নির্ভর করে এই ক্ষতচিহ্নগুলি কতটা দৃশ্যমান হবে, সেই বিষয়টি। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতচিহ্নগুলি মিলিয়েও যাবে।
সংক্রমণ: চুল প্রতিস্থাপনের পর অনেকেরই চুলকানি শুরু হয়। চুলকানির সমস্যা বেড়ে গিয়ে অস্ত্রোপচারের পর অনেকের সংক্রমণও হয়।
যন্ত্রণা: অনেক ক্লিনিকেই দাবি করা হয়, গোটা প্রক্রিয়াটিই যন্ত্রণাহীন। তবে অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব কমে গেলেই অনেক সময়ই একটা টান অনুভব করেন অনেকেই। মাথায় খুব আঁটোসাঁটো হেলমেট পরে থাকার মতো অনুভূতিও হতে পারে। গরমের সময় ঘামের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, সে ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়ার অনুভূতিও হয়।
চুলের অসম বৃদ্ধি: অস্ত্রোপচারের পর অনেক ক্ষেত্রেই মাথার ত্বক জুড়ে চুলের অসম বৃদ্ধি হয়। এটাও খুব স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আরও কিছু ট্রিটমেন্ট করাতে হতে পারে।
চুল পড়ে যাওয়া: অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মাথায় অনেক সময় যাঁদের চুল প্রতিস্থাপিত হয়েছে তাঁদের হঠাৎই অধিক মাত্রায় চুল পড়তে শুরু করে। প্রতিস্থাপিত চুল তো বটেই, অনেক সময় নিজস্ব চুলও পড়ে যায়। তখন অনেকেই ঘাবড়ে যান। তবে এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একে বলে ‘শক লস’। অস্ত্রোপচারের পর ফলিকলগুলি বিশ্রামের পর্যায় চলে যায়। তবে মাথার ত্বকের ভিতরের রুটগুলি জীবন্ত থাকে। তিন-চার মাসের মাথায় আবার নতুন চুল গজাতে শুরু করে।