হাসি থামাতে পারেন না অনুষ্কা শেট্টি, কিডনির সমস্যায় রানা দগ্গুবতী! দক্ষিণী তারকাদের কার কী রোগ?
দক্ষিণের যে তারকারা বক্স অফিসে ঝড় তুলেছেন, তাঁদের বেশ কয়েকজনেরই রয়েছে কিছু বিরল ও জটিল রোগ যা দেখে বোঝার উপায় নেই। কেউ ভোগেন হাসির রোগে, কারও রয়েছে ফাইব্রোমায়ালজিয়া।
রানা দগ্গুবতীর মতো পেশিবহুল ও স্টান্টে পারদর্শী তারকাও যে দীর্ঘ সময় ধরে কিডনির রোগে ভুগেছেন তা কি জানতেন? সুঠাম ও সুদর্শন রাম চরণের ছেলেবেলায় ছিল ডিসলেক্সিয়া। পর্দায় খলনায়কদের দুরমুশ করা ‘থলাইভা’ রজনীকান্তের হৃদ্রোগের খবর অজানা হয়। হার্টে জটিল অস্ত্রোপচারও হয় তাঁর। দক্ষিণের যে তারকারা বক্স অফিসে ঝড় তুলেছেন, তাঁদের বেশ কয়েক জনেরই রয়েছে কিছু বিরল ও জটিল রোগ, যা দেখে বোঝার উপায় নেই।
রানা দগ্গুবতী: তাঁকে দেখলেই মনে হয় নিয়ম করে মুগুর ভাঁজেন। ফিটনেস নিয়ে সচেতন, স্বাস্থ্যবান ‘বাহুবলী’ খ্যাত রানা দগ্গুবতী দীর্ঘ সময় ধরে ভুগেছেন কিডনির জটিল রোগে। মাঝে সমস্যা এতই বাড়ে যে কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে হয়।
হার্টের জটিল জিনগত রোগও রয়েছে রানার। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তাঁর রক্তচাপের এত হেরফের হয় যে ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ। তা ছাড়া ছোটবেলায় কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে কিছু ত্রুটির কারণে ডান চোখে দেখতেও পান না অভিনেতা।
রজনীকান্ত: ভারতের মেগাস্টার বড় পর্দায় খলনায়কদের ধরাশায়ী করে ফেলেন। কিন্তু হৃদ্রোগ তাঁকে ধরাশায়ী করে একটা সময়ে। ধমনীতে ব্লকেজ ধরা পড়ে। সেই ব্লকেজ ছাড়াতে ‘ক্যারোটিড আর্টারি রিভাস্কুলারাইজ়েশন’ অস্ত্রোপচার হয় থলাইভার।
অ্যায়োর্টিক অ্যানিউরিজ়মেও ভুগেছেন রজনীকান্ত। বিভিন্ন কারণে ধমনীর এক বা একাধিক জায়গা দুর্বল হয়ে গেলে সেখানে রক্ত জমে বেলুনের মতো হয়। সেই বেলুন আকারে ছোট বা বড় হতে পারে। এই বেলুনের মতো হওয়াকে বলে অ্যানিউরিজ়ম। তাই হার্ট ভাল রাখতে কঠোর ডায়েট ও নিয়মিত শারীরচর্চায় থাকেন অভিনেতা।
আরও পড়ুন:
সমান্থা রুথ প্রভু: ‘অটো ইমিউন’ রোগ মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হন সমান্থা। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত দেহেরই সুস্থ সবল পেশিকে আক্রমণ করে। ফলে এই বিরল সমস্যায় পেশি দুর্বল হয়ে যায়। এতই দুর্বল হয়ে যায় পেশি যে, রোগী মাঝেমধ্যেই পড়ে যেতে পারেন। একটানা দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকলে ক্লান্ত লাগে শরীর।
দীর্ঘ সময়ে ধরে পেশির এই রোগে ভুগেছেন অভিনেত্রী। শ্বাসকষ্টও হত তাঁর। হাত ও পা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যে হাঁটাচলা করতেও কষ্ট হত তাঁর।
কাজল অগ্রবাল: ইনহেলার ছাড়া চলেই না কাজলের। সুন্দরী-তন্বী অভিনেত্রী সেই পাঁচ বছর বয়স থেকে ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজ়মায় ভুগছেন। হাঁপানির টান এতই প্রবল যে, ব্যাগে সর্বক্ষণ ইনহেলার রাখতে হয় তাঁকে।
কাজল একটা সময়ে অটোইমিউন রোগেও ভুগেছিলেন। তবে তা ছিল সাময়িক। চিকিৎসায় সে রোগ পরে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন:
অনুষ্কা শেট্টি: হাসতে শুরু করলে আর থামতে পারেন না অনুষ্কা। বিরল ‘লাফিং ডিজ়িজ়’-এ ভুগছেন অভিনেত্রী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে 'সিউডোবালবার এফেক্ট'। এ ক্ষেত্রে রোগী হঠাৎ হাসতে শুরু করেন কিংবা কান্নাকাটি শুরু করেন, এবং একটানা বেশ কিছু ক্ষণ সেই পর্ব চলতে থাকে।
কমেডি সিনেমার শুটিং চলাকালীন হাসতে শুরু করে আর থামতে পারেননি অনুষ্কা। তাঁর এমন হাসির রোগের জন্য বারে বারেই শুটিং বন্ধ করে বিরতি নিতে হয় সকলকে।
বিষ্ণু বিশাল: তামিল অভিনেতা গত তিন থেকে চার বছর ধরে অটোইমিউন রোগে ভুগছেন। এই রোগে পেশির অস্বাভাবিক ক্লান্তি, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, শরীরের নানা অংশ ফুলে যাওয়া, এমনকি মনঃসংযোগের অভাবও দেখা দেয় মাঝেমধ্যে। হাত-পা অসাড় হয়ে আসে, পেটের সমস্যা লেগেই থাকে।
বিষ্ণু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর চোখ-মুখ সবসময়েই ফোলা দেখায়। অটোইমিউন রোগের যে ওষুধ খেতে হচ্ছে তাঁকে, তা থেকেই ক্লান্তি আরও বাড়ছে। শারীরিক অস্বস্তিও প্রবল।
মমতা মোহনদাস: ক্যানসার জয় করেছেন দু’বার। রক্তের বিরল ক্যানসার হজকিন্স লিম্ফোমায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘ লড়াইয়ে মারণ রোগ জয় করে ফিরেছেন অভিনেত্রী।
ক্যানসার জয় করলেও পরে ‘ভিটিলিগো’ বা শ্বেতি রোগে আক্রান্ত হন মমতা মোহনদাস। এটি একটি ‘অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার’। ত্বকের রং তৈরি করতে সাহায্য করে মেলানোসাইট কোষে থাকা মেলানিন নামক রঞ্জক। নানা শারীরিক সমস্যার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি শত্রু মনে করে ধ্বংস করতে থাকে ত্বকের রং তৈরি করতে সহায়ক এই কোষগুলিকে। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক রং হারাতে থাকে। ত্বকে সাদাটে ছোপ পড়তে থাকে। একেই বলে শ্বেতি।
কিশোর পীতাম্বরন: মস্তিষ্কে সিস্ট জমছে মালয়ালি অভিনেতা কিশোর পীতাম্বরনের। চিকিৎসকেরা বলেছে, সিস্ট যদি আরও বড় হয়, তা হলে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন কিশোর।
নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারও রয়েছে কিশোরের। তিনি ডায়াবিটিসেও আক্রান্ত। সুস্থ থাকতে সংযত জীবনযাপন ও ডায়েট মেনে চলেন অভিনেতা।
পুনম কৌর: ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় ভুগছেন পুনম। সমস্যাটি কেবল মনের চাপ বা ‘ব্রেন ফগ’ নয়, এটির কারণ হত পারে ‘ফাইব্রো ফগ’।
ফাইব্রোমায়ালজিয়া দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল একটি শারীরিক সমস্যা যার কোনও উপসর্গ প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না। সাধারণ ক্লান্তি ভেবেই ভুল করেন অনেকে। এই সমস্যাটি হলে সারা শরীরে যন্ত্রণা হতে থাকে। ক্লান্তি বাড়ে। ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। মেজাজেও বদল আসতে থাকে। পরবর্তী সময়ে এর থেকেই প্যানিক অ্যাটাক বা স্মৃতিনাশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পরে।
রাম চরণ: সুদর্শন, সুঠাম অভিনেতার এমনিতে কোনও শারীরিক সমস্য নেই। তবে ছোটবেলায় ডিসলেক্সিয়ায় ভুগতেন। পড়তে বা লিখতে সমস্যা হত তাঁর।
একে বলে লার্নিং ডিজ়অর্ডার। মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ডিসলেক্সিয়া। শিশু অক্ষর চিনতে, শব্দ পড়তে এবং লিখতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ে। ডিসলেক্সিয়া এক ধরনের মানসিক অবস্থা, যা শিশুদের তথ্য বোঝার, উপলব্ধি করার ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।
মাম্মুট্টি: ৭৪ বছরেও সুপারস্টার মাম্মুট্টি। এখনও পর্দা কাঁপাচ্ছেন। তবে একটা সময়ে আচমকা মুখের স্বাদ ও গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা চলে গিয়েছিল অভিনেতার। দীর্ঘ সময়ে ভুগেছিলেন সে সমস্যায়।
স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়ার রোগকে সাধারণত অ্যানোসমিয়া (ঘ্রাণশক্তি হারানো) এবং অ্যাজিয়াসিয়া (স্বাদশক্তি হারানো)বলে। সর্দি-কাশি, সাইনাস বা ভাইরাসের সংক্রমণে এমন রোগ হতে পারে। তবে মাম্মুট্টি এখন সে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন।