জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস পেরিয়ে গেলেই শিশুর শরীর শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে। দাঁত বেরোনোর সময় এগিয়ে আসায় এই সময় থেকেই তাকে চিবিয়ে খেতে শেখানো শুরু করা দরকার। এই সময়টা মায়ের বুকের দুধ কিংবা ফরমুলা দুধ একটি শিশুর প্রধান খাদ্য হলেও তার পাশাপাশি দিনে তিন থেকে চার বার সেমি সলিড খাবার তাকে দেওয়া দরকার। শিশুরা শক্ত খাবার খেতে শুরু করলেই মায়েদের চিন্তা বাড়ে, কী খাবার দেওয়া যায় আর কী দেওয়া যায় না, তা নিয়ে।
প্রথমেই মাথায় রাাখা দরকার, একটি নতুন খাবার শুরু করার কমপক্ষে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পরে আর একটি নতুন খাবার দিতে হবে শিশুকে। ছ’মাস বয়সের পর থেকে একটু একটু করে সব ধরনের খাবারে, বিশেষ করে বাড়িতে যা রান্না হয়, তার সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচয় করানো যেতে পারে শিশুর সঙ্গে। প্রথম দিকে শিশুর বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়। এই সময়ে নতুন সব অভ্যাসের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতেও শেখে শিশু। তাই তার সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার সময়ও এটাই। ডাল, চাল, রাগি, আটা, মাখানা, ড্রাই ফ্রুট্স খাওয়ানো শুরু করলেও কবে থেকে মশলা খাওয়ানো যায়, সেই প্রশ্ন অনেক মায়ের মনেই থাকে।
সাধারণত চিকিৎসকদের মতে, ৯ মাস বয়সের পর থেকে শিশুদের খাবারে ধীরে ধীরে মশলা যোগ করা যেতে পারে। শিশু চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, ‘‘৯ মাসের পর থেকে শিশুর খাবারে হলুদ, জিরে, ধনে, আদা, রসুন, তেজপাতা, দারচিনি, এলাচের মতো মশলা যোগ করা যায়। তবে মশলার পরিমাণের বিষয় সতর্ক থাকতে হবে। এক এক দিনে এক একটি মশলা অল্প করে দিয়ে দেখুন। মশলা খাওয়ানোর পর দেখতে হবে, শিশুর শরীরে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না। শিশুর খাবারে মশলা দিলে তাদের হজমশক্তি বাড়ে এবং তার পাশাপাশি খাবারের প্রতি আগ্রহও বাড়ে।’’
কোন মশলা দেওয়া চলবে না?
চিকিৎসকের মতে, লঙ্কা, গোলমরিচ, হিংয়ের মতো ঝাঁঝালো মশলা শিশুদের ২ বছরের পর দেওয়াই ভাল।