Advertisement
E-Paper

ওষুধ না খেয়েও কি বশে রাখা যায় থাইরয়েড? শারীরচর্চা আর পথ্যেই নিয়ন্ত্রণে থাকে অসুখ

থাইরয়েড সারাতে অনেকেই পথ্য বা শারীরচর্চায় ভরসা রাখছেন। কেউ বদলাচ্ছেন ডায়েট। এই ভাবে কি অসুখ বশে রাখা যায়?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৭:৩৩
ওষুধ ছাড়া  জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণে কি সারতে পারে থাইরয়েড?

ওষুধ ছাড়া জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণে কি সারতে পারে থাইরয়েড? ছবি:সংগৃহীত।

থাইরয়েডের সমস্যা! সমাধান লুকিয়ে পথ্যেই। কেউ বলছেন ভেষজ খেতে হবে। কারও পরামর্শ, অসুখ সারবে যোগাভ্যাসেই।

ডায়াবিটিসের অসুখ যেমন ঘরে ঘরে, তেমনই থাইরয়েডের সমস্যার কোনও বয়স নেই। ছোট থেকে বয়স্ক— হরমোনজনিত এই অসুখ এখন যেন খুবই সাধারণ। থাইরয়েড হল একটি গ্রন্থি, তা থেকে নিঃসৃত হয় থাইরক্সিন হরমোন। এই হরমোনই বিপাকক্রিয়া থেকে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, সন্তানধারণের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। কোনও কারণে এই হরমোনের মাত্রা কমে বা বেড়ে গেলে দেখা দেয় সমস্যা।

ক্লান্তি, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, এমন অনেক লক্ষণই থাইরয়েডের মাত্রা হেরফের হলে দেখা দিতে পারে। হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা হয়। একই সঙ্গে জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

কিন্তু সমাজমাধ্যমে নেটপ্রভাবী থেকে নানা জনের নানা মত। কেউ বলছেন, পথ্যেই মিলবে ফল। খাদ্যাভ্যাস বদল করলে এবং জীবনযাপন বশে রাখলেই সেরে যাবে এই অসুখ। তবে চিকিৎসকেরাও তা-ই বলেন কি?

মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসাপাতালের চিকিৎসক নীমিত নাগড়া এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, থাইরয়েডজনিত সমস্যা নিজে থেকে সারে না। ব্যতিক্রম আছে। তবে এই অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ওষুধের প্রয়োজন। চিকিৎসায় গাফিলতি হলে সমস্যা জটিল আকার নিতে পারে। মুম্বই নিবাসী ডায়াবিটিস-চিকিৎসক আরতি উল্লালের কথায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টোটকা বা জীবনযাপনে বদলের তেমন কোনও প্রভাব পড়ে না থাইরয়েডের সমস্যায়। চিকিৎসা ছাড়া নিজে থেকে এমন সমস্যার সমাধান সচরাচর হয় না।

ডায়েট এবং জীবনযাপনে রাশ টানলে কি লাভ হবে?

থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখতে হলে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও বজায় রাখা দরকার। তবে এই সব কিছুই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি করা ভাল। কারণ, হরমোনের মাত্রার অনেকটা হেরফের হলে শুধু পথ্য বা ডায়েট বদলে লাভ হবে না।

চিকিৎসকেরা বলছেন, থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের মাত্রা দীর্ঘ চিকিৎসা এবং শারীরচর্চার ফলে সাময়িক ভাবে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আবার ফিরে আসে। অবশ্য ব্যতিক্রমও কিছু আছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের হেরফের হলেও, প্রসবের পর তা অনেক সময়েই স্বাভাবিক হয়ে যায়। আচমকা প্রদাহ বা বিশেষ কোনও ওষুধের কারণে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে। তার ফলে সাময়িক ভাবে হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে মূল কারণ নির্মূল হলে থাইরয়েড জনিত সমস্যাও চলে যায়।

থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন

টিএসএইচ বা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই অনেকে ভয় পেয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসায় তা বশে রাখা যায়। বয়স, সমস্যা, জটিলতা— এমন অনেক বিষয়ের উপর চিকিৎসা নির্ভর করে। আবার, থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা খুব সামান্য বাড়লে অনেক সময় জীবনযাপন বশে রাখলে, তেমন কোনও উপসর্গ না থাকলে, লম্বা সময় ধরে ওষুধ খাওয়ার দরকার পড়ে না।

থাইরয়েডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কি ঘরোয়া পথ্যে প্রাথমিক ভাবে আস্থা রাখা চলে?

আগে ঘরোয়া পথ্যে কমে কি না দেখে, তার পরে অনেকে চিকিৎসকের কাছে যান। তবে থাইরয়েডের অসুখ এতে আরও বেড়ে যেতে পারে। নানা রকম ভেষজ, সাপ্লিমেন্ট, ডিটক্স পানীয় খেয়ে হরমোনের ওঠাপড়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলেই মত চিকিৎসকদের। উল্টে ভুল কিছু খেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়তে পারে।

Thyroid Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy