স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে তাপমাত্রা নামতেই বাঙালি জবুথবু। এই শীতের মোকাবিলা করতে বাড়িতে কিছু প্রাথমিক বন্দোবস্ত করে ফেলতে পারেন আপনিও। বিশেষ করে বাড়িতে বাচ্চা বা বয়স্ক থাকলে তাঁদের পক্ষে শীত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার জন্য যেমন দরকারে লাগাতে পারেন ঘরোয়া টোটকা, তেমনই শীতে আরাম দেবে কিছু বৈদ্যুতিন যন্ত্র।
ঘর গরম রাখতে
রুম হিটার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই মরসুমে দেদার বিকোচ্ছে পোর্টেবল রুম হিটার। ঘরের আয়তন অনুযায়ী ও কত ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হবে, তা দেখে রুম হিটার কিনুন। পুরনো দিনের মতো অয়েল ফিলড হিটার কিনতে পারেন, ঘর ধীরে ধীরে গরম হবে। আবার হিট কনভেক্টর ধরনের যন্ত্রগুলিতে কনভেকশন মোডে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়। এগুলিই সবচেয়ে জনপ্রিয় হিটার। ব্লোয়ার, হ্যালোজেন… নানা প্রকারভেদ আছে হিটারের। পাশাপাশি হিটার চালানোর কিছু নিয়ম ও সাবধানতা আছে, সেগুলো মেনে চলতে হবে। এ ছাড়া এয়ার কন্ডিশনারও নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চালিয়ে ঘরের ভিতরের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। এ সময়ে জানলাতেও মোটা পর্দা টাঙাতে হবে। সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে সকলের বাড়ির পর্দাই হালকা হয়, সেটা শীতের মরসুমে পাল্টে ভারী পর্দা টাঙালে ঘর গরম থাকবে।
জল গরম রাখতে
শীতে সবচেয়ে কষ্টকর জলের কাজ করা। বিশেষ করে রান্নাঘরের কাজ করার সময়ে কিংবা হাতে কাপড় কাচলে ঠান্ডা জলের ব্যবহারে হাতের আঙুল অসাড় হয়ে যায়। এর উপায় হিসেবে ওয়াটার হিটার ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ সমাধান। অনেকে জল রোদে রেখে গরম করেন স্নানের আগে। ইমার্শন হিটার কিংবা গিজ়ারের ব্যবস্থা থাকলে জল গরম করা অনেক সহজ। দরকারে গিজ়ারের লাইন রান্নাঘরেও করিয়ে নিন।
খাবার জলও গরম করে বা অন্তত ঠান্ডা কাটিয়ে তার পরেই পান করুন। এর জন্য ওয়াটার ডিসপেন্সার আলাদা করে লাগিয়ে নিতে পারেন রান্নাঘরে। প্রয়োজনে গরম ও ঠান্ডা জল দুই-ই বেরোবে।
শরীর গরম রাখতে
সার্বিক ভাবে শরীর গরম রাখতে হট ওয়াটার ব্যাগ, গরম পানীয়, গরম পোশাক ইত্যাদির সাহায্য নিতেই হবে এ সময়ে। হাতের কাছে যদি একটা গরম জল ভরা ব্যাগ থাকে, আরাম পাবেন। অনেকে বিদ্যুৎচালিত হট ব্যাগও ব্যবহার করেন। আর্থ্রাইটিস বা অন্য কোনও অসুখ থাকলে এই শুকনো সেঁক নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন। পায়ে মোজা পরা আবশ্যিক, তবে ঘুমনোর সময়ে অবশ্যই মোজা খুলে নিতে হবে। একদম ছোট বাচ্চাদের ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাত আর পায়ের তলায় সরষের তেল মালিশ করে দিতে পারেন। এতে ওরা আরামে ঘুমোবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এই টোটকা বেশ কার্যকর।
সুপ, চা বা অন্য যে কোনও গরম পানীয় সাময়িক আরাম দিতে পারে। ঈষদুষ্ণ জল পান করতে পারেন এ সময়ে। হাতের কাছে ইলেকট্রিক কেটল, থার্মোফ্লাস্ক বার করে রাখুন। প্রয়োজনে যখন খুশি গরম জল ব্যবহার করতে পারবেন। বারবার কফি বা চা পানের অভ্যাস থাকলে ইনসুলেটেড মাগ ব্যবহার করতে পারেন।
বিছানা গরম রাখতে
শীতকালে বিছানার তোষক, বালিশ, লেপ, কম্বল রোদে দেওয়া হয় সাধারণত। এ ছাড়া কৃত্রিম উপায়েও বিছানা গরম রাখা যায়। তার মধ্যে ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট বা বেড ওয়ার্মার অন্যতম। ঘরে রোদ না এলে বিছানা, বালিশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট বা বেড ওয়ার্মারে রিমোটের সাহায্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বিছানা গরম রাখতে পারবেন। আন্ডার ও ওভার, দু’ধরনের কম্বলই পাওয়া যায়। একটি পেতে তার উপরে শোয়ার জন্য, আর একটি গায়ে ঢাকা দিয়ে শোয়ার জন্য। এই দু’ধরনের কম্বলই রাখতে পারেন হাতের কাছে। তবে শিশু বা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্ল্যাঙ্কেট সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহার করাই ভাল।
সাবধানতা অবলম্বন জরুরি
যে কোনও বৈদ্যুতিন গ্যাজেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এতে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই যন্ত্রের তার ভাল করে পরীক্ষা করে নেওয়া, তাতে জল না লাগানো, প্লাগ খোলা ও বন্ধ করার সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। কত ওয়াটের যন্ত্র কিনছেন, সেই অনুযায়ী প্লাগ নির্বাচন করতে হবে। প্রাথমিক বিষয়গুলি খেয়াল রাখলে ইলেকট্রনিক গ্যাজেটগুলি হয়ে উঠবে আপনার বন্ধু।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)