স্বাস্থ্যসচেতনতার ধুম পড়েছে চারদিকে। পাল্লা দিয়ে বিক্রি বেড়েছে প্রোটিন পাউডারের বিক্রিও। শরীরচর্চা, কেতাদুরস্ত ডায়েট আর ফিটনেসের চাপে আজকাল প্রোটিন পাউডার যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অনলাইন হোক বা অফলাইন, প্রতি মাসে বাক্স বা কৌটো কিনে রাখা হয় ঘরে ঘরে। তবে কৌটোর গায়ে ঝাঁ চকচকে লেবেল থাকলেই কি তা খাঁটি? ভুল পণ্য বেছে নিলে কিন্তু উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। তাই কেনার আগে একটু সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রোটিন পাউডার পরখ করার কৌশল। ছবি: সংগৃহীত
কী ভাবে বুঝবেন, আপনার প্রোটিন পাউডার খাঁটি বা উচ্চমানের কি না?
১. উপাদানের যাচাই: প্রথমেই নজর দিন উপাদানের তালিকায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটি। উচ্চ মানের প্রোটিন পাউডার সাধারণত বানানো হয় ওয়ে প্রোটিন আইসোলেট, ওয়ে প্রোটিন কনসেনট্রেট বা ওয়ে প্রোটিন হাইড্রোলাইসেট দিয়ে। কিংবা তিন উপাদান দিয়েই তা বানানো হতে পারে। আবার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হলে তা সয়াবিন, ব্রাউন রাইস বা চা থেকে তৈরি হওয়া উচিত। যদি তালিকা অস্পষ্ট থাকে, তা হলে বুঝবেন, ওই পাউডার নিম্ন মানের।
২. লেবেল পরখ: লেবেলের স্বচ্ছতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় বোতলে শুধু ‘প্রোটিন ব্লেন্ড’, ‘মাসল ফর্মুলা’, ‘প্রোটিন পাউডার’ লেখা থাকে। নির্দিষ্ট প্রোটিনের উৎস উল্লেখ করা হয় না। এই ধরনের পণ্য আসলে খাঁটি প্রোটিন না-ও হতে পারে, বরং নানা উপাদানের মিশ্রণ হতে পারে। কিংবা সাদামাঠা হেল্থ ড্রিঙ্কে অল্প প্রোটিন মিশিয়ে বাজারজাত করা হতে পারে। এ দিকে বিশুদ্ধ প্রোটিন পাউডারে একটি স্পষ্ট তালিকা থাকবে, যাতে লেখা থাকবে— পি প্রোটিন, কেসিন প্রোটিন, ওয়ে হাইড্রোলাইসেট, সয় প্রোটিন আইসোলেট, ওয়ে প্রোটিন আইসোলেট, ব্রাউন রাইস প্রোটিন, ওয়ে প্রোটিন কনসেনট্রেট। অর্থাৎ প্রোটিনের ধরন স্পষ্ট করে লেখা থাকতে হবে শিশিতে।
কী দেখে প্রোটিন পাউডার কিনবেন? ছবি: সংগৃহীত
৩. প্রোটিনের পরিমাণে নজর: প্রতিটি স্কুপে (যে চামচে পাউডার তোলা হয়) প্রোটিনের পরিমাণ কত, তার উপরেও বিশুদ্ধতা নির্ভর করে। একটি ভাল মানের প্রোটিন পাউডারে সাধারণত এক স্কুপে প্রায় ২৪-৩০ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এর থেকে কম হলে ধরে নেওয়া যায়, সেখানে অন্য উপাদান বেশি এবং প্রোটিন কম। অর্থাৎ আপনি যতটা ভাবছেন, ততটা পুষ্টি পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন:
৪. বিপজ্জনক উপাদানের অনুসন্ধান: কিছু সতর্কতা মাথায় রাখা দরকার প্রোটিন পাউডার কেনার সময়ে। উপাদানের তালিকায় যদি মাল্টোডেক্সট্রিন, ডেক্সট্রোজ়, কর্ন সিরাপ বা অতিরিক্ত সংরক্ষণকারী রাসায়নিক, অতিরিক্ত কৃত্রিম স্বাদ ও চিনি থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, পণ্যটি খাঁটি নয়। এগুলি মূলত স্বাদ উন্নত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য নয়।