ঘুমিয়ে পড়লেও মুখ থেকে বোতল সরাতে দেয় না, এমন অভ্যাস অনেকে শিশুরই আছে। সাবধান! এর কারণে কিন্তু হতে পারে সংক্রমণ। সদ্যোজাত শিশু থেকে দু’-তিন বছর অবধি শিশুদের দাঁতে, মাড়িতে, মুখের ভিতরে এক ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যার অন্যতম কারণই হল দীর্ঘ সময় ধরে শিশুর মুখে বোতল রেখে দেওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, যে সব শিশু বোতলে করে জল বা দুধ খায়, তাদের মুখের ভিতর সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘ সময় মুখের ভিতর বোতলের নিপল থাকলে বা বোতলের মুখ নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে, মারাত্মক সংক্রমণ ঘটতে পারে শিশুর মুখের ভিতরে। জিভ, মাড়ি, ঠোঁট, গালের ভিতরের দিকে লালচে র্যাশ, ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দেয়। মূলত ‘ক্যানডিডা অ্যালবিকানস’ নামক ছত্রাকের কারণেই এই সমস্যা হয়। এদের সংক্রমণে শিশুদের যে রোগ হয়, তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘বটল মাউথ সিন্ড্রোম’।
ছত্রাকের সংক্রমণ হলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। শিশুর যদি দাঁত গজায়, তা হলে সেই দাঁতে ক্ষয় হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুর জিভের উপর ছোট ছোট ফুসকুড়ি হয়েছে। ফলে, খেতে গেলেই তার মুখের ভিতরে জ্বালা করছে— এ সবই কিন্তু ‘বটল মাউথ সিন্ড্রোম’-এর উপসর্গ হতে পারে।
এই সব কারণেই চিকিৎসকেরা বোতলে করে শিশুকে জল বা দুধ খাওয়ানোর পক্ষপাতী নন। তবে সুবিধার কারণে অধিকাংশ বাবা-মাই বোতল ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি বার ব্যবহারের পর বোতলগুলি ভাল করে ধোয়া আর জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বোতল বদল করাও জরুরি। প্লাস্টিকের বোতল নয়, খুব ভাল হয় যদি কাচের বোতল ব্যবহার করা যায়। প্লাস্টিরের বোতল ব্যবহার করলে অনেকেই একটি বোতল বছরখানেক পর্যন্ত ব্যবহার করেন। এমন ভুল না করাই ভাল।
কখন বোতল বদল করবেন?
১) প্রতি চার থেকে ছ’মাস অন্তর অন্তর শিশুর প্লাসিকের বোতলটি বদল করুন। আর প্রতি মাসে নিপল বদল করতে পারলে খুব ভাল হয়।
২) শিশুর শরীরে কোনও রকম সংক্রমণ হলে, সেরে ওঠার পরেও সবার আগে বোতলটি বদল করতে হবে।
৩) বোতলগুলি সাধারণত স্বচ্ছ হয়। যখন দেখবেন, বোতলগুলির স্বচ্ছ ভাব কমে গিয়েছে, তখনই তা বদল করে নিন।