পুষ্টিগুণে টেক্কা দিতে পারে শীতের অন্যান্য সব্জিকে। ফাইবার, খনিজ, ভিটামিনের কমতি নেই এতে। তবু যে ধরনের সব্জি খুব বেশি খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, তারই মধ্যে রয়েছে বিট।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকেরা বলেন, শাকপাতা বা পাতা জাতীয় সব্জি যেমন বাঁধাকপি, বিট, রাঙাআলু, ঢেঁড়শ এবং বাদামে অক্সালেট রয়েছে বেশি। যাঁদের একবার কিডনিতে পাথর হয়েছে বা কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে উচ্চ অক্সালেট যুক্ত খাবার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তা বলে কি শাকসব্জি বাদ পড়বে?
চিকিৎসকদের কথায়, তা হলে তো পুষ্টিতে ফাঁক থেকে যাবে। তাই শাকসব্জি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বোধ জরুরি। বিশেষত, উচ্চ অক্সালেট যুক্ত খাবার ক্যালশিয়ামের সঙ্গে জোট বেঁধে ক্যালশিয়াম অক্সালেট তৈরি করে যা পাথর হওয়ার সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়।
বিটে অক্সালেট রয়েছে আবার রয়েছে ভিটামিন, ফোলেট, পটাশিয়াম, আয়রনের মতো খনিজ। এতে রয়েছে বেটালেনিন যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলির পুনরুজ্জীবনে সাহায্য করে। এতে মিলে ভিটামিন সি এবং কিছুটা প্রোটিনও। এত যার পুষ্টিগুণ, সেই সব্জি বাদ দেওয়া অর্থহীন। তা হলে তা খাবেন কী ভাবে? কাঁচা, সেদ্ধ না রান্না করে। কী ভাবে খেলে বিটের পু্ষ্টিগুণ বেশি মিলবে অথচ এড়ানো যাবে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি।
কাঁচা বিটের উপকারিতা
কাঁচা বিটে রয়েছে তরল নাইট্রেট যা নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রেও কাঁচা বিট উপকারী। অতীতে গবেষণায় উঠে এসেছে স্যালাড হিসাবে খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। তবে অনেক উপকার সত্ত্বেও অক্সালেটের পরিমাণ বেশি থাকায় তা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
সেদ্ধ বিট কেন খাবেন
কাঁচা সব্জিতে ফাইবার বেশি থাকে। অনেকেই কাঁচা সব্জি সহ্য করতে পারেন না, হজমের সমস্যা হয়। সব্জি সেদ্ধ করলে ফাইবার নরম হয়, হজমেও সহায়ক হয়। গ্যাস, পেটফাঁপার সমস্যা কমে। সব্জি সেদ্ধ বা রান্না করলে এতে অক্সালেটের মাত্রা কমে। তাই সেদ্ধ বিট খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝঁকিও কমবে। রান্না করা সেদ্ধ বিট পুষ্টি শোষণেও তুলনামূলক বেশি সহায়ক। এই সব্জিতে নাইট্রেট রয়ে যায়, যা হার্টের জন্য ভাল, কিন্তু কাঁচা খেলে নাইট্রেটের মাত্রা এতটা মেলে না।
কী ভাবে খাবেন?
· কাঁচা বিট খেতে হলে স্মুদিতে মিশিয়ে, স্যালাড হিসাবে খাওয়া যায়।
· তবে বিট গাজর, আলু, কড়াইশুটি, ধনেপাতার সঙ্গে সিদ্ধ করে খাওয়া যায়।
· বিট হালকা ভাপিয়ে নিয়েও স্যালাড হিসাবে খাওয়া যায়।
· বিট সেদ্ধ করে চটকে বেসনের সঙ্গে মেখে টিকিয়া বানাতে পারেন।
কাঁচা বিটে কিছু পুষ্টিগুণ অবশ্যই বেশি থাকে। তবে সেদ্ধ করলে যেহেতু তা হজমে সহায়ক হয়, অক্সালেটের মাত্রা কমে তাই এই ভাবেও খেতে পারেন।