ভাজাভুজি বাদ। পাতে থাকছে শুধুই স্বাস্থ্যকর খাবার, তাও পরিমিত। অথচ ওজন কমার নাম নেই। উল্টে বাড়ছে মেদ! সমস্যা যদি খাবারে না থাকে, তা হলে কোথায়?
ফরিদাবাদ নিবাসী পেটের রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিশাল খুরানা বলছেন, ‘‘সঠিক ডায়েট মানার পরেও ওজন না কমা খানিকটা বিস্ময়কর ব্যাপার। তবে নেপথ্য কারণ হতে পারে উচ্চ মাত্রার কর্টিসল।’’
আরও পড়ুন:
অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কর্টিসল হরমোনের আর এক নাম ‘স্ট্রেস হরমোন’, যা বেশি ক্ষরিত হলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশা বাড়তে পারে। ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা-সহ অনেক জরুরি কাজ রয়েছে হরমোনটির। তবে মাত্রা বেড়ে গেলেই বাড়তি মেদ জমতে পারে শরীরে। ঘুমের সমস্যা হতে পারে, উদ্বেগ বাড়তে পারে। মানসিক চাপের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকের কথায় এই হরমোনের ওঠাপড়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে, স্বাস্থ্যকর ডায়েট শরীরে কাজ করতে শুরু করবে।
অতীতে এক সাক্ষাৎকারে মুম্বইয়ের পুষ্টিবিদ অঞ্জলি বলেছিলেন, ‘‘সমস্যা এই যে, লোকে বুঝতেই পারেন না, পরিপার্শ্ব এবং দৈনন্দিন অভ্যাস কী ভাবে নিঃশব্দে হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তারই প্রভাব পড়ে শরীর এবং মনে। মৃত্যু, দুর্ঘটনার মতো মনখারাপ করা খবর পড়া, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত শরীরচর্চা, সম্পর্কের টানাপড়েন, কথা কাটাকাটি— এমন অনেক সাধারণ বিষয়ই কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।’’
কেউ কেউ রয়েছেন যাঁরা সামান্য বিষয়কে বড় করে দেখেন, বেশি ভাবেন। তাঁদের কর্টিসলের মাত্রা বেড়েই থাকে। দুশ্চিন্তাও এই ধরনের হরমোনের বেড়ে যাওয়ার কারণ।
তবে দৈনন্দিন জীবনযাপনে সংযত হলে কর্টিসলের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। খাদ্যতালিকায় বদল এনেও লাভ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ—প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জাতীয় খাবারের সঠিক সমন্বয় জরুরি।প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা দরকার।চিনি, অতিরিক্ত ক্যাফিন, মদ— এগুলিও যতটা সম্ভব বাদ দিলে শরীর ভাল থাকবে।
কর্টিসলের মাত্রা কমাতে কী কী খাবেন?
১। ওট্স, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস, বিন জাতীয় শস্য, ডাল, ছোলা তালিকায় রাখা দরকার। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ফল, সব্জি রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখে, যা কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
২। টাটকা সব্জি, ক্যাপসিকাম, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তার ফলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩। কর্টিসলের মাত্রা বাড়লে তা পেশির ক্ষতি সাধন করে। সেই ক্ষতি রুখতে সাহায্য করে ডাল, কাবলি ছোলা, রাজমা, পনির, মুরগির মাংস, ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।
৪। বিভিন্ন রকম বাদাম আখরোট, পেস্তা, কাঠবাদাম এবং বীজে থাকে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ম্যাগনেশিয়াম, যা মস্তিষ্ক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। যা কর্টিসলের উপরেও প্রভাব ফেলে।
৫। দই, ছাসের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার পেট ভাল রাখতে সাহায্য করে। এতেও শরীরে ভাল প্রভাব পড়ে।
কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেজাজেও এর প্রভাব পড়ে। তাই মন আগে শান্ত রাখা প্রয়োজন। উদ্বেগ এবং কর্টিসল দু’টিকেই বশে রাখতে পারলে খাবার হজম করা এবং ওজন কমানো সহজ হ