কচুরি ভালবাসেন কিংবা চাইনিজ়? এমন অনেক ভোজনরসিকই আছেন, যাঁরা পছন্দের শিঙাড়া কিংবা কচুরি অথবা চপ, চাইনিজ়ের লোভে শহর কলকাতার আনাচ-কানাচ ঘুরতে পারেন। কেউ আবার ভাল খাবারের সন্ধান পেলে পাড়ি দেন জেলার নানা প্রান্তের দোকানেও।
কিন্তু আমের জন্য সফর! বিদেশে চেরি, কমলালেবু, আপেল, কুমড়ো-সহ এমন অনেক ফল, সব্জির বাগিচায় আলাদা করে সফর এবং নিজে হাতে ফল পাড়ার এবং কেনার বন্দোবস্ত থাকলেও, ভারতে বা পশ্চিমবঙ্গে তেমন সফরের কথা শোনা যায় না। অথচ বাংলার আম-কাহিনি কম গর্বের নয়। মুর্শিদাবাদের কহিতুর থেকে মালদার আশুদাগী, ফজলি, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ... কী নেই সেই তালিকায়!
শোনা যায়, আম-বিলাসী নবাবদের হাত ধরেই ভারতে বাংলার নাম উজ্জ্বল হয়েছে। মোগল বাদশাদের দেখাদেখি নবাবদের বাগিচাগুলো হয়ে উঠেছিল ফলের গুণগত মান উন্নয়নের পরীক্ষাগার। নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলে এই রাজ্য এখন কয়েকশো প্রজাতির আমের আঁতুড়ঘর। সেই পরীক্ষা বজায় আছে এখনও। কেউ নার্সারি করে, কেউ আবার নেহাতই শখে, জাপান, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের নানা প্রজাতির আমও ফলাচ্ছেন। আর সেই সব হচ্ছে এই রাজ্যের জেলাগুলিতেও।
ছুটি পেলে ঘোরাঘুরি তো কতই হয়। আম নিয়ে আগ্রহী হলে নিজেই সফরনামা তৈরি করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে আম-সফরের সম্ভাবনা থাকলেও, এ নিয়ে তেমন কোনও পরিকাঠামো অবশ্য নেই। তবে আমের জন্য বিখ্যাত যে জেলাগুলি, সেখানে গিয়ে ঘুরে নিতে পারেন আমবাগান। বাগানের মালিকদের সঙ্গে সম্পর্ক একটু পোক্ত করতে পারলে, গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়ারও সুযোগ মিলবে। আর যদি তা না-ও হয়, জামাইষষ্ঠীর সময়ে চলুন এই সময়ের বিশেষ বিশেষ আমের স্বাদ চেখে দেখতে। আম-বাজার ঘুরে নিতে। তার সঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারবেন সেই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলিও।
মালদহ
ফজলি, গোপালভোগ, হিমসাগর— মালদায় শতাধিক প্রজাতির আম উৎপাদন হয়। ছবি: আনন্দবাজার ডট কম।
বাংলার আমের বাহার আর স্বাদ-গন্ধ নিয়ে বিশ্বজনীন যে আলোচনা, তার মধ্যমণি মালদহই। ইংরেজবাজার, মানিকচক, রতুয়া ১ ও ২ ব্লকেই ৬৫ শতাংশ আম চাষের জমি রয়েছে। ২০০-এর বেশি প্রজাতির আম চাষ হয় এই জেলায়।ফজলি, লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগর ছাড়াও গুটি, আলতাপেটি, আম্রপলি, গোপালভোগ, রাখালভোগ, আর্সিনা, মধুচুসকি, মোহনভোগ, অমৃতাভোগ এবং ছোটবউ, বউভুলানি, দিলখুস, ডান্টাফুর্তি, মেহবুবা, ফুলেশ্বরী, বৃন্দাবনী, ঝুমকা বলতে শুরু করলে তালিকা শেষ হওয়ার নয়।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঋষি ঘোষ বলছিলেন, ‘‘এক সময় মালদহের মানিকচকে বাঁদরবোবা, হরিশ্চন্দ্রপুরে কুমারখা-সহ বেশ কিছু আম হত। তার অনেকগুলিরই ফলন কমেছে। কিছু প্রজাতি প্রায় অবলুপ্তির পথে। সামগ্রিক ভাবেই ভাঙন ও অন্যান্য কারণে আমবাগান কমছে।’’
তবে তার পরেও এই জেলায় রয়েছে প্রচুর আমবাগান । ইংরেজবাজার তো বটেই, মানিকচক, রতুয়ার দিকে বিঘা-বিঘা জমিতে রয়েছে বাগিচা। তার সবগুলিতেই যে চাইলে প্রবেশাধিকার মেলে, এমন নয়। তবে চেয়েচিন্তে মিলতেও পারে। এখন যেমন সুস্বাদু গোপালভোগ আমটি শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে জামাইষষ্ঠীর মরসুম পর্যন্ত মিলবে হিমসাগর, ক্ষীরসাপাতি।
এখানকার আমের যেহেতু বিশ্বজনীন বাজার আছে, তাই ভাল গুণমানের আম বিদেশেই চলে যায়। তবে, মালদহের আম চাখার সাধ হলে কেনা যেতে পারে রথবাড়ি বাজার, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আম বাজার, ঝলঝলিয়া বাজার থেকে।
মালদহের আদিনা মসজিদ। ভ্রমণের জন্যও এই জেলা কম জনপ্রিয় নয়। ছবি:সংগৃহীত।
মালদহের আমবাগান, আমের রকমারি প্রজাতির খোঁজ করলে বাগান ঘুরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বটে, তবে দিন কয়েকের জন্য আম-সফরে গেলে ঘুরে নিতে পারেন আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলিও।
মালদহের জাতীয় সড়ক ধরে মহানন্দা পেরিয়ে ১৬ কিলোমিটার উত্তরে পাণ্ডুয়া। প্রথম দ্রষ্টব্য বড়ী দরগাহ্। জাতীয় সড়কেই অবস্থিত ৫৫০ বছরের পুরনো দরগা। চতুর্দশ শতকে পারস্য থেকে আসা পির সৈয়দ মখদুম শাহ জালালের নকল সমাধি।
পাণ্ডুয়ার প্রবেশদ্বার সালামি দরওয়াজা। পাশেই উপাসনা বেদি আসনশাহী। অদূরে মিঠা তালাও, কাছেই কাজি মসজিদ। সালামি দরওয়াজা পেরিয়ে আধ কিলোমিটার গেলে নুর কুতব-উল-আলমের মাজার তথা ছোটি দরগাহ্। এখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে গেলে পড়বে একলাখি মসজিদ। টেরাকোটা সমৃদ্ধ, কারুকাজ সুন্দর। একলাখি লাগোয়া চত্বরে ১০ ডোমের কুতবশাহি মসজিদ। এখানকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য আদিনা মসজিদ। ৪০০টি স্তম্ভে ৩৭০টি গম্বুজওয়ালা মসজিদটি দামাস্কাসের জুম্মা মসজিদের আদলে ১৩৬০ সালে তৈরি। এ ছাড়াও ডিয়ার পার্ক, ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
আদিনা মসজিদ থেকে রতুয়া খুব বেশি দূরে নয়। ফলে আম-সফরের জন্য এক বার ঢুঁ মারতেই পারেন।
