চোখ অনেক সময়ে শরীরের ভিতরের নানা সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকেরা প্রায়শই বলে থাকেন, কিছু রোগের প্রথম লক্ষণ মুখে বা চোখে ধরা পড়তে পারে। লিভারের সমস্যাও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে, লিভার গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব চোখে স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। আর তা দেখে যদি পদক্ষেপ করা যায়, তা হলে রোগ হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তাতে রাশ টানা যাবে।
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বার করে দেওয়া, পুষ্টির প্রক্রিয়াকরণ এবং নানা ধরনের জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত লিভার। যখন লিভার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না, তখন শরীরে কিছু বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করে। এর প্রভাব চোখে দেখা যেতে পারে।
চোখের সমস্যা নিয়ে সতর্ক হতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
চোখের কোন কোন পরিবর্তন সঙ্কেত হতে পারে?
চোখের রং: জন্ডিস হলে চোখের সাদা অংশ বা স্ক্লেরা হলদেটে হয়ে যায়, এ কথা অনেকেরই জানা। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিলিরুবিন নামে একটি পদার্থ রক্তে জমতে থাকে। এর ফলেই চোখ এবং ত্বকে হলুদ আভা দেখা দেয়। তবে তা ছাড়াও চোখে যদি দীর্ঘ দিন ধরে লালচে আভা দেখা যায়, সে ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লিভার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে পারে না বলে এই পরিবর্তনগুলি ঘটতে থাকে ক্রমাগত।
দৃষ্টিশক্তি: লিভার ভিটামিন এ-ও সঞ্চয় করে রাখে, যা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অপরিহার্য। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে ভিটামিন এ-র মাত্রাও কমে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লিভারের গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ভিটামিন এ-র ঘাটতি থাকে। ভিটামিন এ-র এই ঘাটতির কারণে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং অন্ধকারে দেখতে অসুবিধা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
চোখের চারপাশ: চোখের আশপাশে ব্যথাহীন মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়ার রোগকে বলা হয় ‘জ়্যানথেলাসমা’। শরীরে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। লিভারের কর্মক্ষমতা কমে গেলে এই রোগ হতে পারে। এই পিণ্ডগুলি ক্ষতিকর না হলেও স্বাস্থ্যের কোনও না কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।