Advertisement
E-Paper

৩০ পেরোলে কী কী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন, আর চল্লিশে? বয়স অনুযায়ী নির্দেশিকা দিল আইসিএমআর

সুস্থ থাকতে একটা বয়সের পরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেই বলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু কোন বয়সে কী পরীক্ষা জরুরি, তা নিয়ে সচেতনতা কম। বয়স অনুযায়ী কোন কোন স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, তা নিয়ে নির্দেশিকা রয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৪
The health tests every adult should consider after 30, 40, and 50

কোন বয়সে কী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি? ছবি: ফ্রিপিক।

রোগ হঠাৎ করে আসে না। তার লক্ষণ আগে থেকেই ফুটে ওঠে শরীরে। অথচ ব্যস্ত জীবনে তা দেখেও এড়িয়ে যাওয়া হয় অনেক সময়েই। পরবর্তীতে সেই সব ছোটখাটো উপসর্গও জটিল রোগ হয়ে ধরা পড়ে। তাই সুস্থ থাকতে এবং যে কোনও রকম জটিল রোগ ও মারণ ব্যাধি থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট বয়সের পরেই কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে রাখার কথা বলছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। এই বিষয়ে আইসিএমআরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকাও আছে।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধমূলক পরীক্ষা বা প্রিভেন্টিভ স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত জরুরি। এমনই মত আইসিএমআরের গবেষকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে অনেক কম বয়সে হার্টের রোগ, ডায়াবিটিস, প্রস্টেটের সমস্যা হতে পারে। মহিলাদের হরমোনজনিত রোগও দেখা দিতে পারে। তাই সচেতন থাকা জরুরি।

বয়স ৩০ পেরোলে কী কী পরীক্ষা করাবেন?

আইসিএমআরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বয়স ৩০ পেরোলে সবচেয়ে আগে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রি-ডায়াবেটিক কি না, তা ধরা পড়বে এই পরক্ষায়।

লিপিড প্রোফাইল বা কোলেস্টেরলের পরীক্ষা করা জরুরি। এতে হৃদ্‌রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে।

১৮ বছর পেরোলেই সময়ান্তরে রক্তচাপের পরীক্ষা করিয়ে রাখতে হবে। ১৮ বছরের বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।

মহিলাদের বয়স ২১ পেরোলেই প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করাতেই হবে। প্রতি তিন বছর অন্তর এই পরীক্ষা করিয়ে নিলে নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। জরায়ুমুখের ক্যানসার একেবারে প্রাথমিক পর্বে ধরা পড়লে তার নিরাময় সম্ভব।

বয়স ৪০ পেরোলে

কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করাতেই হবে। রক্তের এটিই প্রাথমিক পরীক্ষা। যে কোনও অসুখেই করতে বলা হয়, তা অনেকেই জানেন না। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টে কিন্তু রক্তের ক্যানসার লিউকিমিয়া বা লিম্ফোমাও ধরা পড়ে।

থাইরয়েড প্যানেল টেস্ট জরুরি। ওই বয়সে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং থাইরয়েডের সমস্যা বেশি ভোগাতে পারে।

গ্লকোমা টেস্ট করিয়ে রাখা ভাল। দৃষ্টিশক্তি ঠিক আছে কি না, রেটিনায় রোগ বাসা বাঁধছে কি না, তা আগে থেকে জেনে রাখা জরুরি।

চল্লিশ পেরোলে মহিলাদের ম্যামোগ্রাম টেস্ট করানো খুব জরুরি। স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে এই পরীক্ষা খুবই জরুরি। ম্যামোগ্রাম হল বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যা স্তনের কোষের অনিয়মিত বৃদ্ধি হচ্ছে কি না তার রিপোর্ট দিতে পারে। স্তনের ভিতর গজিয়ে ওঠা মাংসপিণ্ড বা টিউমার শনাক্ত করতেও এই পরীক্ষাটি জরুরি।

ষাটের পরে কী কী পরীক্ষা করাবেন?

‘বেসিক স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং টেস্ট’ করিয়ে রাখা খুব জরুরি। এই বয়সে মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

প্রস্টেটের সমস্যা এই বয়সেই বেশি হতে দেখা যায়। তাই ‘পিএসএ টেস্ট’ বা ‘প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন টেস্ট’ করিয়ে রাখলে প্রস্টেট ক্যানসার হওয়ার আগেই তা ধরা পড়বে।

আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের শিকার এখন অনেকেই। বিশেষ করে, বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। যদি আইবিএস থাকে তা হলে খাদ্যনালিতে টিউমার আছে কি না, তার পরীক্ষা করিয়ে রাখা ভাল। সে জন্য কোলোনোস্কোপি করাতে হবে।

হার্টের রোগ থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে। না হলে ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম, করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম, করোনারি ক্যালশিয়াম স্কোরিং, ক্ষেত্র বিশেষে এমআরআই করিয়ে রাখা ভাল।

ব্লাড প্রোটিন টেস্ট করিয়ে রাখাও ভাল। রক্তে মিশে থাকা প্রোটিন পরীক্ষা করা হয় এই টেস্টে। এতে বোঝা যায়, নতুন কোনও প্রোটিন রক্তে মিশছে কি না। অর্থাৎ, ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কি না তা ধরা পড়বে আগেই।

liver diseases Kidney Disease Heart Health Cholesterol

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy