চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়তে থাকলে দুঃখ তো হয়ই, তার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিতে শুরু করে কারও কারও মধ্যে। কেউ কেউ হতাশাগ্রস্ত হড়ে পড়েন, এমনকি অনেকের রাতের ঘুমও উড়ে যায়। সেই টাক যেন লোকের চোখে না পড়ে তাই কখনও পরচুলা, আবার কখনও টুপি দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা চলতেই থাকে। টাকে চুল গজানোর কী কী টোটকা আছে, তা নিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি চলেই। ‘হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট’ বা চুল প্রতিস্থাপনের নানা থেরাপিও ইদানীংকালে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক তারকাও সেই দিকে ঝুঁকছেন। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তা হলে উপায়? টাকে চুল গজাতে পারে, এমন ওষুধ নিয়ে নানা রকম গবেষণা সমান্তরালে হয়ে চলেছে।
চুল পড়া রোধের চিকিৎসা প্রায়শই বিপণনের প্রতিশ্রুতিতে মোড়া থাকে, কিন্তু ফিনাস্টেরাইড এমন অল্প কয়েকটি ওষুধের মধ্যে একটি যা চিকিৎসকেরাও প্রেসক্রাইব করেন। এটি একটি প্রেসক্রিপশন ড্রাগ, যা ১৯৯৭ সালে মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পুরুষদের টাক পড়া ও বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া (বিপিএইচ)— এই দুই রোগের চিকিৎসায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয় এই ওষুধটি।
ফিনাস্টেরাইডের দু'টি প্রধান কাজ রয়েছে। উচ্চ মাত্রায় (৫ মিলিগ্রাম) এটি বিপিএইচ-এর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। বিপিএইচ এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যায় এবং প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা সৃষ্টি করে। কম মাত্রায় (১ মিলিগ্রাম) এটি অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া বা টাক পড়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
চুল পড়ার ক্ষেত্রে, এই ওষুধটি চুল পাতলা হয়ে যাওয়াকে ধীর করে এবং কিছু ক্ষেত্রে নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। তবে, এর প্রভাব শুধুমাত্র ওষুধটি সেবন করা পর্যন্তই স্থায়ী হয়। এটি বন্ধ করে দিলে, আবার চুল পড়া শুরু হয়ে যায়।
ফিনাস্টেরাইডের কাজকে বুঝতে হলে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) হরমোন সম্পর্কেও জানা দরকার। ডিএইচটি হল টেস্টোস্টেরনের একটি বাইপ্রডাক্ট এবং এটি চুল পড়ার সমস্যায় জর্জরিত পুরুষদের চুলের গোড়া সঙ্কুচিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৫-আলফা-রিডাক্টেজ নামক একটি এনজাইমকে ব্লক করে ফিনাস্টেরাইড, যা টেস্টোস্টেরনকে ডিএইচটি-তে রূপান্তরিত করে। এনজাইম কম থাকলে ডিএইচটি কম উৎপন্ন হবে। ডিএইচটি কম থাকলে চুলের গোড়াও কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই এই ওষুধে তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবে ২-৪ শতাংশ রোগীর যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস এবং লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা হতেও দেখা যায়। সবার ক্ষেত্রেই ফিনাস্টেরাইড এক রকম কাজ করবে, এমন নয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসকেরা রোগীর উপর এই ওষুধ ব্যবহার করে ইতিবাচক ফলাফলই পেয়েছেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা কখনওই কাম্য নয়।