মুর্শিদাবাদ
আম সফর হতে পারে মুর্শিদাবাদেও। রানিনগরের একটি আমবাগানে গাছে ফলেছে কিষাণভোগ।
মালদহের যেমন আমের খ্যাতি, কম যায় না মুর্শিদাবাদও। মুর্শিদাবাদে নবাবি গড়ে ওঠার পরে আমের সুখ্যাতি আরও বেড়েছিল বলেই শোনা যায়। যদিও এই জেলার মির্জা পসন্দ, রানি পসন্দ, সফদার পসন্দ, কোহিতুর, কালাপাহাড়ের মতো অনেক আম জেলার কয়েকটি বাগান ছাড়া মেলা দুর্লভ। জেলায় ঐতিহ্যবাহী নবাবি বাগানগুলির মধ্যে অন্যতম হল, ফৈয়াজ বাগ, রইস বাগ। জাফরাগঞ্জ প্রাসাদের ঠিক বিপরীতে বড় আমবাগান তৈরি করেছিলেন নবাবেরা। সেই সব বাগানে মিলত কোহিতুর, কালাপাহাড়, মোলায়েম জং, বেগম পসন্দ, নবাব পসন্দ, মির্জা পসন্দ, রানি, চম্পা প্রভৃতি আম। লালবাগ এলাকায় ছিল বাগানগুলি। মুর্শিদাবাদের গ্রামাঞ্চলে এখন বড়সড় আমবাগানের সন্ধান মিললেও, শহরাঞ্চলে তা খানিক কম বা বিক্ষিপ্ত। মুর্শিদাবাদের রানিনগর ব্লকের ইলশামারি-সহ বেশ কিছু জায়গায়, বিশেষত গ্রামাঞ্চলেই মূলত মিলবে আমের বাগিচা। কথা হচ্ছিল, রানিনগরের এক উদ্যানপালক মেহবুব আলমের সঙ্গে। তিন বিঘা জমিতে রানি, শাদোল্লা, বোম্বাই, ল্যাংড়া, চন্দনখোসা, বিশ্বনাথ-সহ নানা প্রজাতির আম ফলিয়েছেন তিনি।
মেহবুব জানালেন, কেউ এলে আম বাগান ঘুরে দেখতে অসুবিধা নেই। চাইলে আম কেনাও যাবে। গ্রামাঞ্চলে আম বিক্রি হয় মূলত স্থানীয় হাটে। পাইকাররা কিনে নিয়ে গিয়ে তা বিক্রি করেন।
রানি আম শেষ হতে চলেছে। শাদোল্লা বা কিষাণভোগও শেষের দিকে, তবে ফুরিয়ে যায়নি। সুস্বাদু হয় খেতেও। বোম্বাই আমও পাওয়া যাবে জুন মাসে। ল্যাংড়া দিন দশেক পরে বাজারে আসবে। আরও পরের দিকে কেউ আমের সন্ধানে এলে পাবেন চন্দনখোসা, বিশ্বনাথ, যশোরি, আম্রপালির মতো আম।
ডোমকল মহকুমার রানিনগর ব্লকটি বহরমপুর থেকে মোটামুটি ৩৫ কিলোমিটার দূরে। তাই আম-সফরের ভাবনা থাকলে এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলি অনায়াসে জুড়তে পারেন ভ্রমণতালিকায়।
মুর্শিদাবাদ রেলস্টেশন থেকে আড়াই এবং বহরমপুর টুরিস্ট লজ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে লালবাগে মুর্শিদাবাদের অন্যতম আকর্ষণ হাজারদুয়ারি। অতীতের নিজ়ামত কেল্লায় ১৮৩৭ সালে তদানীন্তন নবাব নাজ়িম হুমায়ুন জাহের বাসের জন্য ব্রিটিশরা ইটালিয়ান শৈলীতে গড়েছিলেন এই ত্রিতল গম্বুজওয়ালা প্রাসাদ। ৮টি গ্যালারি সহ ১২০ ঘরের এই প্রাসাদের ১০০০ দরজা থেকে এর নাম হয়েছে হাজারদুয়ারি। তবে প্রকৃত দরজা ৯০০টি, বাকি ১০০টি কৃত্রিম। প্রাসাদের সামনেই সিরাজ-উদ-দৌল্লার তৈরি এক গম্বুজের মদিনা মসজিদ আর মদিনার চত্বরে সুউচ্চ ঘড়িঘর। এখানেই রয়েছে বাচ্চাওয়ালি কামান। প্রাসাদের বিপরীতে বড় ইমামবরা। হাজারদুয়ারির পিছনে দক্ষিণে যেতে গঙ্গার তীরে অতিথিনিবাস ওয়াসেফ মঞ্জিল।
মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি প্যালেস।
হাজারদুয়ারি থেকে অদূরে নসীপুরে জগৎশেঠের বাড়ি। কাছেই কাঠগোলা বাগান। খানিক গেলে নসীপুর রাজপ্রাসাদ, যা হাজারদুয়ারির ক্ষুদ্র সংস্করণ। কিছুটা দূরে জাফরাগঞ্জ দেউড়ি– নবাব মিরজাফরের প্রাসাদ আজ ভগ্নপ্রায়।
নদিয়া
বেড়ানোর পাশাপাশি আমবাগান দেখার জন্য গন্তব্য হতে পারে নদিয়াও। ছবি:সংগৃহীত।
আমবাগানের দেখা মিলবে নদিয়ার শান্তিপুর, ফুলিয়া, কৃষ্ণনগর, হরিণঘাটা অঞ্চলে। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি এখানে যথেষ্ট পরিমাণে ফলে। তবে এখন নতুন প্রজাতির আমের চাষও হচ্ছে। বেশ কিছু নার্সারি বিভিন্ন প্রজাতির আম ফলাচ্ছে। রানাঘাটের কাছে একটি নার্সারির মালিক বিকাশকুমার দাস জানালেন, দোফসলা, ছোট গাছ, সুস্বাদু আমের তালিকায় জনপ্রিয় হচ্ছে কাটিমন। এ ছাড়াও রয়েছে ব্যানানা আম, দেখতে খানিক লম্বাটে গোছের, ফোরকেজি (চার কেজি পর্যন্ত হয় একটি আম)। বাড়িফোর বাংলাদেশের প্রজাতি। তাঁর কথায়, এই ধরনের আমগুলির বাণিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু না হলেও নার্সারি বা শখের বাগানে দেখা মিলবে।
নদিয়া এলে ঘুরে নেওয়া যায় একাধিক জায়গাও। বেথুয়াডহরির অভয়ারণ্য রয়েছে এখানে। আবার কৃষ্ণনগর গেলে ঘুরে নেওয়া যায় ঘূর্ণি। মাটির পুতুল তৈরির জন্য বিখ্যাত এই স্থান। শান্তিপুর ভ্রমণতালিকায় এক প্রকার ব্রাত্য হয়ে রয়ে গেলেও, এখানে রয়েছে টেরাকোটার পুরনো মন্দির। শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বড় গোস্বামী বাড়ি-সহ ২৪টি বিগ্রহবাড়ি। তার মধ্যে ৯টি গোস্বামীবাড়ি বলেই পরিচিত। শান্তিপুর শহরের একেবারে লাগোয়া এলাকায় রয়েছে অদ্বৈতাচার্যের সাধনক্ষেত্র অদ্বৈতপীঠ। সেই সঙ্গে আছে একাধিক শিব ও কালী মন্দির। যেমন আগমেশ্বরী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, গোকুলচাঁদ মন্দির, বংশীধারী শিবমন্দির। আবার শান্তিপুর এবং ফুলিয়া তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। কী ভাবে তাঁতিরা কাপড় বোনেন, চাক্ষুষ করা যায় এখানকার তাঁতিপাড়ায়।
চন্দননগর, ব্যান্ডেল, নৈহাটি
আম সফরের তালিকায় থাকতে পারে কলকাতার কাছের চন্দননগর, ব্যান্ডেলও। ছবি:সংগৃহীত।
কলকাতা ছাড়িয়ে ডানকুনি হয়ে দিল্লি রোড ধরলেই চন্দননগরের কাছাকাছি সঙ্গ দেবে আমবাগান। গাড়ি বা বাইক নিয়ে আনাচকানাচ ঘুরলে এই অঞ্চলে অনেক আমবাগানই মিলবে। গ্রীষ্মের শুরুতে এখানে পাওয়া যায় বৈশাখী আম, (হলদে-কমলা রঙের)। শোরি আমও পাওয়া যায়। এ ছাড়া রয়েছে হিমসাগরও। দেবানন্দপুর, রাজহাট, পোলবা, গান্ধীগ্রাম চত্বরগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে একাধিক আমবাগান মিলবে।
এখানকার কোনও কোনও বাগানে আম পাড়ার সময় সরাসরি আম কেনা যায়। বাগানের লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে, ফোন করে এলে, এমন সুযোগ মেলে। তবে এক দিনের জন্য এলে শুধুই তো আমবাগান দেখবেন বা বাজার থেকে আম খাবেন না। ঘুরে নিতে পারেন আশপাশের এলাকা। চন্দননগরের জনপ্রিয় জায়গাটি হল স্ট্র্যান্ড। লাগোয়া ঘাটটি থামওয়ালা। নদীর পারে বাঁধানো চত্বর। কোর্ট, ফরাসি ইনস্টিটিউট, কলেজ, স্কুল, মিউজ়িয়াম নিয়ে তার বিস্তৃতি।
স্ট্র্যান্ড ধরে পায়ে পায়ে হাঁটলে ডান পাশে চোখে পড়বে গির্জা, সেক্রেড হার্ট চার্চ। গথিক শৈলীতে তৈরি গির্জাটি বহু প্রাচীন। ২০১৭ সালে ফরাসি আমলে তৈরি আটটি স্থাপত্যকে হেরিটেজ কমিশনের তরফে ‘হেরিটেজ বিল্ডিং’-এর তকমা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় রয়েছে, সেক্রেড হার্ট গির্জা। স্ট্র্যান্ডের গা ঘেঁষেই রয়েছে ফরাসি শাসক দুপ্লের নামাঙ্কিত মিউজ়িয়াম। দুপ্লে প্যালেস বলে সেটি পরিচিত। দুপ্লের ব্যবহৃত আসবাবের পাশাপাশি বহু অ্যান্টিক জিনিসের দেখা মিলবে এখানে। সেখান থেকে বেরিয়ে স্ট্র্যান্ড ধরে খানিক হাঁটলে পৌঁছোবেন চন্দননগরের দুপ্লে কলেজে। সেখানেও তৈরি হয়েছে একটি মিউজ়িয়াম। এই শহরের অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের নথি, জিনিসপত্র, প্রাচীন বয়নশিল্পের নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে এখানে। ব্যান্ডেলেও ঘুরে নেওয়া যায় ইমামবাড়া, ব্যান্ডেল চার্চ।
আর কোথায়?
এ ছাড়াও, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, হুগলির দিয়াড়া, সিঙ্গুর অঞ্চলেও বিচ্ছিন্ন ভাবে আমের বাগান রয়েছে। মূলত হিমসাগরই পাওয়া যায় এই বাগানগুলিতে। তবে এখন নানা জাতের আমও চাষ করছেন অনেকে। নদিয়া, নৈহাটি-সহ একাধিক জায়গায় নার্সারি রয়েছে, যেখানে মিয়াজ়াকি, ৪ কেজি, ব্যানানা, কস্তুরি-সহ রকমারি আমের চাষ হচ্ছে। উৎসাহী হলে ঢুঁ মারা যায় এমন জায়গাগুলিতেও।
আম-সফরের উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি নেই, যেখানে কেউ গেলেই আমবাগান খুঁজে আম পাড়তে পারবেন বা কিনতে পারবেন। তবে নানা জায়গায় এমন অনেক বাগান আছে যেখানে গিয়ে চেষ্টা করলে রকমারি আম দেখা অন্তত যেতে পারে।