যোগাসন দিনের যে কোনও সময়েই করা যায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারলে বা সকালের হুড়োহুড়িতে সময় না হলে, বিকেল বা সন্ধ্যাতেও যোগব্যায়াম অভ্যাস করা যায়। হাতে যদি আধঘণ্টাও সময় না থাকে, তা হলে মিনিট দশেক সময় হলেও নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন অভ্যাস করা যাবে। নিয়ম করে সেই সব আসন অভ্যাস করলে মেদ কমবে, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হবে, সেই সঙ্গে মনও ভাল থাকবে।
কোন কোন আসন কম সময়ে অভ্যাস করতে পারবেন?
সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। এ বার দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে ধরুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরল রেখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। এমন ভঙ্গিতে পিঠ ও কোমর সোজা রাখতে হবে। শরীরের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড গুনুন। তার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
আরও পড়ুন:
উষ্ট্রাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে বসুন। এ বার পিছনের দিকে খানিকটা হেলে হাত দু’টি দিয়ে গোড়ালি ধরুন। মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পেটের অংশট সামনের দিকে এগিয়ে দিন। ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি ডান দিকের গোড়ালির ভিতর দিকে রেখে বাকি সব আঙুল বাইরের দিকে রাখুন। বাঁ দিকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে রাখুন। পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে। আসনটি করার সময় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন। ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
সিদ্ধাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। পিঠ টানটান থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস ধীরে ধীরে নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে বাঁ হাঁটু ডান পায়ের কাফ মাসলের উপর রাখুন। একই ভাবে ডান পা ভাঁজ করে ডান হাঁটু বাঁ পায়ের কাফ মাসলের উপর রাখুন। এর পর দুই হাত হাঁটুর উপর রাখুন। জ্ঞান মুদ্রা করতে পারেন। তর্জনী ও বুড়ো আঙুল স্পর্শ করে এবং বাকি তিনটি আঙুল সোজা রাখতে হবে। উদ্বেগ কাটবে, মন ভাল থাকবে এই আসন অভ্যাসে।