পূর্ব বর্ধমান জেলার পলাশনের বাঁশা গ্রামের যুবক সৌমেন চট্টোপাধ্যায় এ বার এক বড় সুযোগ পেলেন। আসন্ন আইপিএলে (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) রাজস্থান রয়্যালস দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন সৌমেন।
কলকাতার সুপার ডিভিশনের ক্লাব ডালহৌসির নিয়মিত বোলার সৌমেন। তিনি জানান, দেশ জুড়ে নেট বোলার নির্বাচন করে রাজস্থান রয়্যালসের স্পনসর সংস্থা। ভূবনেশ্বরে একটি ক্যাম্প হয়েছিল। সেখানেই তিনি সুযোগ পেয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সৌমেন বলেন, “আমার বলের গতি তিন চার কিলোমিটার কম ছিল। এ বারও তিন জনকে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আমি একজন। নেট বোলার হয়ে সুযোগ পেয়ে অনেকেই আইপিএল খেলছে। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে। তাই আমিও যাতে সেই সুযোগ পাই, সেই লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাব।” তাঁর সংযোজন, “এই জায়গায় পৌঁছোতে পরিবারের সহযোগিতা ও কোচদের দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে আরও ভাল খেলে গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”
সৌমেনের পরিবারও তাঁর সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় পেশায় ট্রাক্টর চালক ও গ্রামীণ পূজারী। সৌমেনের বাবা তাঁকে বরাবর ভরসা দিয়ে এসেছেন এবং বলেছেন, “তুই খেলে যা। সংসারের কথা ভাবতে হবে না।”
মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় গৃহবধূ। সীমিত আয়ের মধ্যেও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অর্থ সঞ্চয় করে ছেলের স্বপ্ন পূরণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর মা।
আরও পড়ুন:
সৌমেনের এই কৃতিত্বে খুশির হাওয়া বইছে বাঁশা গ্রামজুড়ে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও গ্রামের মানুষজন গর্বিত তাঁর এই সাফল্যে। অনেকেই মনে করছেন, সৌমেনের এই সাফল্য আগামী দিনে এলাকার আরও তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলোর প্রতি উৎসাহিত করবে।
দীর্ঘ দিনের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন ও অদম্য মনোবলের ফলেই এই সাফল্য অর্জন করেছেন সৌমেন। গ্রামবাংলার ছোট পরিবেশ থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরের এই বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও সীমাবদ্ধতাই বাধা হতে পারে না।
পলাশনের মাটি থেকে উঠে এসে আইপিএলের মতো বড় প্রতিযোগিতায় সুযোগ, সৌমেনের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে শুধু তাঁর পরিবারের নয়, গোটা এলাকার জন্যই এক গর্বের অধ্যায়।