হাড়ের সংযোগস্থল অর্থাৎ অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বাত হয়। এতে ব্যথা হওয়া সঙ্গে সঙ্গে চলাফেরায়ও সমস্যা হতে শুরু করে। দু’টি হাড়ের অস্থিসন্ধিতে রয়েছে কার্টিলেজ। এই কার্টিলেজগুলি যত ক্ষয়ে যেতে থাকে, যন্ত্রণা তত বাড়ে। একটা সময়ে গিয়ে পা নাড়ানোও অসম্ভব হয়ে যায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে বহু রকমের বাতের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ধরনের বাত হল অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। এই ধরনের বাত সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে।এর অন্যতম কারণ ঠিকমতো শারীরিক পরিশ্রম না করা, শারীরচর্চা না করা, দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া। বাতের ব্যথা যদি সারাতে হয়, তা হলে কেবল ওষুধ খেয়ে গেলে চলবে না। অভ্যাস করতে হবে যোগাসনের কিছু বিশেষ পদ্ধতিও।
বাত সারাতে সবচেয়ে উপযোগী আসন হল উৎকট কোণাসন। তবে চেয়ারে বসেও তা করা যায়। বাতের ব্যথা হাঁটাচলা করার ক্ষমতা লোপ পেয়েছে যাঁদের, তাঁরা চেয়ারে বসেই আসনটি করতে পারেন।
কী ভাবে করবেন?
১) পিঠ সোজা রেখে চেয়ারে বসতে হবে। দুই পায়ের পাতা থাকবে মাটিতে।
২) চোখ বন্ধ করে দুই হাত রাখুন কোলের উপর। গভীর ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।
৩) দুই পা চেয়ারের দু’পাশে নিয়ে যেতে হবে, নিতম্বের অবস্থান হবে চেয়ারের মাঝখানে।
৪) এ বার দুই হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে জড়ো করে বুকের কাছে আনতে হবে। পিঠ সোজা ও টানটান থাকবে।
৫) চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন ৫–৭ বার। এই ভাবে ৩ রাউন্ড অভ্যাস করতে হবে।
আরও পড়ুন:
উপকারিতা:
বাতের ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা কমবে।
সায়াটিকার ব্যথা নির্মূল হবে।
পা, ঊরু বা কোমরে ব্যথা থাকলেও আসনটি অভ্যাস করা যাবে।
নিয়মিত অভ্যাসে পেট-কোমরের মেদও ঝরবে।
সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।
পায়ের পেশির স্ট্রেচিং হবে নিয়মিত আসনটি অভ্যাসে।
কারা করবেন না?
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি অভ্যাস করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।