টেস্টোস্টেরহন হরমোনের ইঞ্জেকশন নিলেই কি যৌবনের শক্তি ফিরবে? নির্মূল হবে সুগার? হরমোন থেরাপি নিয়ে উৎসাহ যত বাড়ছে, ততই এ সব প্রশ্নও মাথাচাড়া দিচ্ছে। একটি বয়সের পরে পুরুষের শরীরে হরমোনের খেলাই বদলে যায়। শরীরের শক্তি কমে। সেই সমস্যারই সমাধান করতে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করাচ্ছেন অনেকেই। নানা অসুখবিসুখে ভুগে বয়সকালে হোক বা কম বয়সে, যে পুরুষের শরীরে হরমোনের গোলমাল দেখা দিয়েছে, মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, নানা রোগ দেখা দিয়েছে, তাঁরাই এই থেরাপির দ্বারস্থ হচ্ছেন। ধারণা এমন, যে এই থেরপি করালে ডায়াবিটিসও নির্মূল হতে পারে, কমতে পারে ওজন, বৃদ্ধি পায় পেশির শক্তি। কিন্তু আদৌ কি এই ধারণা যুক্তিযুক্ত?
মেয়েদের যেমন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন যৌনইচ্ছা, সন্তানধারণ থেকে শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলায়, ছেলেদের তেমনই জিয়নকাঠি হল টেস্টোস্টেরন হরমোন। শুক্রাণু তৈরি, পুরুষালি শরীরের গঠন সবের পিছনেই কলকাঠি নাড়ে এই হরমোনটিই। পুরুষের শরীরে সেই হল হোমরাচোমরা হরমোন। নেতা গোছের এই হরমোনটি কমে গেলে, পুরুষের শক্তিই টালমাটাল হতে থাকে। শরীরের শক্তি যেমন কমে যায়, তেমনই প্রজননের পথটিও জটিল হয়ে ওঠে। বয়স হলে টেস্টোস্টেরন হরমোন স্বাভাবিক নিয়মেই কমে যায়। তাই বাইরে থেকে কৃত্রিম ভাবে হরমোনটি শরীরে প্রবেশ করিয়ে যৌবনের মতো শক্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন অনেকে। ডায়াবিটিস বা স্থূলত্বের মতো জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগগুলিও এই হরমোন দিয়েই সারবে বলেও ধারণা তৈরি হয়েছে। এ ধারণা যে সঠিক নয়, তা বোঝাতেই গবেষকেরা একটি পরীক্ষা করেছেন।
আরও পড়ুন:
শিকাগোতে এন্ডোক্রিন সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষকেরা বিষয়টি নিয়ে একটি সমীক্ষার রিপোর্ট পেশ করেন। তাঁরা জানান, টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষের শরীরের একাধিক ক্রিয়ালাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই, তবে তা ডায়াবিটিস নির্মূল করতে পারে না। এই হরমোনের ইঞ্জেকশন নিলে সাময়িক ভাবে শরীরে বল বৃদ্ধি হয়, মন ফুরফুরে থাকে। কিন্তু তা ক্রনিক রোগগুলিকে সারাতে অপারগ। এমনকি এই হরমোন নিলেই যে বয়স্কদের পেশির জোর হঠাৎ করে বেড়ে যাবে, যৌন ইচ্ছা জাগবে বা প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যাবে, তা একেবারেই নয়। বরং ইঞ্জেকশন নিয়ে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় না ভুগে জীবনযাত্রায় বদল আনাই জরুরি। জীবনযাত্রায় বদল এনে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের মতো অসুখও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
৫০ থেকে ৭৪ বছর বয়সি ১০০৭ জনকে নিয়ে সমীক্ষাটি শুরু হয় বছর কয়েক আগে। এমন লোকজনকে বেছে নেওয়া হয়, যাঁরা ডায়াবিটিসের প্রায় দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ, প্রিডায়াবিটিস ধরা পড়েছে। তাঁদের অনেকেরই আবার ওজন খুব বেশি বা বড়সড় ভুঁড়ি আছে। বছর দুয়েক প্রত্যেককে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় এবং দেখা যায়, লাভ তেমন ভাবে হয়নি। এর পর ১২১ জনকে বেছে নিয়ে তাঁদের নিয়ম করে ডায়েট ও ব্যায়াম করানো হয়। তাতে দেখা যায়, সুগার শুধু কমেনি, ওজনও কমেছে। বিপাকক্রিয়ার হার বেড়েছে, নানা অসুখবিসুখও দূর হয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, হরমোন থেরাপি যদি করাতে হয় তা হলে সঙ্গে ডায়েট ও শারীরচর্চাও জরুরি। কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে খাওয়াদাওয়া থেকেই। সেটি নিয়ন্ত্রণে না এনে কেবল হরমোন ইঞ্জেকশন নিতে থাকলে লাভের লাভ কিছুই হবে না।