Advertisement
E-Paper

সূর্যাস্ত দেখতে ভাল লাগে? ধীরে ধীরে দিগন্ত পেরিয়ে যাওয়া গোধূলির আলো শরীরে কী প্রভাব ফেলে

আপনি কখনও সন্ধ্যা নামার আগে সূর্যের ধীরে ধীরে চোখের বাইরে চলে যাওয়া দেখেছেন? জানেন, সূর্যাস্ত দেখার সঙ্গে শরীর ও মনেরও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৮:৫৪
সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য।

সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।

মনে পড়ে ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’র সেই দৃশ্য? ‘বানি’ ওরফে রণবীর কপূর আর ‘নয়না’ ওরফে দীপিকা পাড়ুকোন সারা দিন উদয়পুরে টোটো করে ঘুরে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যায়। তার পরই সেই গাড়ির দৃশ্য। যেখানে একে অপরের কাছাকাছি আসার মুহূর্ত তৈরি হয়। তার আগে পর্যন্ত কেবল খুনসুটিই চলছিল তাদের। কী ঘটেছিল এর মাঝে? সূর্যাস্ত।

দিনের শেষে আকাশ ধীরে ধীরে কমলা, গোলাপি, বেগনি আর সোনালি রঙে রাঙিয়ে উঠেছিল। শত ব্যস্ততার মধ্যেও ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে দেখেছিল তারা। নীরবে। মনে হয়েছিল আকাশ জুড়ে বোধহয় জলরঙের প্রতিযোগিতা চলছে। সূর্য ওঠা ও ডোবার সঙ্গে রোম্যান্টিকতার যোগ রয়েছে ওতপ্রোত ভাবে। সব চিন্তা ভুলে দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা গিয়েছে কত ছবির নায়ক-নায়িকাকে!

‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’র দৃশ্যে নয়না-বানি।

‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’র দৃশ্যে নয়না-বানি। ছবি: সংগৃহীত

আপনি কখনও সন্ধ্যা নামার আগে সূর্যের ধীরে ধীরে চোখের বাইরে চলে যাওয়া দেখেছেন? জানেন, সূর্যাস্ত দেখার সঙ্গে শরীর ও মনেরও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে? সমুদ্রের ধারে, পাহাড়ের চূড়ায়, নদীর পাড়ে কিংবা নিজের বাড়ি ও অফিসের ছাদে দাঁড়িয়ে গোধূলি উপভোগ করারও যে উপকারিতা রয়েছে, তা কি জানতেন? কেবল নান্দনিকতা নয়, রয়েছে আরও গভীর যোগসূত্র।

দিনভর ব্যস্ততা, কাজের চাপ, যানজট, ফোনের পর্দা এবং অসংখ্য তথ্যের ভিড়ে মস্তিষ্ক প্রায় সারা ক্ষণই সক্রিয় থাকে। আর তার মাঝে সূর্যাস্তের মতো ধীর, শান্ত, রঙিন একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য সেই অবিরাম মানসিক ব্যস্ততায় সাময়িক বিরতি এনে দিতে পারে। যেখানে মন অতীত বা ভবিষ্যতের চিন্তা ছেড়ে কেবল সেই মুহূর্তটিকে অনুভব করতে শেখে।

প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, এমন ইঙ্গিত বহু গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে। জানাচ্ছেন মনোবিদ আত্রেয়ী ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘‘সূর্যোদয়ের সঙ্গে দিনের শুরু, সূর্যাস্তের সঙ্গে দিনের শেষকে মিলিয়ে দেওয়ার প্রথা বহু প্রাচীন। চিরন্তন সত্য এই প্রাকৃতিক নিয়ম। যখন আমরা দিনের শুরু ও শেষের সঙ্গে নিজের জীবনকে মিলিয়ে দিই, তখন আসলে জগৎসংসারের সঙ্গে নিজেকে মেলানোর চেষ্টা থাকে। এর ফলে রোজের কাজকর্ম, যাপন এবং নিজেকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। ব্যক্তির সঙ্গে প্রকৃতির সমন্বয় শুরু হয়। এর বেশ কয়েকটি উপকারিতা রয়েছে।’’

সূর্যাস্ত দেখার কী কী উপকারিতা রয়েছে?

১. প্রকৃতির মাঝে থাকলে অনেকেরই মন শান্ত থাকে। নিজের অস্তিত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হন। আর নিজের অস্তিত্বের উদ্‌যাপনের একটা পন্থাই হল সূর্যাস্ত দেখা।

২. সবুজ পরিবেশ, নদী, পাহাড় কিংবা আকাশের বদলে বদলে যাওয়া রং স্নায়ুতন্ত্রকে তুলনামূলক শান্ত করতে পারে। সূর্যাস্ত দেখা সেই অভিজ্ঞতারই একটি অংশ। অনেকের ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগের অনুভূতি কমাতে এবং প্রশান্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. সূর্যাস্ত দেখার সঙ্গে রোজের জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও রয়েছে। দিনশেষের আলো শরীরকে জানিয়ে দেয় যে, বিশ্রামের সময় ঘনিয়ে আসছে। শরীরে একটি প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি কাজ করে, যা আলো ও অন্ধকারের পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে। সন্ধ্যায় আলো কমতে শুরু করলে শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ফলে নিয়মিত সূর্যাস্তের সময়ে কিছু ক্ষণ বাইরে থাকলে ঘুমের ছন্দ বজায় থাকে।

৪. সূর্যাস্ত মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের অনুভূতিও জাগিয়ে তুলতে পারে। মনোবিজ্ঞানে এই অনুভূতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যখন কোনও বৃহৎ, সুন্দর বা অভিভূত করা দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন নিজের সমস্যা ও উদ্বেগকে তুলনামূলক ছোট বলে মনে হতে পারে। এই অনুভূতি মানসিক ভাবে আরাম দিতে পারে।

Sunset Mental Health

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy