Advertisement
E-Paper

আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর! কিন্তু কিছু খাদ্যাভ্যাস আদতে সরাসরিই ক্ষতি করছে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের

আপাতত আপনার থালা থেকে শর্করা জাতীয় সব রকম খাবার বিদায় নিয়েছে। চায়ে চিনির বদলে চিনির বিকল্প ব্যবহার করছেন। দোকান থেকে খাবার কেনার সময় দেখে শুনে লেবেল পড়ে, তবেই এগোচ্ছেন। কিন্তু তাতে লাভের বদলে ক্ষতি হচ্ছে না তো?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫১

ছবি : সংগৃহীত।

ওজন কমানোর জন্য খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসে নিজে থেকেই কিছু বদল এনেছেন। কারণ, সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ শুনে বুঝতে শিখেছেন, মেদ বৃদ্ধি কী ভাবে ঠেকানো যেতে পারে। ফলে আপাতত আপনার থালা থেকে শর্করা জাতীয় সব রকম খাবার বিদায় নিয়েছে। চায়ে চিনির বদলে চিনির বিকল্প ব্যবহার করছেন। দোকান থেকে খাবার কেনার সময় দেখে শুনে লেবেল পড়ে তবেই এগোচ্ছেন। কিন্তু তাতে লাভের বদলে ক্ষতি হচ্ছে না তো? মুম্বইয়ের এক পুষ্টিবিদ লিমা মহাজন বলছেন, অনেক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে ভাল মনে হলেও, অজান্তেই তা অন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। এমস প্রশিক্ষিত লন্ডন নিবাসী চিকিৎসক সৌরভ শেট্টির বক্তব্যও কিছুটা তা-ই। তিনি বলছেন, স্বাস্থ্য ভাল রাখার চাবিকাঠি লুকিয়ে অন্ত্রে আর অন্ত্র ভাল রাখার চাবি হল উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম। কিছু আপাত স্বাস্থ্যকর নতুন খাদ্যাভ্যাস ওই সমস্ত উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষতি করে। ফলে অন্ত্র তো বটেই, শরীরের সার্বিক ভাল থাকাই নষ্ট হয়।

১. 'সুগার-ফ্রি' বা ডায়েট পানীয়

অনেকে ওজন কমাতে বা চিনি এড়াতে কৃত্রিম মিষ্টি দেওয়া খাবার খান। তাঁরা আসপার্টাম বা স্যাকারিন দেন খাবারে। চিকিৎসক সৌরভ বলছেন, ‘‘বহু গবেষণায় দেখা গেছে, ওই কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করা খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। শুধু তা-ই নয় এতে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও কমতে পারে। ফলে যে জন্য শর্করায় রাশ টানছেন, সেটাই হবে না। রক্তে শর্করার মাত্রা আদতে এতে বেড়েই যেতে পারে।’’

২. অতিরিক্ত 'স্মুদি' বা ফলের রস খাওয়া

ফল চিবিয়ে খাওয়ার বদলে অনেকেই ফলের রস খান। অনেকে মিষ্টি পানীয় হিসাবেও ফলের রস খান এবং মনে করেন তাতে শরীরের উপকার হচ্ছে। কিন্তু আদতে তা হচ্ছে না। ফল যখন ব্লেন্ড করা হয়, তখন এর ফাইবার ভেঙে যায়। ফাইবার ছাড়া ফলের রস চিনির মতো সরাসরি রক্তে মিশে যায়। ফলে, অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়া প্রয়োজনীয় খাবার থেকে বঞ্চিত হয়।

৩. কার্বোহাইড্রেট বর্জন

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই কার্বোহাইড্রেট খাওয়া পুরোপুরি ছেড়ে দেন। কিন্তু অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ যা এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, তা খাওয়া জরুরি। তাই রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ যদি শরীরে না যায়, তবে অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা কমবে, বাড়বে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও।

৪. তথাকথিত প্রক্রিয়াজাত ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার

ওজন কমানো প্রক্রিয়ায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা অনেকেই প্যাকেটজাত ‘লো-ফ্যাট’ দই, ভিটামিন এবং প্রোটিনের গুণসম্পন্ন গ্রানোলা বার ইত্যাদি খান। ওইসব প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যকর বলে প্রচারও করা হয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এগুলি স্বাস্থ্যকর নয়। খাবারগুলির স্বাদ বজায় রাখতে প্রচুর পরিমাণে ইমালসিফায়ার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা অন্ত্রের ভেতরের দেয়ালের জরুরি এবং রক্ষাকারী আস্তরনকে পাতলা করে দেয়। ফলে প্রদাহ বাড়তে পারে। যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

৫. শুধুই কাঁচা সব্জি বা স্যালাড খাওয়া

স্যালাড ভাল নয়, এমন না। ভালো। কিন্তু কাঁচা সব্জি ভেঙে হজম হওয়ার জন্য যে হজমশক্তির দরকার তা অনেকেরই থাকে না। আসলে কাঁচা সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে লেকটিন এবং ফাইবার থাকে, যা সবার সহ্য হয় না। ফলে পেট ফাঁপা, পেটের অস্বস্তি হতে পারে। তাই অধিকাংশ সময় সব্জি হালকা সেদ্ধ করে বা অন্তত ভাপিয়ে নিয়ে খেলে তা অন্ত্রের জন্য আরামদায়ক হবে।

Gut Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy