Advertisement
E-Paper

জরুরি মিটিং চলার মাঝে ঘুমিয়ে পড়েন? বসে বসেই শুরু হয় নাসিকা গর্জন, সমস্যা ক্লান্তির নয়, রোগটি কী?

নারকোলেপ্সিতে আক্রান্ত নন তো? দিনভর ডেস্কে বসে কাজ করেন যাঁরা অথবা বেশি দুশ্চিন্তা করেন, তাঁরা এই রোগের শিকার হতে পারেন। ক্লান্তি, ঝিমুনি বাড়লে বা দিনের বেলাও বেশি ঘুম পেলে সচেতন হতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১২:৫৮
What is Narcolepsy, what are symptoms of this disease

নারকোলেপ্সি অনেকেরই হচ্ছে, কী এই রোগ? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দিনের বেলা সব সময়েই ঘুম ঘুম পায়? ঝিমুনি আসে? খুবই ক্লান্ত লাগে? রাতেও একটানা ঘুম হয় না? চিকিৎসকেরা এমন সব লক্ষণ দেখলে বলবেন, নিদ্রাজনিত অসুখ বা ‘স্লিপিং ডিজ়অর্ডার’ হয়েছে। কিন্তু সব সময়েই কি তা-ই হয়? এমন অনেককেই দেখা যায়, যাঁরা কথা বলতে বলতেই ঘুমিয়ে পড়েন। হয়তো জরুরি মিটিং চলছে, তার মাঝেই ঘুমিয়ে পড়লেন। বসে বসেই শুরু হল নাসিকা গর্জন। আবার রাতে পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে এসেও কাজে বসার পরই জুড়িয়ে এল দু’চোখ। কেউ জরুরি কাজের মাঝে বসে বসেই ঘুমিয়ে পড়লে তাঁকে নিয়ে কৌতুক করা হয় ঠিকই, তবে বিষয়টি মোটেই মজার নয়। এর নেপথ্যে থাকতে পারে এক জটিল সমস্যা। সেটি শুধু ক্লান্তি নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় নারকোলেপ্সি।

কী এই নারকোলেপ্সি?

নারকোলেপ্সি এক স্নায়বিক ব্যাধি। একে বলে ‘নিউরোলজিক্যাল স্লিপ ডিজ়অর্ডার’। এই রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক নিদ্রা ও জাগরণের পর্যায়টি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। । ঘুম মানে সাময়িক ভাবে শরীর অচেতন থাকে, তবে মস্তিষ্কের কিছু এলাকা সক্রিয় থাকে। ঘুমোনোর সময়ে মস্তিষ্কের যে দু’টি অংশ সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে তা হল –‘হাইপোথ্যালামাস’ ও ‘ব্রেন স্টেম’। এই দুই অংশের স্নায়ুকোষই ঠিক করে, ঘুম কত ক্ষণ হবে আর জেগে কত ক্ষণ কাটাতে হবে। দুই এলাকার স্নায়ুকোষই পর্যায়ক্রমে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় হয়ে নিদ্রা ও জাগরণের বিষয়টির দেখাশোনা করে। এই পর্যায়টি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে তখন নারকোলেপ্সির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও একটি গোলযোগ হতে পারে। এ বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্র আছে। সেখানে গবেষকেরা লিখেছেন, হাইপোথ্যালামাস থেকে একধরনের নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরিত হয়, যার নাম ‘হাইপোক্রিটিন’। এর কাজ হল ঘুম ও জেগে থাকার বৃত্তটিকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করা। এবং সে সঙ্কেত মস্তিষ্কে পৌঁছে দেওয়া। নারকোলেপ্সি হলে এই ‘হিপোক্রিটিন’ নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে ঘুম ও জেগে থাকার সঙ্কেতটি মস্তিষ্কে সঠিক ভাবে পৌঁছতে পারে না। তাই দেখা যায়, রাতের বেলাও ঘুম আসতে চায় না, সে শরীর যতই পরিশ্রান্ত হোক না কেন। আবার দিনের বেলা কাজের সময়ে আচমকাই গভীর ঘুম চলে আসে। এমনকি না চাইতেও তন্দ্রাচ্ছন্ন করে ফেলে। জেগে থাকার উপরে আর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

নারকোলেপ্সিতে আক্রান্ত হলে স্লিপ প্যারালিসিসের সমস্যাও হতে পারে। মনে হয় গোটা শরীর অবশ হয়ে গিয়েছে। হাত-পা নাড়ানোর ক্ষমতাও থাকে না। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট অবধি স্থায়ী হতে পারে এই স্থিতি। অনেকের আবার এই সময়ে দৃষ্টিবিভ্রমও হয়। মনে হয় চারদিকে আবছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। নারকোলেপ্সির কারণে এমন সমস্যাও হতে পারে।

প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগলে নারকোলেপ্সি হতে পারে। তাই এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে মন ভাল রাখা খুব জরুরি। সে জন্য রাতে শোয়ার আগে নিয়ম করে ধ্যান বা মেডিটেশন করতে হবে। অন্তত ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে উদ্বেগ অনেকটা কমবে, মন শান্ত হবে। ঘুমোনোর আগে অতিরিক্ত নেশা করলেও এমন হতে পারে। রাতে ঘন ঘন চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও ঘুমের সমস্যা হয়। তাই ঘুমোনোর আগে অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত ক্যাফিন আছে, এমন খাবার বা পানীয় না খাওয়াই ভাল। ঘুমোনোর অন্তত ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকে সমস্ত বৈদ্যুতিন গ্যাজেট দূরে রাখতে হবে। রাতে নির্দিষ্ট সময়েই ঘুমোনোর চেষ্টা করতে হবে।

Sleep Disorder Sleep Deprivation Sleep Paralysis anxiety
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy