Advertisement
E-Paper

খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে মনেরও যোগ থাকে? কী ভাবে খেলে শরীর এবং মানসিক স্বাস্থ্য বজায় থাকবে

খাবার এবং পুষ্টির সঙ্গে মনের সম্পর্ক গভীর। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে কী ভাবে খাওয়া উচিত?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৪:৪২
খাওয়ার সময় মনোযোগী হলে কি মনও ভাল থাকে?

খাওয়ার সময় মনোযোগী হলে কি মনও ভাল থাকে? ছবি:সংগৃহীত।

খাবার এবং পুষ্টির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক গভীর এবং বহুমাত্রিক। আমরা প্রতি দিন যে খাবার খাই, তা শুধু স্বাস্থ্য ভাল রাখে না বরং মানসিক চাপ, মানসিক সহনশীলতার উপরেও প্রভাব ফেলে। ‘ফুড, নিউট্রিশন এবং মেন্টাল হেলথ’ নামক জার্নালে মাইকেল টি ক্রম্পটন বলছেন, ‘‘আমরা কী খাচ্ছি, তার উপরে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য, সামগ্রিক ভাবে ভাল থাকা নির্ভর করে।’’

খাবারে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভিটামিন সি, বি১২, ডি ছাড়াও একাধিক খনিজের অভাব অবসাদ, মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।আর ঠিক সেই কারণে, শুধু খাওয়া নয়, খাওয়া নিয়েও মনোযোগী হওয়া দরকার।

মোবাইল এমন ভাবে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে যে, খাবার সময়েও রিল, ভিডিয়ো দেখার দরকার পড়ে। ফলে, ছোট থেকে বড়, থালায় কোন খাবার থাকছে, কী খাচ্ছেন সেই খেয়ালও থাকে না।

কী ভাবে খেলে মন ভাল থাকবে?

· পুষ্টিবিদ এবং মনোরোগ চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীর এবং মন ভাল রাখতে হলে শুধু খেলেই হবে না, খাওয়া নিয়ে মনোযোগীও হতে হবে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খাওয়ার ব্যাপারে মনোযোগ না থাকলে, সেই খাবারের স্বাদ যথাযথ ভাবে আস্বাদন করা যায় না। ফলে খেতে বসার সময় মন বিক্ষিপ্ত করতে পারে এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকা ভাল। খাওয়ার সম মোবাইল দূরে রাখুন।

· খাওয়ার সময় আঙুলের সঠিক ব্যবহার করা, ধীরে চিবিয়ে খাওয়া ভাল। হাত দিয়ে খেলে খাবারটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়। তবে অবশ্যই হাত যেন পরিষ্কার থাকে। তা ছাড়া, ধীরে চিবিয়ে খেলে পাচকরস নিঃসরণের সময় পাওয়া যায় যথাযথ ভাবে। ফলে খাবার হজমও ঠিকমতো হয়। একই কথা প্রযোজ্য কাঁটা-চামচ বা চপস্টিক দিয়ে খাওয়ার সময়েও।

· কোন খাবার খাওয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। অন্ত্রে থাকা ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর যোগ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, উদ্বেগ, অবসাদ, স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ার মতো মানসিক সমস্যার সঙ্গে অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ার যোগসূত্র রয়েছে। ফলে খাদ্যতালিকায় এমন খাবার থাকা দরকার, যা পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফাইবার, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় থাকা দরকার। টাটকা সব্জি, ফল, মাছ, ডিম তালিকায় রাখা প্রয়োজন।

· মানসিক স্বাস্থ্য অনেকাংশেই শরীর এবং হরমোনের ওঠা-পড়ার উপর নির্ভরশীল। তা ছাড়া ভিটামিন বি১২, বি৯-এর ঘাটতি হলে অবসাদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার ভিটামিন ডি-র ঘাটতিও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, শাকসব্জি নিয়ম করে খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার।

· ভিটামিন সি-তে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। তা ছাড়া, ভিটামিন সি মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী ডোপামিন এবং সেরোটোনিন নিঃসরণেও সাহায্য করে। অক্সিডেটেভ স্ট্রেস কমিয়ে, হরমনোর মাত্রা ঠিক রেখে উদ্বেগ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তালিকায় থাকা দরকার, বিভিন্ন রকম লেবু।

· খিদে না পেলেও অনেক সময় চোখের খিদে হয়। পুষ্টিকর খাবার যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের উপযোগী, তেমনই উচ্চ ক্যালোরির অস্বাস্থ্যকর খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই খাওয়ার সময় বোঝা প্রয়োজন, কোন খিদে মনের আর কোনটি প্রকৃত খিদে। সেই অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি।

Mental Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy