চিকিৎসকদের কাছে গেলেই হুশিয়ারি মেলে। ওজন কমান, না হলে কিন্তু ভুগতে হবে। স্থূলতার কারণে শরীরে বাসা বাঁধে হাজার রোগব্যাধি। তাই ওজন বাড়লেই মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন জিমে গিয়ে। দ্রুত ওজন ঝরিয়ে ফেলার জন্য চলছে দেদার ভারী ওয়ার্ক আউট। তরুণদের মধ্যে আবার বেড়েছে সুঠাম চেহারা বানানোর হিড়িক। কারও চাই ‘সিক্স প্যাক’, কারও আবার ‘এইট প্যাক’ বানানোর ইচ্ছা! তার জন্য পাড়ার জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেদার শরীরচর্চা। অনেক সময়ে জিম করতে গিয়ে চোখের সামনে কয়েক সেকেন্ডের জন্য অন্ধকার দেখেন কেউ কেউ। অনেকেই মনে করেন গরমের কারণেই এমনটা হচ্ছে। তবে বিষয়টিকে এত হালকা ভাবে না নেওয়াই ভাল। শরীরচর্চার সময়ে শ্বাসপ্রশ্বাস সঠিক নিয়ম মেনে না নিলে কিন্তু তার প্রভাব পড়তে পারে দৃষ্টিশক্তির উপরেও।
দ্রুত হারে ওজন ঝরাতে ভারী ওজন তুলে শরীরচর্চা করছেন ঠিকই। কিন্তু ওজন ঝরাতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করেছেন কি না, তাও জানা জরুরি। চোখের চিকিৎসক দিব্যা জৈন বলেন, ‘‘অতিরিক্ত পরিশ্রম, বিশেষ করে ব্যায়াম সময় ভুল পদ্ধতিতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার কারণে, চোখের ভিতরের চাপ (ইন্ট্রাওকুলার প্রেসার) হঠাৎ করে বেড়ে যায়ে পারে। জিমে গিয়ে ভারী জিনিস তোলার সময় শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতি ঠিকঠাক না হলে, তা চোখের ভিতরের চাপকে তীব্র ভাবে বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে দৃষ্টিশক্তির উপরে প্রভাব পড়তে পারে। তবে খুব চিন্তার কোনও কারণ নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা হয় কিছু ক্ষণের জন্য। খানিক পরে নিজে থেকেই দৃষ্টিশক্তি স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে যাঁদের চোখে কোনও রকম সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বড় আকার নিতে পারে।’’
গ্লকোমা, পাতলা রেটিনা, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ মায়োপিয়ার মতো সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের চোখে এই আকস্মিক চাপ বৃদ্ধি ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। রেটিনার রক্তনালি ফেটে যাওয়া, শাখা বা কেন্দ্রীয় রেটিনাল ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা, অথবা আরও গুরুতর ক্ষেত্রে, হঠাৎ রেটিনা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই যে কোনও ধরনের ভারী শরীরচর্চার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মেনে শ্বাস নেওয়া ভীষণ জরুরি। সতর্ক না হলে কিন্তু দৃষ্টিশক্তি চলে যেতে পারে।