২০১৯ থেকে লড়াই করছিলেন ক্যানসারের সঙ্গে। কিন্তু সম্প্রতি জীবনযুদ্ধে হেরে গেলেন অভিনেত্রী প্রবীণা দেশপাণ্ডে। হিন্দি এবং মরাঠি ইন্ডাস্ট্রির সুপরিচিত অভিনেত্রী রক্তের ক্যানসারে ভুগছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল এই মারণরোগ। ত্বকে অল্পবিস্তর র্যাশ দেখা গিয়েছিল কেবল উপসর্গ হিসেবে। ফলে শনাক্তকরণে দেরি হয়ে যায়।
মালটিপ্ল মাইলোমার লক্ষণ। ছবি: সংগৃহীত
প্রবীণা মালটিপ্ল মাইলোমায় ভুগছিলেন। এই রোগ থেকে সেরে ওঠা রোগীর সংখ্যা নেহাতই কম। তবে ছড়িয়ে পড়ার গতি শ্লথ করে দিতে পারে। মালটিপ্ল মাইলোমা হল প্লাজ়মা কোষের এক ক্যানসার। সারা শরীরে হাড়ে টিউমার তৈরি হয়, যার ফলে হাড়ে ব্যথা, ফ্র্যাকচার, কিডনির ক্ষতি, ক্লান্তি এবং সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আমাদের শরীরে কোনও সংক্রমণ ঘটলে, ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা অ্যান্টিবডির সাহায্যে সেই সংক্রমণের সঙ্গে যুঝতে পারে শরীর। এই ইমিউনোগ্লোবিউলিন আমাদের শরীরে তৈরি হয় একটি কোষের সাহায্যে, যাকে বলে প্লাজ়মা কোষ। যখন অস্বাভাবিক জেনারেল মিউটেশনের কারণে প্লাজ়মা কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং নির্দিষ্ট ইমিউনোগ্লোবিউলিন উৎপাদন করতে শুরু করে, তখন শরীরে রক্তের এক প্রকার ক্যানসার তৈরি হয়। একেই বলে মালটিপ্ল মাইলোমা।’’ চিকিৎসক জানাচ্ছেন, এই রোগের উপসর্গ সকলের জেনে রাখা উচিত।
মালটিপ্ল মাইলোমার লক্ষণ কী কী?
১. যেহেতু অস্থিমজ্জার প্লাজ়মা কোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে অস্বাভাবিক ভাবে, অস্থিমজ্জার অন্যান্য কোষগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সময়ে। ধরা যাক, রোগীর হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। ফলে রক্তাল্পতার সমস্যা তৈরি হতে পারে।
২. তা ছাড়া প্লাজ়মা কোষ বৃদ্ধি পেলে হাড়ের মধ্যে লিটিক লিসিওন তৈরি হতে পারে। এর অর্থ হল, হাড় ধীরে ধীরে ক্ষয় পেতে শুরু করেছে। এর ফলেই রোগীদের শরীরে নানাবিধ ব্যথা হতে পারে। পিঠে ব্যথা বা বিভিন্ন অংশের হাড়ে ব্যথা হতে পারে।
৩. প্লাজ়মা কোষের অস্বাভাবিক বাড়বৃদ্ধির কারণে রক্তপ্রবাহে ক্যালশিয়াম প্রবেশ করে যেতে পারে। হাড় ক্ষয় পেতে পেতে সেখান থেকে ক্যালশিয়াম রক্তে পৌঁছে যায়। এর ফলে রক্তে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার ফলে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে, বমি হতে পারে ঘন ঘন।
আরও পড়ুন:
৪. অস্বাভাবিক ইমিউনোগ্লোবিউলিন উৎপাদিত হয় বলে সেটি কিডনিতে চাপ দিতে পারে। এর ফলে কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। যদি রোগী হঠাৎ কিডনির রোগে ভুগতে শুরু করেন, তবে সেটি মালটিপ্ল মাইলোমার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
৫. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ঘন ঘন সংক্রমণ দেখা দেওয়া, ত্বকে র্যাশ হওয়াও এই মারণরোগেরই ইঙ্গিত।